📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 হেদায়েতপ্রাপ্ত লোকদের অভিনব উপাধিসমূহ দ্বারা অভিহিত করা

📄 হেদায়েতপ্রাপ্ত লোকদের অভিনব উপাধিসমূহ দ্বারা অভিহিত করা


জাহেলী যুগের লোকেরা তাদের মাযহাব ত্যাগকারীদেরকে 'ছাবেয়ী' বলতো। ছহীহ বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য হাদীসসমূহ হতে জানা যায় যে, তার নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে 'ছাবেয়ী' বলে ডাকতো। যাতে লোকেরা তাদের চিরাচরিত মাযহাব ছেড়ে চলে না যায়। বর্তমান যুগের মুসলিমদের মধ্যে আপনি এমন লোক বহু পাবেন, যাদেরকে বেদআতপন্থী হওয়ার কারণে লোকেরা ত্যাগ করেছে। অথচ উল্টা হক পন্থীদেরকেই তারা বিভিন্ন অপছন্দনীয় নামে অভিহিত করে থাকে।

ইমাম ইবনে কুতাইবা স্বীয় 'তাবীলু মুখতালাফিল হাদীস' নামক যুগান্তকারী গ্রন্থে বলেন যে, 'বিদআত পন্থীরা আহলে হাদীসদেরকে হাশবিয়া, নাবেতা, জাবরিয়া প্রভৃতি নামে অভিহিত করে। অথচ এ সবই মিথ্যা উপাধি মাত্র। এইসব নামের পশ্চাতে আল্লাহর রাসূলের কোনো সমর্থনই নাই। যেমন- তিনি নিম্নোক্ত নামসমূহ দ্বারা অভিহিত করে তাদেরকে বিভিন্নভাবে লা'নত করেছেন। যেমন- (১) কাদরিয়াদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন- 'তারা এই উম্মতের (মুসলিম মিল্লাতের) মজুসী বা অগ্নি উপাসক। যদি ওরা পীড়িত হয় তবে সেবা করো না, যদি মারা যায় জানাযায় শরীক হয়োনা' (২) রাফেযী সম্পর্কে-শেষ যামানায় রাফেযী বলে একটি দল হবে, যারা ইসলামকে ত্যাগ করবে এবং দূরে নিক্ষেপ করবে। তোমরা ওদেরকে হত্যা করো। কেননা ওরা মুশরিক। (৩) মুর্জিয়া সম্পর্কে- 'আমার উম্মতের মধ্যে দু'টি দল হবে যারা আমার শাফায়াত পাবে না, যারা সত্তর জন নবী কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছে। তারা হলো মুর্জিয়া ও কাদরিয়া'। (৪) খারেজীদের সম্পর্কে- 'তারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে'। যেমন তীর তার ধনুক থেকে বেরিয়ে যায়'। অন্য বর্ণনায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদেরকে 'জাহান্নামবাসীদের কুত্তা' বলেছেন।

'গুনিয়াতুত্ত্বালেবীন' নামক কিতাবে শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী রহ. বলেন যে, 'বাতেনীরা আহলে হাদীসগণকে হাশবিয়া বলে। শাহ ওয়ালীউল্লাহ রহ. স্বীয় প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'হুজ্জাতুল্লাহিল্লাহিল বালেগাহ' এর মধ্যে বলেন যে, এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীরা আহলে হাদীস জামা'আতের উপর অযথা বাড়াবাড়ি করেছে। তারা উল্টা এদেরকে মুজাসসিমা মুশাববিহা বলেছে এবং দোষারোপ করেছে এই যে, 'আহলে হাদীসরা আল্লাহর গুণাগুণের ধরণ না জানা সম্পর্কিত ছদ্ম দাবী করছে মাত্র। তাদের আসল মতবাদ আল্লাহ আকার হওয়ার পক্ষে। অথচ আমার নিকট অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সব অনুপ্রবেশকারীদের এই অযথা বাড়াবাড়ির পিছনে রিওয়ায়াত ও দেরায়াত (হাদীস ও প্রজ্ঞা) কোনদিক দিয়েই কোনো যুক্তি নেই। এরা হিদায়েতের অগ্রপথিক। আহলে হাদীসগণের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে মাত্র।'

হাফেয ইবনুল কাইয়্যেম রহ. তাঁর 'নূনিয়্যাহ্' বা 'আল-কাফিয়াতুশ শাফিয়া' নামক কিতাবের মধ্যে আলাদা অধ্যায় রচনা করে বেদআতীরা যে প্রথম কুরআন ও সুন্নাহর অনুসারী সালাফী আহলে হাদীস জামাআতকে 'হাশবিয়া' প্রভৃতি নামে অভিহিত করেছে ২০ লাইন কবিতার মাধ্যমে সুন্দরভাবে তা ফুটিয়ে তুলেছেন। আহলে হাদীসগণের বিরুদ্ধে ইহা একটি বিরাট অপবাদ। যদিও এই ধরণের অপবাদ অন্যেরা দেয় না। আজকের দিনেও হকের এ শত্রু যারা, তারা পূর্ববর্তী জাহিলদের তরীকা অনুসরণ করে কুর'আন ও সুন্নাহর অনুসারী এইসব হকপন্থী লোকদেরকে বিভিন্ন খারাপ নামে অভিহিত করে থাকে।

টিকাঃ
২১. মাননীয় লেখক মূল বইতে সমস্ত কবিতা নকল করেছেন। পাঠকের ধৈর্য্যচ্যুতির ভয়ে বাদ দিলাম। (অনুবাদক)

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা

📄 সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা


সত্য দ্বীনের বিরোধী যারা তাদের বৈশিষ্ট্যই হলো আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করা এবং সত্য দ্বীনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। যেমন ইয়াহুদী-খৃষ্টানেরা দাবী করে থাকে যে, তারা যার উপরে আছে সেটাই মাত্র সঠিক এবং আল্লাহ তাদেরকে চিরদিন তাই-ই আঁকড়ে ধরে রাখতে বলেছেন; দ্বীন ইসলাম সত্য নয় এবং আল্লাহ তাদেরকে তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ সব কিছুই তাদের পূর্বসূরীদের অন্ধ অনুসরণ মাত্র। তারা দলীল-প্রমাণের দিকে দৃষ্টি দেয় না। বর্তমান বিশ্বের বেদআতীরা তাদের বেদআতগুলিকেই হক মনে করে এবং ভাবে যে, আল্লাহ তাদেরকে এই সব পূণ্য কর্ম (?) করতে নির্দেশ দান করেছেন। পক্ষান্তরে হকপন্থীরা যে সব আমল করে ওসব বাতিল, অসত্য। 'প্রত্যেকেই লায়লী প্রেমের দাবীদার। অথচ লায়লী তাদের কারো নয়।'

টিকাঃ
২২. . وكل يدعي وصلا لليلى ، وليلى لا تقر لهم بذاکا

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 মুমিনদের প্রতি মিথ্যারোপ

📄 মুমিনদের প্রতি মিথ্যারোপ


জাহেলী যুগের লোকেরা মুমিনদের বিরুদ্ধে পার্থিব প্রতিপত্তি লাভের জন্য মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করতো। যেমন ফেরাউনের কওম মূসা আলাইহিস সালামের নিকট লা-জওয়াব হওয়ার পরে দূর্বলের চিরন্তন নীতি অনুযায়ী বাপ-দাদার রীতিসমূহের প্রতি অন্ধ গোড়ামী প্রদর্শন করে বলে-তুমি কি আমাদের নিকট আমাদের বাপ-দাদার রীতি-নীতি হতে বিচ্যুত করবার জন্য এসেছ এবং এই দেশে যাতে তোমাদের দু'ভাইয়ের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায় সেজন্য? আমরা তোমাদের উপর বিশ্বাসী নই'।

'তারা বলল, তুমি কি আমাদের নিকট এ জন্য এসেছো যে, আমাদের সরিয়ে দিবে সে পথ হতে যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি। আর পৃথিবীতে তোমাদের দু' জনের আধিপত্য স্থাপিত হয়ে যায়? কিন্তু আমরা তোমাদের দু' জনকে কখনো মেনে নেবনা।” (সূরা ইউনূস : ৭৮)

এখানে পার্থিব প্রতিপত্তি বলতে বাদশাহী বুঝানো হয়েছে যেমন- মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করা হয়েছে যাজ্জাজ বলেন, বাদশাহীকে প্রতিপত্তি এজন্যে বলা হয়েছে যে, তাই হলো দুনিয়াতে সর্বাপেক্ষা বড় কাম্য বস্তু। অতএব যখনই কোনো হকপন্থী ব্যক্তি মানুষকে হকের দাওয়াত দেয়, বাতিলপন্থী জাহেলরা অমনি তাদেরকে প্রতিপত্তি লোভী রাজনৈতিক স্বার্থবিরোধী বলে দোষারোপ করে। অথচ একবারও তারা ভেবে দেখে না, এরা কি বলতে চায় এবং তা কতটুকু যুক্তিনির্ভর।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 মুমনিদের বিরুদ্ধে সমাজে ফাসাদ সৃষ্টির অভিযোগ

📄 মুমনিদের বিরুদ্ধে সমাজে ফাসাদ সৃষ্টির অভিযোগ


মুমিনদেরকে সমাজে ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী বলে অভিহিত করা জাহেলী যুগের একটি রীতি। যেমন- সূরা বাক্বারার ১১ ও ১২ আয়াতে পরিষ্কার বলা হয়েছে,

“যখন তাদেরকে বলা হয় পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে আমরাইতো শান্তি স্থাপনকারী। সাবধান এরাই (আসলে) অশান্তি সৃষ্টির হোতা। কিন্তু ওরা (নিজেদের দোষ) বুঝতে অপারগ।” (সূরা আল-বাকারা : ১১-১২)

এমনিভাবে একই রীতি চলছে প্রতি যুগে, ঐ সমস্ত লোকের মধ্যে যাদের অন্তরে বিভিন্ন বেদআতী রেওয়াজ প্রথা ও বিভ্রান্তিসমূহ দানা বেঁধে আছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px