📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 দ্বিতীয় পদ্ধতি : ইজারা (Leasing)

📄 দ্বিতীয় পদ্ধতি : ইজারা (Leasing)


ইজারা পুঁজি বিনিয়োগের একটি শরয়ী পন্থা। তবে বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে ইজারা নামে যে সকল লেনদেন হচ্ছে তাতে ইজারার প্রকৃত অবস্থা থাকে না। প্রকৃত ইজারা হলো, ইজারাদাতা যে যন্ত্রপাতি ভাড়ায় দিচ্ছে সে নিজেই সেটির মালিক ও দায় বহনকারী থাকবে। যদি যন্ত্রপাতির কোনো ক্ষতি হয় তবে তা মালিকেরই হবে। কিন্তু প্রচলিত ইজারায় গ্রাহকের ঘাড়ে সকল দায় চাপানো হয়, যা শরয়ীভাবে না-জায়েয। চুক্তিতে ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যন্ত্রপাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের মালিকানায় চলে আসার শর্তারোপ করা যাবে না, তবে মেয়াদান্তে নতুন চুক্তির মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরের অবকাশ আছে।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 তৃতীয় পদ্ধতি : মুরাবাহা মুআজ্জালা

📄 তৃতীয় পদ্ধতি : মুরাবাহা মুআজ্জালা


গ্রাহক ব্যাংকে ঋণের জন্য আসলে ব্যাংক নগদ অর্থ না দিয়ে প্রার্থীত পণ্যটি ক্রয় করে নির্দিষ্ট লাভে (Mark Up) বাকিতে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে দেয়। বাকির কারণে মূল্য বৃদ্ধির বৈধতা ফুকাহায়ে কেরামের সর্বসম্মত মত। তবে এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর পদ্ধতি। এর প্রয়োজনীয় শর্তাদি পূরণ না করলে এটি সুদি ব্যবস্থায় পরিণত হয়।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 প্রচলিত মুরাবাহার শরয়ী ত্রুটিসমূহ

📄 প্রচলিত মুরাবাহার শরয়ী ত্রুটিসমূহ


১. বাইব্যাক (Buy Back): গ্রাহকের কাছে মজুদ পণ্যই ব্যাংক কিনে নিয়ে পুনরায় তাকেই বেশি দামে বাকিতে বিক্রি করে দেয়া। এটি মূলত সুদি ঋণের বাহানা।
২. কৃত্রিম কার্যক্রম: অনেক ক্ষেত্রে কোনো পণ্য ক্রয় না করে বেতন বা বিল পরিশোধের জন্যও মুরাবাহা করা হয়।
৩. দখল ও দায়বদ্ধতা: মুরাবাহার পণ্যটি প্রথমে ব্যাংকের দখল ও দায়বদ্ধতায় আসা জরুরি। কিন্তু বাস্তবে ব্যাংক তা করে না।
৪. উকিল ও ক্রেতার পার্থক্য: ব্যাংক প্রায়ই গ্রাহককে পণ্য ক্রয়ের উকিল বানায়। কিন্তু গ্রাহক যখন উকিল হিসেবে পণ্য কিনে এবং পরে যখন নিজের জন্য কিনে, এই দুই অবস্থানের পার্থক্য রক্ষা করা হয় না। ইজাব-কবুল ছাড়া সরাসরি ব্যবহার শুরু করা না-জায়েয।
৫. প্রমিসারি নোট: ঋণ হওয়ার আগেই (চুক্তির সময়) হুন্ডি বা প্রমিসারি নোটে স্বাক্ষর নেয়া ভুল।
৬. রৌল ওভার (Roll over): মেয়াদ শেষে পরিশোধ না করলে সুদ বৃদ্ধির ন্যায় মূল্য বাড়িয়ে দেয়া জায়েয নয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px