📄 কেয়ামতকে অস্বীকার করা
তারা পরকালকে অস্বীকার করতো এবং পরকালে আল্লাহর সঙ্গে দীদার, সকলের পুনর্জীবন লাভ ও জান্নাত-জাহান্নাম সম্পর্কে নবীদের বর্ণিত বিবরণসমূহকে তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতো। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন-
(হে নবী) "আপনি বলুন যে, আমি কি তোমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের সম্পর্কে বলবো যারা তাদের সারা জীবনের প্রচেষ্টাকে বরবাদ করেছে? অথচ ধারণা করে নিয়েছে যে, তারা খুবই নেকীর কাজ করেছে। ঐসব লোকেরা আল্লাহর আয়াতসমূহ ও তাঁর সহিত দীদারকে অস্বীকার করেছে। তাদের কর্মসমূহ নিষ্ফল হয়ে গেছে। কেয়ামতে তাদের জন্য কোনো ওযন করব না।" (সূরা কাহাফ, ১৮: আয়াত ১০৪-১০৫)
অন্যত্র আল্লাহ বলেন-
“লোকেরা আল্লাহর নামে শপথ করে বলে যে, আল্লাহ কখনোই মৃত ব্যক্তির পুনরুত্থান ঘটাবেন না। হ্যাঁ, আল্লাহর ওয়াদাই যথার্থ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না। যারা উক্ত বিষয়ে মতবিরোধ করে তাদেরকে চাক্ষুস দেখিয়ে দেয়ার জন্য এবং কাফিরগণই যে মিথ্যাবাদী সে কথা জানিয়ে দেওয়ার জন্যই (আমি এটা ঘটাবো)। (সূরা আন-নাহল, ১৬: আয়াত ৩৮-৩৯)
বর্তমানে এই ধরণের জাহেলী আক্বীদার লোকের মোটেই অভাব নেই।
📄 আল্লাহ বিচার দিবসের মালিক এই আয়াতকে মিথ্যা মনে করা
তারা আল্লাহকে বিচার দিবসের মালিক হিসাবে বিশ্বাস করতো না বরং ‘মালিক ইয়াওমিদ্দীন’ এই আয়াতকে তারা মিথ্যা মনে করতো। এটা সেই মহা বিচারের দিন, যে দিন আল্লাহ প্রতিটি বান্দাকে তার ভাল কাজসমূহের পুরস্কার ও মন্দ কাজসমূহের বদলা দিবেন। বর্তমান যুগে শুধু বিচারকেই নয়, বরং খোদ কেয়ামত দিবস ও জান্নাত-জাহান্নামকেই লোকে অস্বীকার করতে শুরু করেছে।
📄 কেয়ামতের দিন কোনরূপ বন্ধুত্ব ও সুপারিশ কাজে লাগবে না- এই আয়াতকে মিথ্যা মনে করা
জাহেলী যুগের লোকেরা পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল-
‘হে বিশ্বাসীগণ। আমি তোমাদেরকে যে রুজি দিয়েছি তা থেকে (আল্লাহর রাস্তায়) ব্যয় করো, সেই চুড়ান্ত দিন আসার পূর্বে যে দিন আপোষে কোনরূপ বেচাকেনা, বন্ধুত্ব, সুপারিশ কিছুই থাকবে না। (এই সব) সত্য অস্বীকারকারীগণই প্রকৃত যালিম বা সীমা লঙ্ঘনকারী। (সূরা আল-বাক্বারাহ ২: আয়াত ২৫৪)
'শাফাআতের ভুল অর্থ গ্রহণ করা' এ কথার অর্থ, কেউ কারো জন্য কোনরূপ সুপারিশ করতে পারবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া আল্লাহ খুশী হয়ে যাকে অনুমতি দেবেন। উপরোক্ত তিনটি বিশেষণের উল্লেখ করার কারণ, মানুষ সাধারণতঃ উক্ত তিন উপায়েই পরস্পরকে সাহায্য করে থাকে। এখানে ইশারা করা হয়েছে যে, কোনো প্রকারেই মানুষ মানুষের জন্য কেয়ামতের দিন কোনরূপ সুপারিশ বা সাহায্য করতে পারবে না। না আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে, না বন্ধুর সাহায্যের মাধ্যমে, না কোনো সুপারিশকারীর সুপারিশের মাধ্যমে। বরং সকল সুযোগই ঐ দিন বন্ধ থাকবে। আল্লাহ ব্যতীত সাহায্য প্রার্থনার স্থল আর কোথাও নেই।
📄 শাফাআতের ভুল অর্থ গ্রহণ করা
তারা সূরা যুখরুফের নিম্নোক্ত আয়াতকেও মিথ্যা ভেবেছিল-
'আল্লাহকে ছেড়ে তারা অন্য যাদেরকে ডাকে, তারা শাফাআতের অধিকার রাখে না। তবে হ্যাঁ, যারা মনে-প্রাণে তাওহীদের সাক্ষ্য দিয়েছে (তারা ব্যতীত) যদিও তারা একথা নিজেরাও জানে'। (সূরা আয-যুখরুফ, ৪৩: আয়াত ৮৬)
তারা যাদেরকে ডাকে, তাদের মধ্যে আছে মালাইকা, ঈসা আলাইহিস সালাম, ওযায়ের আলাইহিস সালাম এবং অন্যান্য অসংখ্য কল্পিত ব্যক্তি যাদেরকে তারা তাদের জন্য শাফাআতকারী বলে মনে করে। আজকের দিনেও আমরা দেখতে পাই, মূর্তির সামনে লোকেরা দাড়িয়ে থাকে। তাদেরকে ধিক্কার দিলে জওয়াবে বলে এদেরকে তো আমরা মাবুদ বা উপাস্য মানি না বরং শাফাআতকারী মনে করি। কবর পূজারী মুসলিম আর মূর্তি পূজারী অমুসলিম কি একই ধারণায় বিশ্বাসী নয়?