📄 বীমার বিকল্প
বীমার একটি বিকল্প তো সহযোগিতা বীমা (Mutual Insurance)। এতে শরীকরা স্বেচ্ছায় ফান্ডে টাকা জমা করে। সারা বছর ধরে যে সকল গ্রাহকের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় তাদের ঐ ফান্ড থেকে সাহায্য করা হয়। আর বছর শেষে টাকা থেকে থাকলে শরীকদের অংশ অনুযায়ী ফেরত দেয়া হয়। অথবা আগামী বছরের ফান্ডের চাঁদা হিসেবে তাদের অনুমতি সাপেক্ষে রেখে দেয়া হয়।
এছাড়া বর্তমানে ইসলামী দুনিয়ার কয়েকটি দেশে شركات التكافل নামে বাণিজ্যিক বীমার বিকল্প হিসেবে কিছু কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মৌলিক রূপরেখা হলো, প্রত্যেক বীমা গ্রহীতা কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার। কোম্পানি তার মূলধন লাভজনক কাজে বিনিয়োগ করে লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বণ্টন করে এবং কোম্পানিরই একটি রিজার্ভ ফান্ড থেকে বীমা গ্রহীতাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। আমার এখনো ঐসব কোম্পানির কর্মপন্থা ও খুঁটিনাটি বিস্তারিতভাবে ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে ভেবে দেখার সুযোগ হয়নি। তাই এখনো আমি এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তমূলক কথা বলতে পারছি না।
টিকাঃ
১. পরবর্তীতে শাইখুল ইসলাম দা.বা. ১৪২৬ হিজরি মোতাবেক ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে ওয়াকফের ভিত্তিতে বীমার রূপরেখা অঙ্কন করে "তাকফুল" নামে এক অনবদ্য রচনা লিখেন- যার সারসংক্ষেপ নিম্নে দেয়া হলো- (১) প্রথমে একটি ওয়াকফ কল্যাণ ফান্ড গঠন করা হবে- যে ফান্ডের মূলধনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দানে এবং চিরস্থায়ী জনকল্যাণমূলক খাতে ওয়াকফ করা হবে। (২) ওয়াকফ ফান্ডটি আইনগত ব্যক্তিসত্তা সম্পন্ন হওয়ার দরুণ নিজেই নিজের সম্পত্তির মালিক বলে বিবেচিত হবে। (৩) বীমা গ্রাহকরা নির্দিষ্ট অনুদান দিয়ে ফান্ডের সদস্যপদ লাভ করবে। (৪) বীমা কোম্পানিতে করা গ্রাহকদের অনুদান তাদের মালিকানা থেকে বের হয়ে ওয়াকফ ফান্ডের মালিকানাধীন সাব্যস্ত হবে। (৫) ওয়াকফ ফান্ড ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দানের নীতিমালা প্রণয়ন করবে। (৬) ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণ ওয়াকফ ফান্ডের পক্ষ থেকে গ্রাহকের প্রতি নিঃশর্ত অনুদান হিসেবে বিবেচিত হবে। (৭) বীমা ফান্ডের জন্য বাৎসরিক সারপ্লাস প্রদান ও ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চিতি (Reserve) করা বৈধ হবে। (৮) কোম্পানির কাজ দুটি: ফান্ড পরিচালনা ও বিনিয়োগ। (৯) কোম্পানির লাভের উৎস হবে নিজস্ব মূলধন বিনিয়োগ, ফান্ডের সার্ভিস চার্জ এবং মুদারিব হিসেবে প্রাপ্ত লভ্যাংশ।