📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 যাদুর অলৌকিক ক্রিয়া কান্ডকে অভ্রান্ত দলীল হিসাবে গ্রহণ করা

📄 যাদুর অলৌকিক ক্রিয়া কান্ডকে অভ্রান্ত দলীল হিসাবে গ্রহণ করা


তাদের অন্যতম স্বভাব ছিল যে, তারা আল্লাহর কিতাবের বদলে যাদুর কিতাবসমূহ সংগ্রহ করতো।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
'যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল এলেন, যিনি তাদের নিকট ইতোপূর্বে নাযিলকৃত কিতাব তাওরাতের সত্যায়নকারী, তখন যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের মধ্যকার একটি দল আল্লাহর কিতাবকে ছুড়ে ফেলে দিল। তারা যেন কিছুই জানে না। সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়তান যা তাদেরকে পড়ে শুনাতো, তারা তারই অনুসরণ করতো। সুলায়মান অবিশ্বাসী ছিলেন না। বরং শয়তানই অবিশ্বাসী কাফির ছিল। তারা লোকদেরকে যাদু শিখাতো। অধিকন্তু তারা অনুসরণ করতো হারুত ও মারুত নামক দুই ফেরেশতার উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার। তারা কাউকে কিছু শিখাবার পূর্বে বলে দিত যে, আমরা ফিত্নার মধ্যে আছি। অতএব, তোমরা (আমাদের কথায় ও কাজের ফলে) কাফির হয়ে যেয়ো না। (এতদসত্ত্বেও) লোকেরা তাদের নিকট থেকে শিখে নিতো এমনকি যার দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো সম্ভব হয়। যদিও আল্লাহর হুকুম ব্যতীত তারা কারো কোনরূপ ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না। (সূরা বাক্বারা, ২: আয়াত ১০১-১০২)

উপরোক্ত জাহেলী স্বভাব আজকাল বহু লোকের মধ্যে দেখা যায়। বিশেষ করে যারা সাধু লোকদের বংশধর কিংবা তাদের দিকে নিজেদেরকে সম্পর্কিত করে। যদিও তারা সেই সব সৎ লোকদের আমল-আখলাক হতে বহু দূরে, তথাপি তাদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশী। যাদুর অলৌকিক ক্রিয়া-কান্ড তারা দেখায়, যেগুলোকে শরীয়ত সম্পূর্ণরূপে বাতিল ঘোষণ করেছে। যেমন- বিসাক্ত সাপ ধরে ফেলা, কাউকে অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলা, আগুনের মধ্যে প্রবেশ করা প্রভৃতি। তারা শরীয়তকে অগ্রাহ্য করেছে। আল্লাহর কিতাবকে পিছনে নিক্ষেপ করেছে এবং শয়তানের অনুসরণ করেছে। অথচ এগুলিকে তারা নিজেদের কেরামতি বলে দাবী করেছে। যদিও কোনো ফাসিকের দ্বারা কেরামত প্রকাশ পেতে পারে না। যারা উপরোক্ত ক্রিয়া-কান্ড দেখায় তাদের ফাসেকী স্পষ্ট। তারা দ্বীনকে খেল-তামাসার বস্তু বানিয়ে নিয়েছে।

এদেরই উদ্দেশ্যে আল্লাহ বলেন-
'এরা দুনিয়াতে কেবল পন্ডশ্রম করছে অথচ ভাবছে যে, তারা খুবই ভাল কাজ করছে’। (সূরা কাহাফ, ১৮ : আয়াত ১০৪)

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 বংশ সম্বন্ধ পরিবর্তন করা

📄 বংশ সম্বন্ধ পরিবর্তন করা


তারা নিজেদের মূল বংশ সম্বন্ধে পরিবর্তন করে ফেলত। কখনো ইবরাহীমের (আঃ) দিকে সম্পর্কিত করতো এবং সেজন্য নিজেদেরকে মুসলিম বলে দাবী করতো অথচ প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করতো। এবং ইসলাম বিরোধীদের দিকে নিজেদের সম্বন্ধ গড়তো।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 আল্লাহর কালামের মুল বক্তব্য হেরফের করা

📄 আল্লাহর কালামের মুল বক্তব্য হেরফের করা


আল্লাহর কালামের মূল তাৎপর্য উপলব্ধি করা সত্ত্বেও নিজেদের স্বার্থে তারা বিকৃত ব্যাখ্যা করতো। আজকাল এ ধরণের লোকের মোটেই অভাব নেই যারা আল্লাহর কালামের মনগড়া ব্যাখ্যা দিতে সদা প্রস্তুত।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 দ্বীনি কিতাবসমূহে তাহরীফ-বিকৃতিসাধন

📄 দ্বীনি কিতাবসমূহে তাহরীফ-বিকৃতিসাধন


জাহেলী যুগের আলিমরা মূল ধর্মীয় গ্রন্থসমূহের পরিবর্তন ঘটাতো।
আল্লাহ ইয়াহুদী আলিমদের চরিত্র বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন :
তাদের মধ্যে অনেক অশিক্ষিত লোক আছে, যারা আশা-আকাংখা ব্যতীত গ্রন্থ সম্পর্কে জানে না। শুধু কল্পনা রচনা করে থাকে। তাদের জন্য ধ্বংস, যারা স্ব হস্তে গ্রন্থ রচনা করে এবং বলে যে, এটা আল্লাহর নিকট হতে আগত। এর দ্বারা তারা সামান্য মুল্য অর্জন করেছে। তাদের হাত যা লিখেছে তজ্জন্যে তাদের প্রতি আক্ষেপ এবং তারা যা উপার্জন করেছে তজ্জন্যে তাদের প্রতি আক্ষেপ। (সূরা আল-বাক্বারাহ, ২: আয়াত ৭৮-৮৯)

যারা বর্তমান যুগের জজ-ম্যাজিষ্ট্রেটদের দিকে দৃষ্টি দিবেন, তারা স্পষ্ট দেখতে পাবেন যে, কিভাবে এরা আইনকে খেল-তামাসায় পরিণত করছে। তারা ইচ্ছামত কুরআন ও সুন্নাহর ফয়সালাকে পরিবর্তন করে এবং ঘুষের বিনিময়ে সত্যকে মিথ্যায় পরিণত করে। এইভাবে অসংখ্য দুর্নীতি যার কোনো সীমা পরিসীমা নেই। যা এ যুগের সবচেয়ে বড় মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এমনিভাবে বিদ'আতী ও কবর পূজারীর দল তো আছেই যাদের সম্বন্ধে অন্যত্র আলোচনা এসেছে।

টিকাঃ
৪. তুর্কী খিলাফতের আমলে এটা লেখা হয়। (অনুবাদক)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px