📄 ১. স্থায়ী ঋণ (Permanent Loans)
১. স্থায়ী ঋণ (Permanent Loans): যা 'সরকারি ঋণপত্র'-এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণ থেকে গ্রহণ করা হয় অতঃপর তা ফেরত দেয়া হয় না। তবে এসব ঋণপত্র সেকেন্ডারি মার্কেটে (Secondary Market) বিক্রি করা যায়। যেমন প্রাইজবন্ড ইত্যাদি।
📄 ২. ভাসমান ঋণ (Floating Loans)
২. ভাসমান ঋণ (Floating Loans): যে ঋণ সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গ্রহণ করে।
📄 ৩. স্বল্পমেয়াদী ঋণ (Unfunded Loans)
৩. স্বল্পমেয়াদী ঋণ (Unfunded Loans): যেসব ঋণপত্র স্বল্পমেয়াদী হয়ে থাকে- যেমন ডিফেন্স সেভিং সার্টিফিকেট, ন্যাশনাল ডিপজিট সার্টিফিকেট, মাসিক আয়, বিশেষ ডিপজিট ইত্যাদি।
ঘাটতি পূরণে বেশি অংশ থাকে অভ্যন্তরীণ ঋণের। বৈদেশিক ঋণ তার তুলনায় অনেক কম হয়। যেমন ১৯৯২-৯৩ সালে যে ঋণ গ্রহণ করা হয়েছিলো তার বিবরণ নিম্নরূপ-
অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণ ২১ কোটি টাকা
অভ্যন্তরীণ ব্যাংক বহির্ভূত ঋণ ৪৮ কোটি টাকা
বৈদেশিক ঋণ ১৭ কোটি টাকা
মোট ঋণ ৮৬ কোটি টাকা
ঋণের টাকা পরিষ্কারভাবে লেখা হয়। অর্থাৎ শুধু ঋণের টাকাই লেখা হয়। এর উপর যে সুদ আদায় করতে হয় তা ব্যয় খাতে লেখা হয়। আজকাল আমাদের দেশে সুদের পরিমাণ মূল টাকা থেকে বেশি হয়। যেমন ১৯৯২-৯৩ সালে সরকারকে যে দেনা পরিশোধ করতে হবে তা এরূপ-
মূল ঋণ ৩৩ কোটি টাকা
সুদ ৮৬ কোটি টাকা
মোট দেনা ১১৯ কোটি টাকা
তারপর সুদের বেশির ভাগ অংশই অভ্যন্তরীণ ঋণের হয়ে থাকে। বৈদেশিক সুদ তার তুলনায় খুবই কম। যেমন উপরোল্লেখিত ৮৬ কোটি টাকার মধ্যে ৫৮ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ সুদ আর ১৫ কোটি টাকা বৈদেশিক সুদ (অবশিষ্ট ১৩ কোটি টাকার কোনো ব্যাখ্যা বাজেটে করা হয়নি)। এখন পর্যন্ত যেসব ঋণ সরকারের দায়িত্বে অবশ্য পরিশোধ্য তার বিবরণ:-
মোট ঋণ ১৩০০ কোটি টাকা
অভ্যন্তরীণ ঋণ ১০০০ কোটি টাকা
বৈদেশিক ঋণ ৩০০ কোটি টাকা
অভ্যন্তরীণ ঋণের বিবরণ-
মোট ঋণ ১০০০ কোটি টাকা
স্টেট ব্যাংক ২৭৫ কোটি টাকা
সাধারণ ব্যাংক ১১০ কোটি টাকা
বিশেষ ডিপজিট ২০০ কোটি টাকা
বৈদেশিক ঋণের বিবরণ-
বিদেশী সরকার থেকে গৃহীত ১৯০ কোটি টাকা
আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে গৃহীত ১১০ কোটি টাকা
মোট ৩০০ কোটি টাকা
এসব হিসাব থেকে বুঝা গেলো, সরকারের মোট ঋণের অনেক বিরাট অংশ অভ্যন্তরীণ এবং অনেক কম অংশ বৈদেশিক।