📄 আল্লাহর কালামের মুল বক্তব্য হেরফের করা
আল্লাহর কালামের মূল তাৎপর্য উপলব্ধি করা সত্ত্বেও নিজেদের স্বার্থে তারা বিকৃত ব্যাখ্যা করতো। আজকাল এ ধরণের লোকের মোটেই অভাব নেই যারা আল্লাহর কালামের মনগড়া ব্যাখ্যা দিতে সদা প্রস্তুত।
📄 দ্বীনি কিতাবসমূহে তাহরীফ-বিকৃতিসাধন
জাহেলী যুগের আলিমরা মূল ধর্মীয় গ্রন্থসমূহের পরিবর্তন ঘটাতো।
আল্লাহ ইয়াহুদী আলিমদের চরিত্র বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন :
তাদের মধ্যে অনেক অশিক্ষিত লোক আছে, যারা আশা-আকাংখা ব্যতীত গ্রন্থ সম্পর্কে জানে না। শুধু কল্পনা রচনা করে থাকে। তাদের জন্য ধ্বংস, যারা স্ব হস্তে গ্রন্থ রচনা করে এবং বলে যে, এটা আল্লাহর নিকট হতে আগত। এর দ্বারা তারা সামান্য মুল্য অর্জন করেছে। তাদের হাত যা লিখেছে তজ্জন্যে তাদের প্রতি আক্ষেপ এবং তারা যা উপার্জন করেছে তজ্জন্যে তাদের প্রতি আক্ষেপ। (সূরা আল-বাক্বারাহ, ২: আয়াত ৭৮-৮৯)
যারা বর্তমান যুগের জজ-ম্যাজিষ্ট্রেটদের দিকে দৃষ্টি দিবেন, তারা স্পষ্ট দেখতে পাবেন যে, কিভাবে এরা আইনকে খেল-তামাসায় পরিণত করছে। তারা ইচ্ছামত কুরআন ও সুন্নাহর ফয়সালাকে পরিবর্তন করে এবং ঘুষের বিনিময়ে সত্যকে মিথ্যায় পরিণত করে। এইভাবে অসংখ্য দুর্নীতি যার কোনো সীমা পরিসীমা নেই। যা এ যুগের সবচেয়ে বড় মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এমনিভাবে বিদ'আতী ও কবর পূজারীর দল তো আছেই যাদের সম্বন্ধে অন্যত্র আলোচনা এসেছে।
টিকাঃ
৪. তুর্কী খিলাফতের আমলে এটা লেখা হয়। (অনুবাদক)।
📄 দ্বীনের হেদায়েত ছেড়ে দ্বীন বিরোধী পথের অনুগমন
এ ছিল জাহেলী যুগের এক আজব স্বভাব। তারা খাটি দ্বীনের সংগে কঠিন শত্রুতায় লিপ্ত হতো। অন্যদিকে কাফিরদের দ্বীনের সংগে পূর্ণ প্রীতি স্থাপন করতো। যেমন ইয়াহুদীরা রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংগে করেছিল। তিনি মূসার (আঃ) দ্বীন (উহার মূলনীতি) নিয়ে এসেছিলেন, অথচ তারা যাদু বিদ্যার বইসমূহ অনুসরণ করতে লাগলো যা ছিল ফিরাউনের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। মুসলিমদের মধ্যে আজকাল এরূপ লোকের কোনই কমতি নেই যার সুন্নাহ ত্যাগ করেছে। এমনকি তার সংগে শত্রুতাও করে থাকে। অথচ তারা দার্শনিকদের কথা ও নির্দেশসমূহের সহায়তা করে।
📄 অন্যের অনুসৃত সত্যকে অস্বীকার
যখন তারা বিভিন্ন ফিরকায় বিভক্ত হয়, তখন প্রতিটি ফিরকা তাদের গৃহীত মতামতকে চূড়ান্ত সত্য বলে গ্রহণ করতো এবং তাদের বিপক্ষীয় দলের নিকট বাস্তবিক কোনো সত্য থাকলেও তাকে অস্বীকার করতো।
কেননা পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেন:
'ইয়াহূদীরা বলতো খৃষ্টানদের কোনো ভিত্তি নেই। তেমনি খৃষ্টানেরা বলতো ইয়াহুদীরা কোনো ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। অথচ তারা সবই আল্লাহর কিতাব (তাওরাত ও ইঞ্জীল) পড়তো। এমনি ধরণের কথা কেবল মুর্খরাই বলে থাকে। আল্লাহ তাদের মধ্যকার এই বিবাদ ফয়সালা করবেন কেয়ামতের দিন'। (সূরা আল-বাক্বারা, ২ : আয়াত ১১৩)
জাহেরী যুগের উপরোক্ত স্বভাব নিঃসন্দেহে বর্তমান যুগেও বহু লোকের মধ্যে বিদ্যমান। বিশেষ করে বিভিন্ন মাযহাবী নেতাদের মধ্যে। কেননা প্রত্যেক মাযহাবপন্থীই মনে করেন যে, দ্বীন কেবল তার মাযহাবেই আছে, অন্যের মধ্যে নয়। এজন্যই তো আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন- 'प्रत्यেক দলই নিজেরটা নিয়ে সন্তুষ্ট।'
কবি বলেন :
"প্রত্যেকেই লাইলীর প্রেমের দাবীদার। অথচ লাইলী তাদের কাউকে স্বীকার করে না।"
বুদ্ধিমানের কাজ হলো দলীল তালাশ করা। যে বিষয়ে সঠিক দলীল পাওয়া যাবে সেটাই সত্য ও গ্রহণযোগ্য। পক্ষান্তরে যার উপরে কোনো দলীল প্রমাণ পাওয়া যাবে না তা পিছনে ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, দুনিয়ার প্রত্যেকের কথাই গ্রহণ বা বর্জন যোগ্য কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা ব্যতীত।