📄 স্রষ্টা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ হতে সৃষ্টজীবের বিরত থাকা
নাসারাদের সাধু সন্যাসীরা স্ত্রী গ্রহণ ও সন্তান পালন হতে বিরত থাকতো এবং বলতো যে, ‘কামালিয়াত’ হাছিল করতে ইচ্ছুক পাদ্রী পুরোহিত ও সাধু-সন্যাসীদেরকে ঈসা মসীহের অনুকরণে স্ত্রী সংসর্গ হতে দূরে থাকতে হবে। এদের নির্বুদ্ধিতা ও বিভ্রান্তি বর্তমানে এতদূর অগ্রসর হয়েছে যে, তারা আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈবাহিক জীবন সম্পর্কেও আপত্তি তুলতে চায়। ত্রয়োদশ হিজরী শতকের ইরাকী কবি আব্দুল বাকী ফারুকী জনৈক খৃষ্টান পাদ্রীর সমালোচনার জওয়াবে কত সুন্দরই না বলেছেন-
‘তুমি তোমার পাদ্রী নেতাদের বলো যে, তোমরা বিবাহকে আল্লাহভীরু ও ত্রুটিহীন লোকদের জন্য একটি ত্রুটি বলে মনে করো। অথচ তোমরা তিন আল্লাহতে বিশ্বাসী ত্রিত্ববাদীরা একথা বেমালুম ভুলে বসেছো যে, মরিয়মকে তোমরা আল্লাহর স্ত্রী বানিয়েছো।' (নাউযুবিল্লাহ)
টিকাঃ
১২. লেখকের শেষের প্যারাটি অপ্রয়োজনে বাদ দেওয়া হলো। (অনুবাদক)
📄 নাস্তিক্যবাদ
এর অর্থ হলো- সৃষ্টি জগতের কোনো স্রষ্টা আছেন, একথা অস্বীকার করা। যেমন- ফেরআউন ও তার সম্প্রদায়ের লোকেরা করতো। ফেরআউন বলেছিল-
'আমি ছাড়া তোমাদের আর কোনো প্রভু আছে বলে আমি জানি না।' (সূরা আল-ক্বাছাছ, ২৮: আয়াত ৩৮)
যুগে যুগে এই ধরণের মূর্খতা হতে পৃথিবী কখনোই খালি থাকেনি। কিছু সংখ্যক আল্লাহর বান্দা ছাড়া বর্তমান যুগের অধিকাংশ আদম সন্তানই উক্ত বাতিল আক্বীদা পোষণ করে থাকে। যদি তারা ন্যায় বিচার ও বিবেকের সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে দেখতো, তাহলে উপলব্ধি করতো যে, এ পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টিই তার স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ। করিব ভাষায়-
'প্রতিটি বস্তুর মধ্যে রয়েছে তাঁর নিদর্শন, যা প্রমাণ দেয় যে তিনি এক।'
আসমান জগতে এবং আমাদের নিজেদের দেহে ও চরিত্রে যে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জটিলতা দেখতে পাই, তার প্রকৃত মর্ম উদঘাটন করা আমাদের পক্ষে কেমন করে সম্ভব? এসব আমাদের জ্ঞান ও চিন্তার সম্পূর্ণ বাইরে। আসলে লোকেরা যেসব কথা বলে, আল্লাহ সেসব থেকে বহু ঊর্ধ্বে।
📄 আল্লাহর মালিকানায় শরীক করা
যেমন মাজুসী-অগ্নি উপাসকরা জ্যোতি, আগুন, পানি ও মাটিকে সম্মান করতো। 'জরথস্তুকে' নবী মানতো। তাদের নিজস্ব শরীয়ত বা নিয়ম-নীতি ছিল তারা যার অনুসরণ করতো। তাদের মধ্যে বহু দল ছিল।
যেমন মাযদাকের অনুসারী মাযদাকিয়া দল। মাযদাক তাদের একজন বড় আলেমের নাম। তার মতে নারী জাতি ও ধন-সম্পদ হবে জাতীয় সম্পদ। প্রত্যেকের স্ত্রী ও ধন-সম্পদের উপর অন্যের সমান অধিকার থাকবে যেমন, আলো-বাতাস ও রাস্তা চলাচলে সকলের সমানাধিকার আছে।
তাদের আরেকটি দলের নাম 'খুররামিয়া'। এরা বাবেক খুররামীর অনুসারী। এরাই এদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট দল। এরা কোনো সৃষ্টিকর্তা, আখিরাত, নবুওয়ত, হালাল-হারাম কিছুই মানে না। এদের মাযহাবেরই অনুসারী শাখাসমূহ হলো কারামতী, ইসমাইলিয়া, নাদীরিয়া, কিসানিয়া, যারারিয়া, হেকামিয়া এবং সমস্ত ওবায়দীগণ। যারা নিজেদেরকে 'ফাতেমীয়' বলে অভিহিত করেছে। এদের সবাই মূলতঃ উপরোক্ত একটি মাযহাবেরই অন্তর্ভুক্ত। যদিও ব্যাখ্যায় গিয়ে পৃথক হয়েছে। এদের সকলেরই নেতা, শায়খ ও ইমাম হলো মাজুসীরা। যদিও মাজুসীরা তাদের একটি নিজস্ব দ্বীন ও শরীয়তের বিধি-নিষেধের অনুসারী, কিন্তু এরা বিশ্বের কোনো দ্বীন-ধর্ম ও নিয়ম- নীতির ধার ধারে না।
টিকাঃ
* আজকের যুগের তথাকথিত সাম্যবাদী ও প্রগতিবাদীদের অনেকেই এই মত পোষণ করে থাকেন।
📄 সমস্ত নবুওয়তকে অস্বীকার করা
যেমন আল্লাহ বলেন-
‘তারা আল্লাহর যথাযোগ্য মর্যাদা দান করেনি যখন তারা দাবী করে যে, আল্লাহ কোনো মানুষের কাছে কোনো কিছুই নাযিল করেননি। আপনি বলে দিন (হে নবী) মুসা যে গ্রন্থ নিয়ে এসেছিল তা কে নাযিল করেছে? যার মধ্যে ছিল মানুষের জন্য আলোক ও এবং হিদায়েত। যা তোমরা কাগজের পৃষ্ঠাসমূহে লিপিবদ্ধ করে কিছু অংশ প্রকাশ করো এবং অধিকাংশ গোপন রাখো। তার মধ্যে এমন বস্তু তোমরা জানতে পেরেছ যেসব তোমরা বা তোমাদের বাপ-দাদারা জানতো না। আপনি বলুন, তা আল্লাহই (নাযিল করেছিলেন) অতঃপর ছেড়ে দিন, ওরা ওদের বাজে তর্কের খেলায় মত্ত থাকুক'। (সূরা আল-আন'আম ৬: আয়াত ৯১)
অধিকাংশ তাফসীরকারের মতে এই আয়াত ইয়াহূদীদের উদ্দেশ্যে নাযিল হয়েছে অর্থাৎ তোমরা যদি মূসা আলাইহিস সালামের উপর তাওরাত নাযিলের বিষয়টি স্বীকার করে থাকো, তাহলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর কুরআন নাযিলকে অস্বীকার করো কেন? কারো মতে এ আয়াত মক্কার মুশরিকদের শানে নাযিল হয়েছিল, যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসাবে মানতে রাযী হয়নি। মোটকথা, নবুয়তের অস্বীকার করা জাহেলী রীতির অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান যুগে একই রীতির ও ধারণার অনুসারী বহু লোককে পাওয়া যাবে।