📄 সত্যের উপর মিথ্যার আবরণ দেওয়া
আহলে কিতাব ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের দের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-
‘হে কিতাবধারীগণ! তোমরা সব কিছু জানা সত্বেও কেন সত্য গোপন করছো এবং তার উপর মিথ্যার আবরণ ছড়াচ্ছ? (সূরা আলে ইমরান ৩: আয়াত ৭১)
এখানে ইয়াহুদী-খৃষ্টানদেরদের সত্য গোপন করার চারটি তাৎপর্য হতে পারে। যেমন- একঃ তাওরাত ও ইঞ্জিলের মূল গ্রন্থে রদবদল। দুইঃ তারা মুখে ইসলামকে স্বীকার করে ও মুনাফেকীকে গোপন করে। তিনঃ মুসা আলাইহিস সালাম ও ঈসা আলাইহিস সালামের উপর ঈমান আনে, কিন্তু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবিশ্বাস করে এবং চারঃ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সত্যতাকে মনে মনে বিশ্বাস করে, কিন্তু মুখে মিথ্যা বলে।
📄 সত্যকে প্রতিরোধ করার জন্য সাময়িকভাবে তাকে স্বীকার করে নেওয়া
নিজ মাযহাবের উপর গোড়ামী ঠিক রেখে সত্যকে প্রতিরোধ করার জন্য আহলে কিতাবগণ তাদের লোকদেরকে কিভাবে পরিচালিত করতো, তার পরিচয় মিলবে নিম্নোক্ত আয়াতে-
'কিতাবধারীদের একটি দল বলে যে, মুমিনদের উপর যা নাযিল হয়েছে অর্থাৎ কুর'আনের উপরে তোমরা দিনের বেলায় ঈমান প্রদর্শন করো এবং দিনের শেষে তা প্রত্যাখ্যান করো, হয়ত বা এতে মুমিনরা পুনরায় ফিরে আসবে। তবে (সাবধান) যারা তোমাদের দ্বীনের অনুসারী (ইয়াহূদী কিংবা খৃষ্টান) তাদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে বিশ্বাস করবেনা'। (সূরা আলে ইমরান ৩: আয়াত ৭২-৭৩)
উক্ত আয়াতের শানে নুযুল সম্পর্কে হাসান ও সুদ্দী রহ. বলেন, খায়বরের ১২ জন ইয়াহুদী ধর্মনেতা এ বিষয়ে একমত হলেন যে, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ দিনের প্রথমাংশে মুখে মুখে ইসলাম গ্রহণ করবে ও শেষের দিকে কুফরী করবে। অতঃপর মুসলিমদের সংগে বলবে আমরা আমাদের ঐশী কিতাবসমূহ দেখেছি ও আমাদের আলিমদের সংগে আলোচনা করেছি। তাতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর দ্বীনকে মিথ্যা পেয়েছি। এমনিভাবে আমরা করতে থাকলে মুসলিমরা সন্দেহে পড়ে যাবে এবং বলবে কিতাবধারীরা বেশী বিদ্বান। তারা মুহাম্মদের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাইতে বড় আলেম।' অতএব এইভাবে ক্রমে তারা ইসলাম ত্যাগ করে আমাদের ধর্মে (ইয়াহুদী-নাছারা) চলে আসবে।
📄 নবীদের রবের আসন দেওয়া
আল্লাহ বলেন-
'কোন মানুষের জন্য ইহা শোভন নয় যে, তাকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়ত দান করার পর সে লোকদেরকে বলবে যে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমার গোলাম বনে যাও। বরং সে বলবে যে, তোমরা সবাই আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও। এজন্য যে, তোমরা লোকদেরকে কিতাব শিক্ষা দিয়ে থাকো এবং তা অধ্যয়ন করে থাকো। সে তোমাদের এ নির্দেশ ও দিবে না যে, তোমরা মালাইকা ও নবীদেরকে রব বা প্রতিপালক হিসাবে গ্রহণ করো। সে কি তোমাদেরকে মুসলিম হওয়ার পরে পুনরায় কাফির হতে বলবে'? (সূরা আলে ইমরান, ৩: ৭৯-৮০)
ইবনে ইসহাক স্বীয় সনদে বর্ণনা করেছেন যে, নাজরানবাসী ইয়াহুদী ও খৃষ্টান ধর্মনেতাগণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাজির হলে তিনি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেন। উত্তরে তারা বলল- 'হে মুহাম্মদ, তুমি কি মনে করো যে, আমরা ইবাদত করবো যেমন খৃষ্টানেরা ঈসা ইবনে মারইয়ামকে করে থাকে? উপস্থিত একজন খৃষ্টান সর্দার এ কথার পুনরুক্তি করে জিজ্ঞেস করলো- মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তুমি সত্যিই কি তাই চাও? উত্তরে নবী করিম বলেন, 'আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় ভিক্ষা করছি গায়রুল্লাহর ইবাদত করা হতে এবং অন্যকে এ কাজের হুকুম করা হতে। আল্লাহ এজন্য আমাকে পাঠাননি এবং এজন্য তিনি আমাকে নির্দেশ দেননি'। এই সময় উপরোক্ত আয়াত নাযিল হয়।
📄 আল্লাহর কিতাবের শব্দসমূহকে স্থানচ্যুত করা
ইয়াহুদীদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন-
'ইয়াহুদীদের জন্য কতক লোক (তাওরাতের) কথাগুলিকে স্থানচ্যুত করে এবং বলে আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম, তুমিও শুনো, না শোনার মত। (সূরা আন-নিসা ৪: আয়াত ৪৬)
অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা বলেন-
'তাদের মধ্যে একদল লোক আছে যারা কিতাবকে জিহবা দ্বারা এমনভাবে বিকৃত করে পড়ে যেন তোমরা উহাকে যথার্থই আল্লাহর কিতাব বলে ধারণা করো। অথচ তা মোটেই আল্লাহর কিতাবের অংশ নয়। তারা বলে যে, তা আল্লাহর নিকট হতে, অথচ আসলে তা নয়। বরং ওরা জেনেশুনে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলে'। (সূরা আলে ইমরান ৩: আয়াত ৭৮)
ইয়াহূদীরা তাদের মূল কিতাবে কোনরূপ রদবদল করেছে, নাকি নিজেদের রচিত কিতাবে রদবদল করেছে এ বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। এ বিষয়ে তাফসীরে রুহুল মা'আনী এবং শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ রহ. প্রণীত 'আলজাওয়াবুছ ছহীহ,' নামক গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা রযেছে।
বলাবাহুল্য, আজকাল উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যেও কিতাবীদের মত কুরআন ও হাদীসের নিজেদের মন মত তাহরীফ ও তাবীলের ব্যধি ঢুকে পড়েছে। আমাদের এ বিষয়ে কঠোর সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।