📄 সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা
সত্য দ্বীনের বিরোধী যারা তাদের বৈশিষ্ট্যই হলো আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করা এবং সত্য দ্বীনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। যেমন ইয়াহুদী-খৃষ্টানেরা দাবী করে থাকে যে, তারা যার উপরে আছে সেটাই মাত্র সঠিক এবং আল্লাহ তাদেরকে চিরদিন তাই-ই আঁকড়ে ধরে রাখতে বলেছেন; দ্বীন ইসলাম সত্য নয় এবং আল্লাহ তাদেরকে তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ সব কিছুই তাদের পূর্বসূরীদের অন্ধ অনুসরণ মাত্র। তারা দলীল-প্রমাণের দিকে দৃষ্টি দেয় না। বর্তমান বিশ্বের বেদআতীরা তাদের বেদআতগুলিকেই হক মনে করে এবং ভাবে যে, আল্লাহ তাদেরকে এই সব পূণ্য কর্ম (?) করতে নির্দেশ দান করেছেন। পক্ষান্তরে হকপন্থীরা যে সব আমল করে ওসব বাতিল, অসত্য। 'প্রত্যেকেই লায়লী প্রেমের দাবীদার। অথচ লায়লী তাদের কারো নয়।'
টিকাঃ
২২. . وكل يدعي وصلا لليلى ، وليلى لا تقر لهم بذاکا
📄 মুমিনদের প্রতি মিথ্যারোপ
জাহেলী যুগের লোকেরা মুমিনদের বিরুদ্ধে পার্থিব প্রতিপত্তি লাভের জন্য মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করতো। যেমন ফেরাউনের কওম মূসা আলাইহিস সালামের নিকট লা-জওয়াব হওয়ার পরে দূর্বলের চিরন্তন নীতি অনুযায়ী বাপ-দাদার রীতিসমূহের প্রতি অন্ধ গোড়ামী প্রদর্শন করে বলে-তুমি কি আমাদের নিকট আমাদের বাপ-দাদার রীতি-নীতি হতে বিচ্যুত করবার জন্য এসেছ এবং এই দেশে যাতে তোমাদের দু'ভাইয়ের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায় সেজন্য? আমরা তোমাদের উপর বিশ্বাসী নই'।
'তারা বলল, তুমি কি আমাদের নিকট এ জন্য এসেছো যে, আমাদের সরিয়ে দিবে সে পথ হতে যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি। আর পৃথিবীতে তোমাদের দু' জনের আধিপত্য স্থাপিত হয়ে যায়? কিন্তু আমরা তোমাদের দু' জনকে কখনো মেনে নেবনা।” (সূরা ইউনূস : ৭৮)
এখানে পার্থিব প্রতিপত্তি বলতে বাদশাহী বুঝানো হয়েছে যেমন- মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যাজ্জাজ বলেন, বাদশাহীকে প্রতিপত্তি এজন্যে বলা হয়েছে যে, তাই হলো দুনিয়াতে সর্বাপেক্ষা বড় কাম্য বস্তু। অতএব যখনই কোনো হকপন্থী ব্যক্তি মানুষকে হকের দাওয়াত দেয়, বাতিলপন্থী জাহেলরা অমনি তাদেরকে প্রতিপত্তি লোভী রাজনৈতিক স্বার্থবিরোধী বলে দোষারোপ করে। অথচ একবারও তারা ভেবে দেখে না, এরা কি বলতে চায় এবং তা কতটুকু যুক্তিনির্ভর।
📄 মুমনিদের বিরুদ্ধে সমাজে ফাসাদ সৃষ্টির অভিযোগ
মুমিনদেরকে সমাজে ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী বলে অভিহিত করা জাহেলী যুগের একটি রীতি। যেমন- সূরা বাক্বারার ১১ ও ১২ আয়াতে পরিষ্কার বলা হয়েছে,
“যখন তাদেরকে বলা হয় পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে আমরাইতো শান্তি স্থাপনকারী। সাবধান এরাই (আসলে) অশান্তি সৃষ্টির হোতা। কিন্তু ওরা (নিজেদের দোষ) বুঝতে অপারগ।” (সূরা আল-বাকারা : ১১-১২)
এমনিভাবে একই রীতি চলছে প্রতি যুগে, ঐ সমস্ত লোকের মধ্যে যাদের অন্তরে বিভিন্ন বেদআতী রেওয়াজ প্রথা ও বিভ্রান্তিসমূহ দানা বেঁধে আছে।
📄 মুমনিদের বিরুদ্ধে ধর্ম পরিবর্তনের অভিযোগ
জাহেলী যুগের অন্যতম রীতি ছিল যে, তারা যে নীতির উপরে চলতো, সেটাকেই এক মাত্র হক মনে করতো। এর বাইরে সব কিছুকে গুমরাহী ভাবতো। কেউ তাদের ভুল ধরিয়ে হক পথের সন্ধান দিলে উল্টা তাকেই দ্বীন পরিবর্তনকারী ও ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী বলে আখ্যায়িত করতো। যেমন আল্লাহ উদ্ধৃতি করে বলেন-
'আমি আশংকা করছি যে, এই ব্যক্তি তোমাদের ধর্মকে পাল্টে দেবে এবং দেশে ফ্যাসাদ ব্যপ্ত করে দেবে।' (সূরা আল-গাফের, ৪০: আয়াত ২৬)
প্রতি যুগেই হকপন্থীদের বিরুদ্ধে বাতিল পন্থীদের এমনি আচরণ চলে আসছে।