📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 না বুঝার অজুহাত

📄 না বুঝার অজুহাত


জাহেলী যুগের লোকেরা আল্লাহর অহীর তাৎপর্য বুঝতে না পারার অজুহাত দিয়ে ইসলাম থেকে দূরে থাকতে চাইতো। যেমন আল্লাহ রাববুল 'আলামীন বলেনঃ
'যখন তোমাদের কাছে তোমাদের ইচ্ছার বিরোধী কোনো দাওয়াত নিয়ে রাসূল আগমন করেন, তখন তোমরা অহংকার দেখাও। অতঃপর তোমাদের একদল তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে, অন্য দল তাকে হত্যা করে। তারা বলে যে, আমাদের অন্তরগুলো আচ্ছাদিত, বরং তাদের এই অবিশ্বাসের জন্য আল্লাহর তাদেরকে লা'নত করেন'। (সূরা বাক্বারা, ২: আয়াত ৮৭-৮৮)

অন্যত্র পবিত্র কুর'আনের প্রতি মানুষের আচরণ প্রসঙ্গে বলেনঃ
'অতঃপর তাদের অধিকাংশ তা হতে মুখ ফিরিয়ে নিল, তারা উহার বাণীর প্রতি কর্ণপাত করলো না। তারা বলত যে, তোমরা আমাদেরকে যেদিকে আহবান করছো ঐ সব বিষয়ের জন্য আমাদের অন্তরগুলি আচ্ছাদিত হয়ে আছে, আমাদের কানগুলি বধির হয়ে গেছে এবং তোমাদের ও আমাদের মাঝে একটি পর্দা পড়ে গেছে। অতএব তোমরা তোমাদের কাজ করো, আমরা আমাদের কাজ করি। হে নবী! আপনি বলুন যে, আমি তোমাদের মত একজন মানুষ। (পার্থক্য এতটুকুই যে) আমার নিকট 'অহী' আসে। নিশ্চয়ই তোমাদের রব মাত্র একজন। অতএব, তাঁর প্রতি সোজা হয়ে চলো এবং ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই মুশরিকদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য'। (সূরা হা-মীম সাজদাহ্ / ফুছছিলাত, ৪১: আয়াত ৪-৬)

বিভিন্ন খোঁড়া অজুহাত দেখিয়ে তারা রাসূলকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরাশ করতে চাইতো, যাতে তিনি তাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছানো হতে বিরত থাকেন এবং তাদের সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যায়। উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস রা. কাতাদাহ্ রা. ও সুদ্দী রা. বলেন- তাদের অন্তরসমূহ আবৃত অর্থাৎ ইলম ও জ্ঞানে ভরপুর। অবিশ্বাসীরা মনে করতো যে, তাদের কাছে যে জ্ঞান আছে তাই-ই যথেষ্ট। (অতএব নবীর কি দরকার)। কেউ কেউ উক্ত আয়াতের তাফসীর করেছেন যে, কাফিররা মনে করতো যে, তাদের অন্তরগুলি জ্ঞানের ভান্ডার। অতএব, তাদের পক্ষে কোনো মূর্খ নবীর অনুসরণ করা মোটেই ঠিক নয়।

এমনিভাবে মাদায়েনবাসীরা শু'আইব আলাইহিস সালামকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল-
‘হে শুআইব! তুমি যে সব কথা বলো ওসবের কিছু আমরা বুঝি না। আমরা তোমাকে আমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা দুর্বল দেখি। যদি তোমার কওম না থাকতো তাহলে আমরা তোমাকে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করতাম। আর তুমি আমাদের উপর মোটেই ক্ষমতাবান নও’। (সূরা হুদ, ১১: আয়াত ৯১)

উপরোক্ত সমস্ত আয়াতগুলি প্রায় একই অর্থ বহন করছে যে, অবিশ্বাসীরা নিজেদের হঠকারিতাকে ঢেকে রাখবার জন্য অহী বুঝতে না পারার খোঁড়া অজুহাত পেশ করতো। আল্লাহ তাদের এই মিথ্যা অজুহাতকে বার বার মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন বিভিন্ন আয়াতসমূহে এবং বর্ণনা করেছেন যে, এই না বোঝার অর্থ আসলে ‘বুঝতে না চাওয়া’, ‘বুঝতে না পারা’ নয়।

কবি মা'আরী বলেছেন:
তারকারাজির সৌন্দর্য অনুধাবন করতে চক্ষু অক্ষম। এই অক্ষমতার জন্য চক্ষু দায়ী, তারকা নয়।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 দলীয় নীতির বিরোধী হওয়ায় সত্যকে অস্বীকার করা

📄 দলীয় নীতির বিরোধী হওয়ায় সত্যকে অস্বীকার করা


জাহেলী যুগের লোকদের অন্যতম স্বভাব ছিল এই যে, তারা কেবল সেই সকল সত্যকে স্বীকার করতো, যেগুলি তাদের গোত্র বা সম্প্রদায় মেনে নিত। আল্লাহ তা'আলা ইয়াহুদীদের স্বভাব বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন :
'যখন তাদেরকে কুরআনের প্রতি ঈমান আনতে বলা হলো তখন তারা বললো- আমাদের নিকট যে কিতাব নাযিল হয়েছে কেবল তার উপরেই আমরা ঈমান আনবো। (এই ভাবে) তারা এর বাইরে সব কিছুকে অস্বীকার করে। অথচ কুরআন হল সত্য এবং তাদের নিকট ইতোপূর্বে আগত কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী। (হে নবী!) আপনি বলে দিন যে, তোমরা যদি (তাওরাতের প্রতি) সত্যিকারের বিশ্বাসী হয়ে থাকো তাহলে কেন ইতোপূর্বে আল্লাহর নবীদেরকে হত্যা করেছিলে?' (সূরা আল-বাক্বারা, ২ : আয়াত ৯১)

এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথার উত্তরে স্পষ্ট ভাষায় তারা বলে দিয়েছে যে, তারা চিরকাল তাওরাতের ও তার আদেশ-নিষেধের উপরই ঈমান রাখবে। এ কথাও পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে, কুরআনের উপরে তারা ঈমান আনতে চায় না এই হিংসা ও হঠকারিতার কারণে যে তা তাদের বর্ণের মধ্যে কারোর উপরে নাযিল হয়নি।

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 যাদুর অলৌকিক ক্রিয়া কান্ডকে অভ্রান্ত দলীল হিসাবে গ্রহণ করা

📄 যাদুর অলৌকিক ক্রিয়া কান্ডকে অভ্রান্ত দলীল হিসাবে গ্রহণ করা


তাদের অন্যতম স্বভাব ছিল যে, তারা আল্লাহর কিতাবের বদলে যাদুর কিতাবসমূহ সংগ্রহ করতো।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
'যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল এলেন, যিনি তাদের নিকট ইতোপূর্বে নাযিলকৃত কিতাব তাওরাতের সত্যায়নকারী, তখন যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের মধ্যকার একটি দল আল্লাহর কিতাবকে ছুড়ে ফেলে দিল। তারা যেন কিছুই জানে না। সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়তান যা তাদেরকে পড়ে শুনাতো, তারা তারই অনুসরণ করতো। সুলায়মান অবিশ্বাসী ছিলেন না। বরং শয়তানই অবিশ্বাসী কাফির ছিল। তারা লোকদেরকে যাদু শিখাতো। অধিকন্তু তারা অনুসরণ করতো হারুত ও মারুত নামক দুই ফেরেশতার উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার। তারা কাউকে কিছু শিখাবার পূর্বে বলে দিত যে, আমরা ফিত্নার মধ্যে আছি। অতএব, তোমরা (আমাদের কথায় ও কাজের ফলে) কাফির হয়ে যেয়ো না। (এতদসত্ত্বেও) লোকেরা তাদের নিকট থেকে শিখে নিতো এমনকি যার দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো সম্ভব হয়। যদিও আল্লাহর হুকুম ব্যতীত তারা কারো কোনরূপ ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না। (সূরা বাক্বারা, ২: আয়াত ১০১-১০২)

উপরোক্ত জাহেলী স্বভাব আজকাল বহু লোকের মধ্যে দেখা যায়। বিশেষ করে যারা সাধু লোকদের বংশধর কিংবা তাদের দিকে নিজেদেরকে সম্পর্কিত করে। যদিও তারা সেই সব সৎ লোকদের আমল-আখলাক হতে বহু দূরে, তথাপি তাদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশী। যাদুর অলৌকিক ক্রিয়া-কান্ড তারা দেখায়, যেগুলোকে শরীয়ত সম্পূর্ণরূপে বাতিল ঘোষণ করেছে। যেমন- বিসাক্ত সাপ ধরে ফেলা, কাউকে অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলা, আগুনের মধ্যে প্রবেশ করা প্রভৃতি। তারা শরীয়তকে অগ্রাহ্য করেছে। আল্লাহর কিতাবকে পিছনে নিক্ষেপ করেছে এবং শয়তানের অনুসরণ করেছে। অথচ এগুলিকে তারা নিজেদের কেরামতি বলে দাবী করেছে। যদিও কোনো ফাসিকের দ্বারা কেরামত প্রকাশ পেতে পারে না। যারা উপরোক্ত ক্রিয়া-কান্ড দেখায় তাদের ফাসেকী স্পষ্ট। তারা দ্বীনকে খেল-তামাসার বস্তু বানিয়ে নিয়েছে।

এদেরই উদ্দেশ্যে আল্লাহ বলেন-
'এরা দুনিয়াতে কেবল পন্ডশ্রম করছে অথচ ভাবছে যে, তারা খুবই ভাল কাজ করছে’। (সূরা কাহাফ, ১৮ : আয়াত ১০৪)

📘 ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব 📄 বংশ সম্বন্ধ পরিবর্তন করা

📄 বংশ সম্বন্ধ পরিবর্তন করা


তারা নিজেদের মূল বংশ সম্বন্ধে পরিবর্তন করে ফেলত। কখনো ইবরাহীমের (আঃ) দিকে সম্পর্কিত করতো এবং সেজন্য নিজেদেরকে মুসলিম বলে দাবী করতো অথচ প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করতো। এবং ইসলাম বিরোধীদের দিকে নিজেদের সম্বন্ধ গড়তো।

ফন্ট সাইজ
15px
17px