📄 হালাল বস্তুকে হারাম করে ইবাদতে লিপ্ত হওয়া
জাহেলী যুগে এটা প্রচলিত ছিল (যেমন তারা তাওয়াফের সময় কাপড় পরতো না, হজ্জের মওসুমে চর্বি খেতো না ইত্যাদি)। আল্লাহ এ সবের প্রতিবাদ করে বলেন-
'হে বনী আদম! প্রত্যেক ছালাতের সময় তোমরা সুন্দর পোষাক পরিধান করো। তোমরা নিয়মিত আহার করো, পান করো, কিন্তু অপব্যয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপব্যয়কারীদের ভালবাসেন না। (হে নবী) আপনি বলে দিন, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের জন্য যেসব সৌন্দর্য সম্ভার ও বিশুদ্ধ জীবিকা সৃষ্টি করেছেন তাকে তাদের জন্য কে হারাম করেছে? বলে দিন, এ সবই মুমিনদের জন্য, তাদের পার্থিব জীবনে ও বিশেষ করে কিয়ামতের দিনে। এইরূপে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আমরা নিদর্শনগুলি বিশদভাবে বিবৃত করি। (হে নবী) আপনি বলে দিন যে, আমার প্রভু নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন যাবতীয় প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, সকল প্রকারের পাপকার্য, অসংগত বিরোধিতা এবং আল্লাহর সাথে শির্ক- যে সম্পর্কে কোনো দলিল তিনি নাযিল করেননি এবং নিষিদ্ধ করেছেন, আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কথা বলা, যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই'। (সূরা আ'রাফ, ৭: আয়াত ৩১-৩৩)
প্রথম আয়াতটি নাযিল হওয়ার কারণ হলো যে, বেদুঈন আরবদের অনেকে উলংগ হয়ে পবিত্র কাবাঘর 'তাওয়াফ' (প্রদক্ষিণ) করতো। এমনকি মেয়েরাও উলংগ হয়ে অনুরূপ করতো এবং গান গেতো। কালবী বলেন যে, হজ্জের মওসুমে আরবরা বেঁচে থাকার মত যৎসামান্য আহার করতো। তা হজ্জের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই সময়ে কোনো চর্বিযুক্ত খাবার খেতো না। এ অবস্থায় মুসলিমরা আল্লাহর নবীকে বললেন যে, আমরাই তো হজ্জের সম্মান রক্ষার অধিক হকদার। তখন আল্লাহ উপরোক্ত আয়াত নাযিল করেন।
দ্বিতীয় আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা যায় যে, মানুষের কল্যাণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সৃষ্ট সূতী, কাতান, রেশমী প্রভৃতি বস্তুসমূহ এবং খাসী ও গরুর গোস্ত, চর্বি, দুধ প্রভৃতি যাবতীয় হালাল খাদ্যসমূহ তাদের জন্য সব সময়ই হালাল। মু'মিনদের জন্য এগুলো খাছ এজন্য বলা হয়েছে যে, আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা সর্বাধিক। সুতরাং এ সকল নিয়ামতের প্রকৃত হকদার তারাই। তবে অবিশ্বাসীরাও এসব ভোগ করতে পারবে সাধারণভাবে মুমিনদের অনুসরণে। অবশ্য পরকালীন জীবনে এ সমস্ত সৌন্দর্য সম্ভার উপভোগের অধিকারী হবেন কেবলমাত্র মুমিনরাই।
তৃতীয় আয়াতে 'প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতার' ব্যাখ্যায় কোনো কোন মুফাসসীর 'প্রকাশ্য ও গোপন ব্যাভিচার' বলেছেন। আরবরা প্রকাশ্য ব্যাভিচার অপছন্দ করতো। কিন্তু গোপনে একাজে অভ্যস্ত ছিল। মুজাহিদ বলেন, 'প্রকাশ্য অশ্লীলতা' অর্থে 'উলঙ্গ তাওয়াফ' এবং 'গোপন অশ্লীলতা' অর্থে ব্যাভিচার বুঝানো হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, 'প্রকাশ্য' অর্থে পুরুষদের দিবসে উলংগ তাওয়াফ বুঝানো হয়েছে।
'পাপকর্ম' বলতে সব ধরনের পাপাচার বুঝানো হয়েছে। তবে কেউ কেউ আরবদের কবিতায় ব্যবহৃত উক্ত শব্দের প্রচলিত অর্থের দিকে খেয়াল করে এখানে 'মদের' অর্থ করেছেন।
'শির্ক- যে সম্পর্কে কোনো দলীল আল্লাহ নাযিল করেননি' এর দ্বারা আল্লাহর গুণাবলীকে অস্বীকার করা এবং তাঁর সম্বন্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া বুঝানো হয়েছে। যেমন- তারা নিজেদের অপকর্মের সমর্থনে যুক্তি দেখিয়ে বলতো যে- 'আল্লাহ আমাদের এসব করতে বলেছেন'। (সূরা আ'রাফ, ৭: আয়াত ২৮)
একথা সবারই জানা যে, আমাদের যামানার সুফী ছাহেবদের মধ্যে জাহেলী যুগের ঐ সকল স্বভাব ঢুকে পড়েছে। তাঁরা লোকদের কাছে নিজেদের সুফীগিরি দেখানোর জন্য ভাল পোষাক ও ভাল খাবার ত্যাগ করেন। তাঁরা নিঃসঙ্গভাবে হুজরায় ও খানকায় বসে নিজেদের কপোলকল্পিত বিভিন্ন বিদ'আতী তরীকায় মুরাকাবা-মুশাহাদা, ইশ্ক ও যিকরে মশগুল থাকেন। অথচ তাঁরা জানেন না যে, এর দ্বারা তারা আল্লাহ বর্ণিত ঐ সমস্ত লোকদের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন- "যারা তাদের সারাটি জীবন বরবাদ করেছে অথচ ভাবছে যে, তারা অত্যন্ত ভাল কাজ করছে”। (সূরা কাহাফ, ১৮: আয়াত ১০৪)
📄 আল্লাহর নাম ও গুণাবলী বিকৃত করা
জাহেলী যুগের লোকদের এ স্বভাব ছিল। আল্লাহ তার প্রতিবাদ করে বলেন-
'উত্তম নামসমূহ আল্লাহর জন্যই, তোমরা তাঁকে সে সকল নামেই ডাকো এবং যারা তাঁর নামসমূহ বিকৃত করেছে তাদেরকে পরিত্যাগ করো। তারা অতিসত্ত্বর তাদের কৃতকর্মের ফল পাবে'। (সূরা আ'রাফ, ৭: আয়াত ১৮০)
আল্লাহর নাম বিকৃত করা অর্থ তাঁকে এমন নামে ডাকা যা উদ্দেশ্য নয়। অথবা যার দ্বারা কোনো বাজে অর্থ কল্পনা করা যেতে পারে। যেমন- কোনো বেদুঈনের ডাক 'ইয়া আবাল মাকারিম' (হে দানশীলদের পিতা) 'ইয়া আবয়াদাল ওয়াজহি' (হে সফেদ চেহারার অধিকারী) “ইয়া সাখিইউ' (হে দাতা) প্রভৃতি। এগুলো তারা তাদের ধারণা মাফিক বলতো। প্রকৃত অর্থে এগুলো আল্লাহর নাম নয়। অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন-
'ইতোপূর্বে বিভিন্ন জাতির নিকট যেমন (নবী) পাঠিয়েছিলাম, তেমনি আপনাকেও একটি জাতির নিকট পাঠিয়েছি, কেবল আমার অহীসমূহ তিলাওয়াত করে শুনাবার জন্য। অথচ তারা 'রহমান' কে অস্বীকার করেছে। আপনি বলে দিন যে, 'তিনিই আমার প্রতিপালক'। তিনি ব্যতীত আমার অন্য কোনো ইলাহ বা মা'বুদ নেই। তাঁর উপরই আমি নির্ভর করি এবং তাঁর কাছেই আমার প্রত্যাবর্তন’। (সূরা আর- রা’দ, ১৩: আয়াত ৩০)
কাতাদাহ, ইবনু জুরায়েজ ও মুকাতিল হতে বর্ণিত হয়েছে যে, উক্ত আয়াতটি মক্কায় মুশরিকদের সম্পর্কে নাযিল হয়। হুদায়বিয়ার সন্ধিকালে রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ হতে আলী রা. লিখিত পত্রে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ দেখে তাদের প্রতিনিধি সোহায়েল ইবন আমর বলে ওঠে আমরা ‘রহমান’ বলে কাউকে জানি না। কোনো কোন তাফসীরকারের মতে আবু জেহেল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘ইয়া আল্লাহ’ ইয়া রহমান’ বলতে শুনে বলে ওঠে যে, ‘মুহাম্মাদ আমাদেরকে বহু মা’বুদের উপাসনা করতে নিষেধ করে, অথচ সে নিজে দুই মা’বুদকে ডাকছে। জওয়াবে উক্ত আয়াত নাযিল হয়। কারো কারো মতে- যখন কাফিরদেরকে বলা হলো ‘তোমরা রহমানকে সিজদা করো’ তখন তারা বলে ‘রহমান’ কি বস্তু? এই সময় উক্ত আয়াত নাযিল হয়।
এভাবে আল্লাহর নামসমূহ বিকৃত করার সাথে সাথে তারা আল্লাহর গুণাবলীরও বিকৃত অর্থ গ্রহণ করেছিল। যেমন- আহমদ, বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসায়ী প্রভৃতি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রা. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- একদা আমি কা'বা শরীফের আড়ালে বসেছিলাম। এমন সময় একজন কুরায়শী ও দু'জন ছাকাফী অথবা একজন ছাকাফী ও দু'জন কুরায়শী সেখানে এলো। বিরাট দেহধারী ছিল তারা। কিন্তু মগজে কিছুই ছিল না। তাদের একজন বলল, 'আচ্ছা আমাদের এই নীরব কথাবার্তা কি আল্লাহ শুনতে পাচ্ছেন'?
উত্তরে অন্যজন বলল, যদি আমরা জোরে বলি তাহলে শুনতে পাবেন নইলে পাবেন না'। আরেকজন বলল, যদি তিনি আমাদের কথাবার্তার কিছু অংশ শুনে ফেলেন, তাহলে তিনি সবই শুনে নিবেন'। ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমি এই ঘটনা রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বর্ণনা করলে নিম্নের আয়াত নাযিল হয়-
'কিয়ামতের দিন আল্লাহর শত্রুরা স্ব-স্ব গাত্র চর্মকে লক্ষ্য করে বলবে, কেন তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ? উত্তরে তারা বলবে, আল্লাহ আমাদেরকে কথা বলবার ক্ষমতা দিয়েছেন, যেমন অন্য সকল বস্তুকে তিনি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাঁর কাছেই তোমরা সবাই ফিরে যাবে। তোমাদের চক্ষু, কর্ণ ও গাত্রচর্ম তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে, এই ভয়ে তোমরা সংগোপনে কথা বলে থাকো। আসলে তোমরা মনে করে থাকো যে, তোমরা যা করো তার বেশীকিছু আল্লাহ জানেন না। এটা প্রতিপালক সম্পর্কে তোমাদের একটা ভিত্তিহীন ধারণা মাত্র। এই ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংস করবে। অতঃপর তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে'। (সূরা হা-মীম সিজদাহ, ৪১: আয়াত ২১-২৩)
উপরোক্ত আলোচনায় আল্লাহর (শ্রবনকারী, দর্শনকারী প্রভৃতি) গুণাবলী সম্পর্কে তাদের বিকৃত অর্থ গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেল।
প্রিয় পাঠক! আপনি ভাল করেই জানেন যে, মুসলিম কালাম শাস্ত্রবিদগণের মধ্যে অধিকাংশ আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে জাহেলী যুগের লোকদের চাইতেও অধিক বিকৃত ধারণা করে থাকেন। তারা আল্লাহর এমন সব নাম রেখেছেন, যার কোনো দলীল আল্লাহ নাযিল করেননি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে থাকেন- আল্লাহর নিজস্ব কোনো গুণ নেই। কেউ বলেন, 'গুণাবলী তার সত্ত্বা হতে পৃথক বস্তু।' কেউ বলেন, আল্লাহর কিতাবসমূহ আল্লাহর কালাম নয়। তারা 'কালামে নাফসী' নামে আল্লাহর পৃথক কালাম প্রমাণ করতে চান। তারা বলেন যে, আল্লাহ কখনোই কোনো নবীর সংগে কালাম করেননি। এইরূপ বহু ধরনের ইলহাদ ও বাজে বিতর্কে তাদের বই-কিতাবসমূহ পরিপূর্ণ করা হয়েছে। তাঁরা দাবী করেন যে, উপরোক্ত আয়াত কেবলমাত্র জাহেলী যুগের লোকদের জন্য। অথচ তারা একথা বুঝতে নারাজ যে, এ আয়াত সমস্ত মানবজাতিকে শামিল করে। আল্লাহ যাকে দেখবার মত চোখ ও বুঝবার মত মগজ দিয়েছেন, তিনি নিশ্চয়ই ঐ সব লোকদের বই-পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট দলীলসমূহ দ্বারা রচিত হকপন্থী আলেম- বিদ্বানদের বই-কিতাবসমূহ পড়বেন এবং আল্লাহর প্রকৃত পরিচয় লাভে ধন্য হবেন।
টিকাঃ
৯. এখানে বিশেষ করে অদ্বৈতবাদী মুসলিম দার্শনিক ও তাদের অনুসারি তথাকথিত মারেফতী পরী ফকিরদের কথাই বলা হয়েছে। না, শুধু তা নয়, বরং এখানে জাহমিয়া, মু'তাযিলা, আশায়েরা ও মাতুরিদিয়্যা সম্প্রদায়কেও বুঝানো হয়েছে। [সম্পাদক]
📄 আল্লাহর প্রতি বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি আরোপ করা
জাহেলী যুগের আরবরা ফেরেশতাদের আল্লাহর কন্যা বলতো। খৃষ্টানরা ঈসা মসীহ আলাইহিস সালামকে ও ইয়াহূদীরা ওযায়ের আলাইহিস সালামকে আল্লাহর পুত্র বলতো। একদল দার্শনিক আল্লাহ থেকে আকল বা বিবেক জন্ম হওয়ার কথা কল্পনা করে থাকে। আল্লাহ এসব থেকে নিজের পবিত্রতা ঘোষণা করে কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বহু আয়াত নাযিল করেছেন। যেমন এক জায়গায় আল্লাহ তা'আলা বলেন-
'তারা আল্লাহর সঙ্গে জিনকে শরীক করে, অথচ তিনিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তারা আল্লাহর জন্য ছেলে-মেয়ের অলীক কল্পনার জন্ম দিয়েছে। তারা যা বলে আল্লাহ সেব থেকে উর্দ্ধে ও সম্পূর্ণ পবিত্র। আসমান ও যমীনের স্রষ্টা তিনি। কেমন করে তাঁর সন্তান হতে পারে? যখন তার নেই কোনো স্ত্রী। তিনিই সব কিছুকে সৃষ্টি করেছেন এবং সকল বিষয়ে জ্ঞানী'। (সূরা আল-আন'আম, ৬: আয়াত ১০০-১০২)
তারা আল্লাহর প্রতি স্বজনপ্রীতি আরোপ করেছিল। অথচ তিনি এসব থেকে উর্দ্ধে। যেমন আল্লাহ বলেন-
'ইয়াহুদী ও খৃষ্টানেরা দাবী করে থাকে যে, আমরা আল্লাহর বেটা ও তাঁর প্রতি প্রিয়জন। (হে নবী) আপনি ওদেরকে বলে দিন যে, যদি তাই হবে তাহলে অপরাধের জন্য তোমাদেরকে আযাব দেন কেন? তোমরা অন্যান্য সৃষ্টিকুলের মত সাধারণ মানুষ মাত্র। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান করেন ও যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিয়ে থাকেন। আসমান-যমীন ও তন্মধ্যস্থিত সকল কিছুর মালিকানা কেবলমাত্র তাঁরই এবং তাঁর কাছেই সকলকে ফিরে যেতে হবে। (সূরা আল- মায়েদাহ, ৫: আয়াত ১৮)
তারা আল্লাহর সৃষ্ট জীবকে আল্লাহর মূল সত্ত্বার অংশ সাব্যস্ত করেছিল। যেমন আল্লাহ বলেন-
"তারা আল্লাহর বান্দাদেরকে তাঁর সত্ত্বার অংশ হিসাবে গণ্য করেছিল”। (সূরা আয-যুখরুফ, ৪৩: আয়াত ১৫)
কেননা তারা আল্লাহর ছেলে- মেয়ে সাব্যস্ত করেছিল এবং ছেলে- মেয়েরা বাপের সত্তার অংশ বৈকি। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'নিশ্চয়ই ফাতেমা আমার দেহেরই একটি টুকরা'। (হাদীস)
কালবী বলেন, এ আয়াত যিনদীকদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। যারা বলতো, আল্লাহ ও ইবলীস দুইজন শরীক। আল্লাহ জ্যোতি, মানুষ ও জীবজন্তুসমূহের স্রষ্টা এবং ইবলীস অন্ধকার, হিংস্র, শ্বাপদ, সর্প ও বিচ্ছুসমূহের স্রষ্টা। কেউ কেউ বলতো যে, আল্লাহ ও জিনের মাঝে বিয়ের ফলে ফেরেশতাদের জন্ম হয়। আল্লাহ তীব্র ভাষায় এর প্রতিবাদ করেন। বলেন-
‘তারা আল্লাহ ও জিনের মাঝে বংশ সম্পর্ক কল্পনা করেছে। অথচ জিনেরা জানে যে, তাদেরকে আল্লাহর সম্মুখে হাজির হতে হবে। আল্লাহ এদের এই সব অলীক বর্ণনাসমূহ হতে সম্পূর্ণ পবিত্র’। (সূরা আছ-ছাফফাত, ৩৭: আয়াত ১৫৮-১৫৯)
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়ার 'আল জাওয়াবুছ ছহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ' ও 'তাফসীরু সূরাতিল ইখলাছ' গ্রন্থসমূহে।
টিকাঃ
১০. বুখারী, হাদীস নং ২৯৪৩; মুসলিম, ২৪৪৯।
১১. পুণরুক্তি, পূনরাবৃত্তি ও একই মর্মের উল্লেখিত অনেক আয়াতের উদ্ধৃতি ও তরজমা কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে বাদ দেওয়া হলো। (অনুবাদক)
📄 স্রষ্টা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ হতে সৃষ্টজীবের বিরত থাকা
নাসারাদের সাধু সন্যাসীরা স্ত্রী গ্রহণ ও সন্তান পালন হতে বিরত থাকতো এবং বলতো যে, ‘কামালিয়াত’ হাছিল করতে ইচ্ছুক পাদ্রী পুরোহিত ও সাধু-সন্যাসীদেরকে ঈসা মসীহের অনুকরণে স্ত্রী সংসর্গ হতে দূরে থাকতে হবে। এদের নির্বুদ্ধিতা ও বিভ্রান্তি বর্তমানে এতদূর অগ্রসর হয়েছে যে, তারা আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈবাহিক জীবন সম্পর্কেও আপত্তি তুলতে চায়। ত্রয়োদশ হিজরী শতকের ইরাকী কবি আব্দুল বাকী ফারুকী জনৈক খৃষ্টান পাদ্রীর সমালোচনার জওয়াবে কত সুন্দরই না বলেছেন-
‘তুমি তোমার পাদ্রী নেতাদের বলো যে, তোমরা বিবাহকে আল্লাহভীরু ও ত্রুটিহীন লোকদের জন্য একটি ত্রুটি বলে মনে করো। অথচ তোমরা তিন আল্লাহতে বিশ্বাসী ত্রিত্ববাদীরা একথা বেমালুম ভুলে বসেছো যে, মরিয়মকে তোমরা আল্লাহর স্ত্রী বানিয়েছো।' (নাউযুবিল্লাহ)
টিকাঃ
১২. লেখকের শেষের প্যারাটি অপ্রয়োজনে বাদ দেওয়া হলো। (অনুবাদক)