📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 ফেরেশতা ও রাসূলগণকে অস্বীকার করা ও তাদের মধ্যে পার্থক্য করা

📄 ফেরেশতা ও রাসূলগণকে অস্বীকার করা ও তাদের মধ্যে পার্থক্য করা


আল্লাহ তা'আলা বলেন-

'নিশ্চয়ই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি এবং তারপরে পর্যায়ক্রমে রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি। মরিয়ম পুত্র ঈসাকে স্পষ্ট প্রমাণ দান করেছি এবং তাকে পবিত্র 'াত্মা' দ্বারা শক্তিশালী করেছি। তবে আসল কথা হলো এই যে, যখনই কোনো রাসূল তোমাদের কাছে এমন কিছু নিয়ে আসেন যা তোমাদের মনঃপূত নয়, তখনই তোমরা অহংকার করেছ। ফলে অনেক নবীকে তোমরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছ ও অনেক নবীকে হত্যা করেছ'। (সূরা আল- বাক্বারাহ, ২: আয়াত ৮৭)

'তারা বলতো যে, আমাদের হৃদয় আচ্ছাদিত। (তা বাজে কথা) বরং সত্য প্রত্যাখানের জন্য আল্লাহ তাদেরকে অভিসম্পাত করেছেন। তাদের খুব অল্প সংখ্যকই ঈমান এনেছে’। (সূরা আল-বাক্বারাহ, ২: আয়াত ৮৮)

সূরা আল-বাক্বারার ৯৮ আয়াতে আল্লাহ বলেন-

“যে কেউ আল্লাহর, তাঁর ফেরেশতাগণের, তাঁর রাসূলগণের এবং জিব্রীল ও মিকাইলের শত্রু সে জেনে রাখুক যে, আল্লাহ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের শত্রু।” (সূরা আল-বাকারা : ৯৮)

উপরোক্ত আয়াতসমূহ দ্বারা একথা প্রমাণিত হলো যে, ইয়াহুদী ও নাছারাদের কেউ কেউ মালাইকা ও রাসূলগণকে অস্বীকার করতো এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করতো। অর্থাৎ তাদের কারও উপরে ঈমান আনতো ও কাউকে অবিশ্বাস করতো। এজন্যেই মুসলিমদেরকে আল্লাহ এ ধরণের পার্থক্য করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ আলা বলেন-

'স্বীয় প্রতিপালকের পক্ষ হতে অবতীর্ণ বস্তুর (অহী) উপর রাসূল ও মুমিনগণ বিশ্বাস স্থাপন করেছে। তারা সবাই ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাগণের উপর, তাঁর কিতাবসমূহ ও রাসূলগণের উপর। (এবং তারা বলেন যে,) আমরা আল্লাহর রাসূলগণের কোনরূপ তারতম্য করি না। তারা বলে যে, আমরা শুনেছি এবং পালন করেছি। হে প্রভু! তুমি আমাদেরকে ক্ষমা করো। কেননা প্রত্যাবর্তন তো কেবল তোমারই নিকটেই। (সূরা আল-বাক্বারাহ, ২: আয়াত ২৮৫)

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 নবী ও রাসূলদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা

📄 নবী ও রাসূলদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা


আল্লাহ বলেন-

'হে কিতাবীগণ (ইয়াহূদী ও নাছারা), তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর সম্পর্কে সত্য ছাড়া বলো না। মরিয়মের পুত্র ঈসা মসীহ আল্লাহর রাসূল ও তাঁর কলেমা ও আদেশ মাত্র- যা তিনি মরিয়মের প্রতি নিক্ষেপ করেছিলেন। অতএব, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর বিশ্বাস স্থাপন করো এবং বলো না যে, আল্লাহ 'তিন'। (এমন বলা হতে) বিরত হও, তোমাদের কল্যাণ হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ একমাত্র উপাস্য। 'তাঁর সন্তান হবে' এসব বিষয় হতে তিনি পবিত্র। (সূরা আন-নিসা, ৪: আয়াত ১৭১)

সৃষ্টিকর্তার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা যখন এতবড় মহাপাপ, তখন সৃষ্টির ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা কত বড় অন্যায়। যেমন মূর্তি পূজা, অলী আওলিয়ার পূজা প্রভৃতি করা হয়ে থাকে। নূহ আলাইহিস সালামের কওম যেমন নাসর, সোআ, ইয়াগুছ প্রভৃতির এবং খৃষ্টানরা ঈসা আলাইহিস সালামের পূজা করে থাকে। লোকেরা আল্লাহর উপরে এমনি ধরণের আরও বহু অসত্যারোপ করে থাকে।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 না জেনে ঝগড়া করা

📄 না জেনে ঝগড়া করা


বিভিন্ন ধরণের বেদআত ও কুসংস্কারে লিপ্ত অজ্ঞ জনসাধারণকে যখন কোনো বিজ্ঞ হকপন্থী আলেম ঐ সকল শরীয়ত বিরোধী কাজকর্ম হতে বিরত থাকতে বলেন, তখন জাহেল লোকেরা জিদের বশবর্তী হয়ে তাদের সংগে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। এটা নিঃসন্দেহে জাহেলী যুগের একটি রীতি। আল্লাহ আমাদেরকে এ বদ অভ্যাস থেকে নিষেধ করেছেন।

তিনি ইরশাদ করেছেন-

'হে কিতাবীগণ, ইব্রাহীম (ইয়াহুদী ছিলেন, না নাছারা ছিলেন সে) সম্পর্কে তোমরা অযথা কেন তর্ক কর। অথচ আসল অবস্থা এই যে, তাওরাত ও ইঞ্জীল তাঁর পরবর্তীকালে নাযিল হয়েছিল। তোমরা কি কিছুই বুঝ না? দেখ, যে বিষয়ে তোমাদের কিছু জ্ঞান আছে সে বিষয়ে তোমরা ঝগড়া করে থাকো। এখন যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই সে বিষয়ে তোমরা কেন অহেতুক ঝগড়ায় লিপ্ত হচ্ছ। আল্লাহ সব জানেন, তোমরা কিছু জানো না। (সূরা আলে ইমরান ৩: আয়াত ৬৫-৬৬)

ইবনে ইসহাক ও ইবনে জারীর রহ. ইবনে আব্বাস রা. এর বরাতে বর্ণনা করেন যে, নাজরানের খৃষ্টান ও ইয়াহূদী পুরোহিতগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জমায়েত হয়ে আপোষে তর্ক শুরু করলো। ইয়াহূদী পুরোহিতরা বলল যে, ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ইয়াহূদী ছিলেন। অপর পক্ষে খৃষ্টানরা বলল যে, ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম খৃষ্টান ছিলেন। আল্লাহ তখন উপরোক্ত আয়াত নাযিল করেন।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 দ্বীনের ব্যাপারে না জেনেশুনে কথা বলা

📄 দ্বীনের ব্যাপারে না জেনেশুনে কথা বলা


জাহেলী যুগের আরবরা এবং ইয়াহুদী-খৃষ্টানরা দ্বীনের নামে এমন বহু কিছু চালু করেছিল যা করবার হুকুম আল্লাহ তাদেরকে দেননি। আরবদের অধিকাংশই ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালামের দ্বীনের অনুসারী ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে আমর ইবন লুহাই (খুযা'ঈ) নামক এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটলো। সে দ্বীনে ইব্রাহীমের মধ্যে বহু পরিবর্তন ঘটালো। অনেক রকমের বেদআত চালু করলো এবং লোকদেরকে মূর্তি পূজায় প্ররোচিত করলো। এতদ্ব্যতীত উটের কান কেটে ছেড়ে দেওয়া, আরোহনের অযোগ্য ঘোষণা করে ষাড় ছেড়ে দেওয়া, ভাগ্যের তীর বন্টন করা প্রভৃতি অন্যান্য 'বেশরা' কাজে তাদেরকে লিপ্ত করালো। সূরা আন'আমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

অতঃপর জাহেলী ইয়াহুদী ও খৃষ্টানরা তাদের পীর পুরোহিতগণকে এবং ঈসা আলাইহিস সালামকে প্রভূর আসনে বসিয়েছিল। এইসব সাধু সন্যাসীগণ রকমারী বেদআতসমূহ চালু করেছিল। ইচ্ছামত হালাল-হারাম নির্ধারণ করেছিল। লোকেরা তাদের ফতওয়া গ্রহণ করলো এবং এ সবের অনুসরণ করতে লাগলো। যদিও দ্বীন সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর অহীর উপর নির্ভরশীল। তা কখনোই লোকদের ব্যক্তিগত খেয়াল-খুশীর অনুসারী হতে পারে না। অতএব প্রত্যেক বস্তু যার উপর কিতাব ও সুন্নাতের কোনো দলীল নেই, সেটা তার প্রচলন ও অনুসরণকারীর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে। ইয়াহুদীদের এই বদ-স্বভাবের নিন্দা করে আল্লাহ বলেন-

'তাদের মধ্যে একদল লোক আছে যারা (নিজেদের লিখিত) কিতাবকে জিহবা দ্বারা বিকৃত ভাবে পাঠ করে, যাতে তোমরা (তাকে) আল্লাহর কিতাব বলে মনে করো। কিন্তু আসলে তা (আল্লাহর) কিতাবের অংশ নয়। তারা বলে যে, তা আল্লাহর নিকট হতে। অথচ তা আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত নয়। তারা জেনে শুনে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলে।” (সূরা আলে ইমরান ৩: আয়াত ৭৮)

যে ব্যক্তি কিতাব ও সুন্নাতের দলীলসমূহকে নিজেদের চাহিদা ও খেয়াল খুশীর পক্ষে ব্যাখ্যা দানে প্রবৃত্ত হয়, সে ব্যক্তি অবশ্যই উপরোক্ত আয়াতের মর্ম অনুযায়ী জিহবা বিকৃতকারীদের দলভুক্ত হবে। জ্ঞানী পাঠকদের অবশ্যই জানা আছে, যে বর্তমান যুগে রচিত ধর্মীয় পুস্তকাদির মধ্যে এই ধরণের অসংখ্য মাসায়েল স্থান লাভ করেছে, শরীয়তের যার কোনো ভিত্তি নেই। বাতিলের ব্যাপক হামলা ও হকের অস্পষ্টতা হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية