📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ২. সহযোগিতা বীমা বা التأمين التعاونى/ التأمين التبادلى

📄 ২. সহযোগিতা বীমা বা التأمين التعاونى/ التأمين التبادلى


একে ইংরেজিতে Mutual Insurance এবং বাংলায় 'সহযোগিতা বীমা' বলে। এর সারকথা হলো, একই ধরনের ঝুঁকিসম্পন্ন ব্যক্তিরা পরস্পর মিলিত হয়ে এ মর্মে ফান্ড গঠন করে যে- আমাদের কারো কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এ ফান্ড থেকে ক্ষতিপূরণ করা হবে। এ ফান্ডে শুধু সদস্যদের থেকেই টাকা গ্রহণ করা হয় এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানও তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়। সারা বছর ক্ষতিপূরণ দেয়ার পর ফান্ডের টাকা উদ্বৃত্ত হলে তা সমান হারে সদস্যদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। আর ফান্ডের খরচ বেশি হয়ে থাকলে তাও সমান হারে গ্রাহকদের থেকে উসুল করা হয়।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 সহযোগিতা বীমার বিধান

📄 সহযোগিতা বীমার বিধান


প্রথমে বীমার এ রূপই চালু হয়েছিলো। শরয়ীভাবে এতে কোনো আপত্তি নেই। যে সকল ওলামায়ে কেরাম বীমার ব্যাপারে আলোচনা করেছেন তারা এ প্রকার বীমা জায়েয হওয়ার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ৩. বাণিজ্যিক বীমা বা التأمين بقسط ثابت/التأمين التجارى

📄 ৩. বাণিজ্যিক বীমা বা التأمين بقسط ثابت/التأمين التجارى


একে ইংরেজিতে Commercial Insurance বলে। ব্যবসার উদ্দেশ্যে বীমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে অন্যান্য কারবারের ন্যায় বীমার মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করাকে বাণিজ্যিক বীমা বলে। এসব বীমা কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের স্কিম (পরিকল্পনা) চালু করে। বীমা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির সাথে বীমা কোম্পানির চুক্তি হয়- আপনি এত টাকার এতটি কিস্তি পরিশোধ করবেন, বিনিময়ে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোম্পানি আপনার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবে। কোম্পানি কিস্তি নির্ধারণ করার পূর্বে হিসাব করে দেখে নেয় যে, যেসব ঝুঁকির মোকাবেলায় বীমা করা হচ্ছে তা বছরে কতবার হওয়ার আশঙ্কা আছে- যাতে করে ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করার পরও বছর শেষে কোম্পানির উদ্বৃত্ত লাভ থাকে। এ হিসাবের জন্য একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র রয়েছে যার পারদর্শীদের বলা হয় 'একচুয়ারি' (Actuary)।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 বাণিজ্যিক বীমার বিধান

📄 বাণিজ্যিক বীমার বিধান


বর্তমানে বাণিজ্যিক বীমার প্রচলনই বেশি। তাই এর শরয়ী হুকুম সমকালীন উলামায়ে কেরামের সর্বাধিক আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এ সম্পর্কে আরব দেশীয় আলেমদের মধ্যে শায়খ 'আবু যুহরা' এবং 'মুস্তাফা আয্যারকা'-এর ঘোর মতপার্থক্য রয়েছে। শায়খ আবু যুহরা এ ধরনের বীমা হারামের প্রবক্তা ছিলেন, আর মুস্তফা আয্যারকা জায়েযের প্রবক্তা ছিলেন। বর্তমানে ইসলামী দুনিয়ার প্রায় সকল প্রসিদ্ধ আলেম একে হারাম বলেন। তবে প্রসিদ্ধদের শুধু দু'জন আলেম এর জায়েয হওয়ার পক্ষে। একজন হলেন শায়খ মুস্তফা আয্যারকা এবং অপরজন হলেন শায়খ আলী আল খফীফ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px