📘 ইসলাম ও চরমপন্থা > 📄 ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত কতিপয় চরমপন্থী দল ও গ্রুপ

📄 ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত কতিপয় চরমপন্থী দল ও গ্রুপ


সম্প্রতি বিগত কয়েক দশকে কতিপয় আরব ও মুসলিম দেশে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেঃ ইসলামী প্রতিরোধ দল গঠন করার ক্ষেত্রে, যারা নিজেদের নাম দিয়েছে "জিহাদী দল"। তারা জিহাদ বলতে প্রথমতঃ বুঝাতে চায়- সেই সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদ করাকে যারা মুসলিম উম্মাহকে শাসন করছে আল্লাহর দেয়া বিধানের পরিবর্তে মানব রচিত আইনের দ্বারা অথচ মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন সর্বক্ষেত্রে তাঁর দেয়া বিধান মোতাবেক বিচার-ফয়সালা করতে হবে- তা দীনী বিষয় হোক যেমন ইবাদত বা দুনিয়াবী বিষয়ই হোক যেমন মুয়ামালাত (পারস্পরিক লেন-দেন ইত্যাদি)। মহান আল্লাহ বলেনঃ يأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ - (البقرة : ۱۸۳)

"হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে।" (সূরা বাকারা: ১৮৩)

অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ يأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ القصاص - (البقرة : (۱۷۸)

"হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর কিসাস ফরজ করা হয়েছে।" (সূরা বাকারা : ১৭৮)

অতএব রোযার মতই কিসাসের বিধান বাস্তবায়ন করতে হবে, কারণ উভয়টিই ফরজ।

মহান আল্লাহ সূরা মায়েদায় ইরশাদ করেনঃ يأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ - (المائدة : (٦)

"হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাযে দন্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসেহ কর এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত কর।” (সূরা মায়েদা: ৬)

মহান আল্লাহ উক্ত সূরাতে আরো ইরশাদ করেনঃ السَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالاً مِّنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ - (المائدة : ۳۸)

"আর পুরুষ চোর এবং নারী চোর তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও তাদের অর্জনের প্রতিদান ও আল্লাহর পক্ষ থেকে শিক্ষণীয় আজাব স্বরূপ এবং আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" (সূরা মায়েদা: ৩৮)

আমরা কেন পাক-পবিত্রতার আয়াতকে মানছি আর চুরির বিধানের আয়াতকে ফ্রিজ করে রাখছি? অথচ দুটি আয়াতই মহান আল্লাহর নির্দেশ হিসেবে আমাদের নিকট এসেছে!

মিসর, আলজিরিয়া সহ অন্যান্য দেশে জিহাদী সংগঠনগুলো অত্যাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে, বরং তাদের দৃষ্টিতে কাফের শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে, এদের সাথে ওয়াজ, নসিহত ও আলাপ-আলোচনার পথ ব্যর্থ হবার পর। তারা এদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ ও চরমপন্থা ছাড়া আর অন্য কোন পথই খুঁজে পায়নি। তারা বলেঃ এসব শাসকদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে যদি কোন লাভ হত তাহলে অবশ্যই আমরা আলাপ-আলোচনা করতাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হল তরবারির মোকাবিলা কলম দ্বারা করা যায় না এবং অস্ত্রের ভাষার বিরুদ্ধে মুখের ভাষায় কোন কাজ হয় না।

📘 ইসলাম ও চরমপন্থা > 📄 চরমপন্থী গ্রুপসমূহের মোকাবেলা করার পন্থা

📄 চরমপন্থী গ্রুপসমূহের মোকাবেলা করার পন্থা


অনেকেই "চরমপন্থার উত্থানের" বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা পর্যালোচনা এবং গবেষণা করেছেন এবং এর প্রতিকারের বিষয়েও কথা বলেছেন।

এসব গবেষণা দ্বারা একথা পরিস্কার হয়ে গেছে যে, শুধুমাত্র মুসলিম দেশগুলোতেই চরমপন্থার উত্থান ঘটেনি বরং এটির উত্থান বিশ্বব্যাপী। খোদ আমেরিকাতেও বর্তমানে এর অস্তিত্ব বিদ্যমান। ইউরোপে (বৃটেন, ইতালী, স্পেন) এবং এশিয়াতে (ভারত, জাপান এবং স্বয়ং ইসরাইলে) এর অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলোতে।

আমাদের নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল- আমরা আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে কিভাবে এর মোকাবিলা করব বিশেষ করে বিভিন্ন কারণে এর শিকড় অনেক গভীরে পৌঁছে গেছে, তন্মধ্যে আমাদের দেশগুলোতে পরাশক্তির চরম জুলুম ও নির্যাতন। এরমধ্যে অন্যতম হল ফিলিস্তীন সমস্যার ব্যাপারে, এমন এক জাতির সমস্যা যাদের ভূমিকে জবরদখল করে নেয়া হয়েছে, যাদেরকে ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিজরত করতে বাধ্য করা হয়েছে, তাদের উপর ভিতর-বাহির সবদিক থেকে চাপ প্রয়োগ করে দখলদারকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য করা হয়েছে। গাজা এবং পশ্চিম তীরের অবশিষ্ট এলাকাগুলোও দখল করে নেয়া হচ্ছে। তাদের উপর আকাশ, ভূমি, স্থল সর্বত্র নজরদারী করা হচ্ছে, বোমা মেরে সবকিছু ধ্বংস করা হচ্ছে, তাদের প্রতিটি নড়াচড়া পর্যন্ত মনিটরিং করা হচ্ছে, তাদেরকে পেটে-ভাতে মারার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা সকাল-বিকাল টেলিভিশনের পর্দায় দেখতে পাচ্ছি কিভাবে ঘরবাড়ি গুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, তাদেরকে কিভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেয়া হচ্ছে। বিশ্ববাসী এই দৃশ্য চোখ বুজে দেখে যাচ্ছে। নিরাপত্তা পরিষদের সামান্যতম টনক নড়ছে না। আরবরা কবরে শায়িতদের মত নিশ্চুপ হয়ে আছে- আর এতকিছুর পরও অত্রাঞ্চলের শাসকরা আমেরিকার সাথে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে- অথচ সবকিছুর পেছনে আমেরিকার অন্ধ সমর্থন অব্যাহত রয়েছে, সামরিক-অর্থনৈতিক-প্রযুক্তিগত দিকসহ সব ব্যাপারে ইসরাইলের প্রতি। এছাড়াও আরো জুলুম-অত্যাচার ও নিপীড়ন দেখুন আফগানিস্তান ও ইরাকে।

চরমপন্থার আরেকটি কারণ হল- আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে শাসকরা চরম জুলুম-অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ পরিহার করে তাঁর বিধানের প্রতি কোন রকমের তোয়াক্কা না করে, আদল-ইনসাফের প্রতি কোন রকমের ভ্রুক্ষেপ না করে, জনগণের আশা-আকাংখার প্রতি, তাদের সম্মানজনক রুটি-রুজি ও জীবনোপকরণের দিকে সামান্যতম নজর না দিয়ে স্বৈরাচারী শাসন চালিয়ে যাচ্ছে।

এসবই চরমপন্থার কারণ নিঃসন্দেহে কিন্তু এসবই আসল কারণ নয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কারণও নয় যেমনটি কতিপয় গবেষক মনে করেন।

যারাই এসব ইসলামী দল বা গ্রুপগুলোর উপর গভীর দৃষ্টি দিয়ে দেখবে তারাই দেখতে পাবেন যে, এর পেছনে রয়েছে চিন্তাগত কারণ- এটিই সবচেয়ে বেশী প্রভাব বিস্তারকারী। এটির প্রভাবেই এসব যুবকরা তাদের পূর্বসূরী খাওয়ারিজদের পথ ধরেছে, যাদের ব্যাপক পরিচিতি ছিল তাহাজ্জুদগুজার, (নফল) রোজাদার এবং কুরআনের কারী হিসেবে। এতদসত্ত্বেও তারা অন্যান্য مسلمانوںকে রক্তকে বৈধ করে নিয়েছিল- তাদের চিন্তা ও বুঝ-সমঝের জগতে ভুল ও বিকৃতির অনুপ্রবেশ করেছিল তাদের অন্তঃকরণ ও নিয়তে নয়।

তাদের চিন্তার জগতে দীন সম্পর্কে, মানুষ সম্পর্কে ও তাদের জীবন সম্পর্কে ভুল ধারণা জন্মলাভ করে, যা জেল, নির্যাতন বা কঠোর শাস্তি দিয়ে দূর করা সম্ভব নয় বরং এতে তাদের বক্রচিন্তার ক্ষেত্রে বক্রতা-কট্টরতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

হাঁ, এখানে নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপই যথেষ্ট নয় বরং তাদেরকে চিন্তা-চেতনার দিক দিয়েও প্রতিরোধ করতে হবে। তাদের সাথে বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের আলাপ-আলোচনার পদক্ষেপ নিতে হবে, তাদের ভ্রান্ত চিন্তার পরিবর্তন সাধন করতে হবে। তাদেরকে দলিল-প্রমাণ দিয়ে বুঝিয়ে সঠিক পথে আনতে হবে। তাদের সঙ্গে হক্কানী আলেম-উলামাদের বৈঠকের ব্যবস্থা করতে হবে যারা সরকারী আলেম হিসেবে বা সরকারের দালাল হিসেবে চিহ্নিত নয়।

হযরত আলী (রা.) খাওয়ারিজদের বিরুদ্ধে আলোচনার জন্য মুসলিম উম্মাহর জ্ঞানতাপস বিশিষ্ট কুরআন গবেষক-ভাষ্যকার (حبر الأمة وترجمان القرآن) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে প্রেরণ করেন। তিনি তাদের সাথে আলোচনা করেন, তাদেরকে দলিল-প্রমাণ দিয়ে, যুক্তি-তর্ক দিয়ে বুঝান যার ফলে কয়েক হাজার ফিরে আসে আর কিছু লোক তাদের বাতিল চিন্তাধারার উপর অটল থাকে।

আমাদেরকে এই সব দল ও গ্রুপের সাথে অবশ্যই এ কাজ করতে হবে যারা মিসরে, আলজিরিয়ায়, সৌদি আরবে, মরক্কো ইত্যাদি দেশে ইতোমধ্যে অঘটন ঘটিয়ে দিয়েছে। তাদের সাথে যুক্তি-তর্কের ক্ষেত্রে অবশ্যই সবর করতে হবে, তাদের সাথে দীর্ঘ সময় ধরে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। এরপর যারা সঠিক পথে ফিরে আসবে তারা আসলো আর যাবা আসবে না তারাও অন্তত সঠিক দলিল-প্রমাণ জেনে গেল।

📘 ইসলাম ও চরমপন্থা > 📄 চরমপন্থী দলগুলোর চিন্তাচেতনার পর্যালোচনা

📄 চরমপন্থী দলগুলোর চিন্তাচেতনার পর্যালোচনা


আমাদেরকে অবশ্য জানতে হবে সেসব জামায়াত বা দল সম্পর্কে যারা নিজেদেরকে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত করে থাকে। তারা মূলতঃ এক বিশেষ দর্শনের কারণে এটি করছে, তারা ইসলামের বিধি-বিধানকে ও এর প্রমাণাদিকে বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখেছে।

যারা আমাদের বর্তমান আরববিশ্বের চরমপন্থী দলগুলোর দিকে দৃষ্টি দেয় (যেমন আল-কায়েদা, আল-জামাআ আল-ইসলামিয়া, আসসালাফিয়া আল-জিহাদিয়া, জামাআতে আনসারুল ইসলাম) তাহলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শন দেখতে পাবে এবং তাদের ইসলামী বিশ্লেষণ লক্ষ্য করলে দেখবে যে তারা কুরআন-হাদীস এবং বিভিন্ন মনীষীদের উক্তি দিয়ে তাদের পক্ষে কিভাবে দলিল পেশ করে থাকে। আমরা এদের এই বুঝের বিষয়টি অবশ্যই পর্যালোচনা করবো এবং এর জবাব দেব।১

একথা ঠিক যে এরা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মুতাশাবিহাত (সংশয়যুক্ত) দলিলাদির উপর নির্ভর করে এবং মুহকামাত (সুস্পষ্ট দলিলাদি) পরিত্যাগ করে, তারা ছোটখাট বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বড় বড় বিষয়াবলিকে তুচ্ছজ্ঞান করে, তারা বাহ্যিক দিকটাকে আঁকড়ে ধরে, এর উদ্দেশ্য-লক্ষ্য (مقاصد) সম্পর্কে গাফেল থাকে, তেমনিভাবে গাফেল থাকে এসব দলিলাদির বাহ্যিক দিকটিকে কোন কোন দলিল-প্রমাণ বিপক্ষে রয়েছে। এরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দলিল-প্রমাণকে তার সঠিকস্থানে ব্যবহার বা প্রয়োগ করেনি। একে তার সঠিকস্থান থেকে অন্যঅর্থে ব্যবহার করেছে। কিন্তু -অবস্থা যাই হোক না কেন- তাদের এমন বুঝ হয়েছে যা দ্বারা তারা চরমপন্থাকে গ্রহণ করেছে। তারা আমাদের ঐতিহ্যের দিকে নিজেদের সম্পৃক্ততা দেখিয়ে কিছু কিছু যুবককে এবং যাদের ইসলাম সম্পর্কে ভাসাভাসা জ্ঞান রয়েছে তাদেরকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তারা কোন কিছুর গভীরে যেতে পারেনি। তাদের বুঝের বা জ্ঞানের মূলে হল পূর্বের খাওয়ারিজদের চিন্তা-চেতনা। যারা কুরআন পাঠ করত কিন্তু তাদের কুরআন গণ্ডদেশের নিচে নামেনি। অর্থাৎ তারা কুরআনের শিক্ষা ও দর্শন বুঝেনি।

নিজ দেশের অভ্যন্তরে চরমপন্থার প্রয়োগ

এসব দল বা গ্রুপগুলো প্রথমে নিজেদের দেশের মধ্যে চরমপন্থা প্রয়োগ করে। তারা দেশের সরকারের আইনের বিরুদ্ধে, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে লেগে পড়ে।

তারা কিসের ভিত্তিতে এটা করল এবং এর পেছনে শরীয়তের কোন কোন দলিলাদিকে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করল?

বর্তমান সরকার ব্যবস্থাকে কুফরী সরকার ব্যবস্থা মনে করা

এসব চরমপন্থী দলগুলো মনে করে যে বর্তমান সরকারগুলো ইসলামী সরকার নয় বরং তাদের স্পষ্ট বক্তব্য হল- এরা কাফের সরকার। কেননা এরা আল্লাহর দেয়া বিধান মোতাবেক বিচার-ফয়সালা করে না, দেশ পরিচালনা করে না। তারা দেশ চালাচ্ছে মানব রচিত আইন দ্বারা, আর এজন্য তারা কাফের ও মুরতাদ হয়ে দীন-ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে যেন তারা ক্ষমতা ত্যাগ করে। কারণ তারা সুস্পষ্ট কুফরী করেছে, এ ব্যাপারে আল্লাহর দেয়া দলিল-প্রমাণ বিদ্যমান।

তাদের এই দর্শনকে আরো শক্তিশালী করছে এই কারণে যে এসব সরকার আল্লাহর দুশমন কাফেরদের সাথে প্রগাঢ় বন্ধুত্ব স্থাপন করেছে যারা সদাসর্বদা مسلمانوں বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা আল্লাহর নেক বান্দা ও দায়ীদের বিরুদ্ধে শত্রুতায় লিপ্ত, যে সব লোকেরা আল্লাহর আইন চালু করার দাবী জানাচ্ছে তাদের উপর জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। মহান আল্লাহ্‍ ইরশাদ করেনঃ

وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِّنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ - (المائدة : (٥١) “আর তোমাদের মধ্যে যে তাদের (কাফেরদের) সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে নিশ্চয় তাদেরই একজন।” (সূরা মায়েদা: ৫১)

এসব দলগুলোর আরো দলিল হল- এসব সরকারগুলো মসজিদুল আকসার প্রতিরোধে চরম ব্যর্থতা দেখিয়েছে যে মসজিদ হল ইসরা ও মিরাজের ভূমি। এসব সরকারের অনেকেই যায়নবাদী ইসরাইলী সরকারের হাতে হাত মিলিয়েছে আর কেউ কেউ তাকে স্বীকৃতিও দিয়েছে, আর কেউ কেউ ইসরাইলের দোসর ও পৃষ্ঠপোষক আমেরিকাকে ঘাড়ে চড়িয়েছে এবং তার হাতে লাগাম ছেড়ে দিয়েছে সে যা ইচ্ছা করে তাই করছে, সে তাদের চিন্তাচেতনা ও সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টাই করছে না; বরং তার ইসলামী পরিচয় পরিবর্তন করে দিতে চায় এবং তাদের ঐতিহাসিক পরিচিতিতে মুছে ফেলতে চাইছে।

বর্তমান সরকারগুলো নিজেদের অবস্থানের ব্যাপারে এসব অভিযোগ খণ্ডন করার জন্য বিভিন্ন কথা বলছেঃ তারা ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম বলে ঘোষণা করেছে। তারা মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করছে, আলেম-উলামাদেরকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে খতীব, মুয়াজ্জিন নিয়োগ দান করছে, দীনি শিক্ষা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করছে, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ চালু করেছে, মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করছে, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা পালন করছে, রেডিও-টেলিভিশনে কুরআন সম্প্রচার করছে ইত্যাদি ইত্যাদি ধর্মীয় কাজ-কর্ম সম্পাদন করছে যা কোন না কোন ভাবে প্রমাণ করে যে তারা মুসলিম সরকার যার সারকথা হল-তারা ইসলামকে আকীদা হিসেবে স্বীকার করে শরীয়ত হিসেবে নয়, ইবাদত হিসেবে মুয়ামালাত হিসেবে নয় অথবা তারা কুরআনের কিছু মানছে আর কিছু অংশকে মানছে না।

আবার কোন কোন দেশের সংবিধানে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ইসলামী শরীয়তই একমাত্র সকল কিছুর উৎস বা মূল ভিত্তি। আবার কেউ অজুহাত পেশ করে যে, পশ্চিমা পরাশক্তির চাপের কারণে ইসলামী বিধি-বিধান চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। আর কেউ কেউ বলে, ইসলামী শরীয়ত একসাথে চালু করা সম্ভব নয়, এর জন্য ধাপে ধাপে বা ক্রমান্বয়ে এগুতে হবে!

তাদের কেউ কেউ বলে- আমরা আমেরিকাকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করিনি কিন্তু তাদের সাথে সম্পর্ক রেখে চলি। কেননা আমরা দুর্বল তাদের মোকাবিলা করতে অক্ষম। আমরা মহান আল্লাহর এই বাণীর উপর আমল করছিঃ

إِلَّا أَنْ تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقةً - (آل عمران : ۲۸) "তবে যদি তাদের পক্ষ থেকে তোমাদের কোন ভয়ের আশংকা থাকে।" (সূরা আলে-ইমরান : ২৮) (অর্থাৎ আশংকার কারণেই বন্ধুত্ব রক্ষা করা হচ্ছে)। আবার কেউ বলে..... কেউ...... বিভিন্ন অজুহাত পেশ করছে নিজেদের অবস্থানের ব্যাপারে যার কোনটিই অকাট্য নয়, তবে এর দ্বারা তাদের সুস্পষ্ট কুফরীর অভিযোগ তিরোহিত হয়ে যায়।

টিকাঃ
১. এ বিষয়টি নিয়ে আমরা লেখা "আসসাহওয়া আল-ইসলামিয়া মিনাল মুরাহাকা ইলাররুশদ" গ্রন্থের শেষ অধ্যায়ে আলোচনা করেছি এবং আরো বিস্তারিত আলোচনা করবো 'ফিকহুল জিহাদ' নামক গ্রন্থে যা এখন গ্রন্থাবদ্ধ করা হচ্ছে।

📘 ইসলাম ও চরমপন্থা > 📄 ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-এর ফতওয়া

📄 ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-এর ফতওয়া


চরমপন্থী দলগুলো তাদের যুক্তির পক্ষে ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-এর ফতওয়াকে পেশ করে যেভাবে তিনি কিতাল (সশস্ত্র লড়াই করতে) অভিমত দিয়েছেন প্রত্যেকের বিরুদ্ধে যারা ইসলামের সুস্পষ্ট বিধি-বিধান পালনে অস্বীকার করবে যে সব বিধি-বিধান অকাট্যভাবে প্রমাণিত। যেমন নামায, যাকাত কিংবা আল্লাহর বিধান মোতাবেক বিচার-ফয়সালা না করা, রক্তপাত, ধনসম্পদ, ইজ্জত-আব্রু কিংবা সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা দান ইত্যাদিতে। জিহাদী দলগুলো এক্ষেত্রে বিশেষভাবে নির্ভর করেছে আল-ফারিদ্বা আল-গায়েবা [الفريضة الغائبة] (অনুপস্থিত বা হারানো ফরজ) নামক গ্রন্থের উপর। তারা তাদের দলগঠনে এই ফতওয়াকে মূল দর্শন হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং এর আলোকেই তারা তাদের সব কর্মকাণ্ডকে পরিচালনা করছে।

তারা এখানে হযরত আবু বকর (রা.) ও অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম কর্তৃক যাকাত প্রদানে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। এটা যদি যাকাত অস্বীকারকারীর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, তাহলে যারা শরীয়তের বিধান কায়েম করে না তাদের ব্যাপারে কি করতে হবে? ইসলামী আইন বাস্তবায়ন করা সমস্ত জনগণের প্রাণের দাবী অথচ তারা এদের প্রতিই সবচেয়ে খড়গহস্ত, এদের প্রতিই সবচেয়ে বেশী জুলুম চালাচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশী শত্রুতা পোষণ করছে। এরা ভুলেই গেছে যে, এসব অস্বীকারকারী যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা হয়েছে তারা ছিল ওলীউল আমর বা নেতৃস্থানীয় লোক, যেমনটি লড়েছেন হযরত আবু বকর (রা.), তারা সাধারণ মানুষ নয়, নচেৎ এক ভয়াবহ বিশৃংখল অবস্থা সৃষ্টি হত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00