📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 শিরকত ও মুদারাবার প্রায়োগিক জটিলতা

📄 শিরকত ও মুদারাবার প্রায়োগিক জটিলতা


শিরকত ও মুদারাবার পদ্ধতি ব্যাংকিং সিস্টেমে চালু করতে সাধারণত দু'টি জটিলতার কথা বলা হয়। নিম্নে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হলো।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ১ম জটিলতা (অবিশ্বস্ততা) ও তার সমাধান

📄 ১ম জটিলতা (অবিশ্বস্ততা) ও তার সমাধান


আজকাল সততা ও বিশ্বস্ততা প্রায় বিদায় নিয়েছে। কাউকে শিরকতের ভিত্তিতে মূলধন সরবরাহ করলে সে কখনো প্রকৃত লাভের কথা বলে না- বরং লোকসান দেখায়।
এর উত্তর হচ্ছে- বাস্তবিকই সমাজে বিশ্বস্ততার অবস্থা দুঃখজনক, কিন্তু এ কারণে কাজ বন্ধ থাকতে পারে না। অডিট ব্যবস্থা, একাউন্টস ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকির মাধ্যমে খেয়ানতের পথ রুদ্ধ করা যেতে পারে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবিশ্বস্ততা প্রমাণিত হলে তাকে ব্ল্যাক লিস্টভুক্ত করে সকল ব্যাংক সম্মিলিতভাবে লেনদেন বয়কট করতে পারে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আইনী পদক্ষেপ নিলে মিথ্যাচারের পথ বন্ধ হওয়া আবশ্যম্ভাবী।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ২য় জটিলতা (ইনকাম ট্যাক্স সিস্টেম) ও তার সমাধান

📄 ২য় জটিলতা (ইনকাম ট্যাক্স সিস্টেম) ও তার সমাধান


ব্যবসায়ীরা ইনকাম ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার জন্য আলাদা খাতা বানায়, তাই ব্যাংককে তারা আসল লাভ দেখায় না। এর সমাধান হলো, সরকারিভাবে ট্যাক্স ব্যবস্থায় সংশোধন আনা। এছাড়া রপ্তানি বা নির্দিষ্ট প্রজেক্টের ক্ষেত্রে যেখানে লাভ-ক্ষতির হিসাব সহজ, সেখানে শিরকত ও মুদারাবা প্রয়োগ করা যায়। ব্যাংক ব্যবসায়ীর পুরো কারবারে শরীক না হয়ে নির্দিষ্ট অংশে শরীক হতে পারে। প্রত্যক্ষ ব্যয়ের ভিত্তিতে লাভ বণ্টনের চুক্তির মাধ্যমেও হিসাব সহজ করা যেতে পারে।

টিকাঃ
১. আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন দা.বা. বলেন- ইনকামের উপর ট্যাক্স আরোপ না করে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক ট্যাক্স আরোপ করলেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 দ্বিতীয় পদ্ধতি : ইজারা (Leasing)

📄 দ্বিতীয় পদ্ধতি : ইজারা (Leasing)


ইজারা পুঁজি বিনিয়োগের একটি শরয়ী পন্থা। তবে বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে ইজারা নামে যে সকল লেনদেন হচ্ছে তাতে ইজারার প্রকৃত অবস্থা থাকে না। প্রকৃত ইজারা হলো, ইজারাদাতা যে যন্ত্রপাতি ভাড়ায় দিচ্ছে সে নিজেই সেটির মালিক ও দায় বহনকারী থাকবে। যদি যন্ত্রপাতির কোনো ক্ষতি হয় তবে তা মালিকেরই হবে। কিন্তু প্রচলিত ইজারায় গ্রাহকের ঘাড়ে সকল দায় চাপানো হয়, যা শরয়ীভাবে না-জায়েয। চুক্তিতে ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যন্ত্রপাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের মালিকানায় চলে আসার শর্তারোপ করা যাবে না, তবে মেয়াদান্তে নতুন চুক্তির মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরের অবকাশ আছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px