📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 শিরকত ও মুদারাবার মূল পার্থক্য

📄 শিরকত ও মুদারাবার মূল পার্থক্য


শিরকতে অংশীদারগণ 'মূলধন' ও 'শ্রম' উভয়টিতেই শরীক হতে পারে। কেউ কার্যত কারবারে হস্তক্ষেপ না করলে ভিন্ন কথা। আর মুদারাবায় মূলধন হয়ে থাকে রব্বুলমালের, আর শ্রম দেয় মুদারিব (مضارب)। রব্বুলমাল শ্রম দানে অংশগ্রহণ করে না।

টিকাঃ
১. শ্রমের সাথে সাথে মুদারিব যদি পুঁজিও ব্যবসায় বিনিয়োগ করে তাহলে মুদারাবার সাথে শিরকতেরও সমাবেশ ঘটবে।
২. চুক্তির সময় রব্বুলমালের শ্রমে অংশগ্রহণের শর্ত করা হলে মুদারাবা বাতিল হয়ে যাবে। তবে, চুক্তির সময় শর্ত করা ব্যতীত পরবর্তীতে মুদারিব যদি অনুমতি দেয়, তাহলে রব্বুলমাল তার সাথে কাজে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 শিরকত ও মুদারাবার মৌলিক নীতিমালা

📄 শিরকত ও মুদারাবার মৌলিক নীতিমালা


১. লভ্যাংশ বণ্টন পদ্ধতি: শিরকত ও মুদারাবার লভ্যাংশ প্রত্যেকের বিনিয়োগকৃত মূলধন অনুপাতে বণ্টন হওয়া জরুরি নয়- বরং পূর্বচুক্তিতে নির্ধারিত অনুপাতে বণ্টন হবে।
২. লভ্যাংশ নির্ধারণ পদ্ধতি: যে কোনো অনুপাতে লাভ নির্ধারণ করা যাবে। যেমন ৪০% মূলধনদাতার ৬০% লাভ নির্ধারণ করা যাবে। তবে যে অংশীদার কাজ না করার শর্তারোপ করেছে তার লাভ পুঁজির অনুপাত থেকে বেশি নির্ধারণ করা যাবে না।
৩. লোকসান নির্ধারণ পদ্ধতি: লভ্যাংশের ক্ষেত্রে ওজনের তারতম্য হতে পারে, কিন্তু লোকসান সর্বাবস্থায় পুঁজির অনুপাতে হবে- যাকে ফুকাহায়ে কেরাম এভাবে ব্যক্ত করেন: الربح على ما اصطلحوا عليه و الوضيعة بقدر رأس المال (লভ্যাংশ বণ্টন হবে ধার্যকৃত অনুপাতে, আর লোকসান বহন করতে হবে মূলধন অনুপাতে)।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 শিরকত ও মুদারাবার প্রায়োগিক জটিলতা

📄 শিরকত ও মুদারাবার প্রায়োগিক জটিলতা


শিরকত ও মুদারাবার পদ্ধতি ব্যাংকিং সিস্টেমে চালু করতে সাধারণত দু'টি জটিলতার কথা বলা হয়। নিম্নে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হলো।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ১ম জটিলতা (অবিশ্বস্ততা) ও তার সমাধান

📄 ১ম জটিলতা (অবিশ্বস্ততা) ও তার সমাধান


আজকাল সততা ও বিশ্বস্ততা প্রায় বিদায় নিয়েছে। কাউকে শিরকতের ভিত্তিতে মূলধন সরবরাহ করলে সে কখনো প্রকৃত লাভের কথা বলে না- বরং লোকসান দেখায়।
এর উত্তর হচ্ছে- বাস্তবিকই সমাজে বিশ্বস্ততার অবস্থা দুঃখজনক, কিন্তু এ কারণে কাজ বন্ধ থাকতে পারে না। অডিট ব্যবস্থা, একাউন্টস ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকির মাধ্যমে খেয়ানতের পথ রুদ্ধ করা যেতে পারে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবিশ্বস্ততা প্রমাণিত হলে তাকে ব্ল্যাক লিস্টভুক্ত করে সকল ব্যাংক সম্মিলিতভাবে লেনদেন বয়কট করতে পারে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আইনী পদক্ষেপ নিলে মিথ্যাচারের পথ বন্ধ হওয়া আবশ্যম্ভাবী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px