📄 ব্যাংকের ৩য় কাজ : মুদ্রা-সম্প্রসারণ
ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো, বিদ্যমান মুদ্রাকে আরো বৃদ্ধি করে তার প্রসারতা বাড়ানো এবং মুদ্রার উপযোগ বৃদ্ধি করা- যাকে 'মুদ্রা-সম্প্রসারণ' বা 'মুদ্রা সৃষ্টি' (Inflation / تخليق العملة) বলে। ব্যাংক আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ রিজার্ভ রেখে বাকি অংশ ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বাজারে মুদ্রার প্রবাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
📄 চেকের মাধ্যমে মুদ্রা-সম্প্রসারণ
ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার বেলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে নগদ টাকা উত্তোলন করা হয় না। বরং ব্যাংকের ঋণ দেয়ার পদ্ধতি হলো, ঋণ গ্রহীতার নামে একাউন্ট খুলে 'চেকবই' দিয়ে দেয়। ব্যাংক যখন কাউকে ঋণ দেয়, সেই ঋণের টাকা পুনরায় ব্যাংকেই আমানত হিসেবে ফিরে আসে। ব্যাংক সেই আমানত থেকে আবার রিজার্ভ রেখে পুনরায় অন্যকে ঋণ দেয়। এভাবে একই নোট বারবার ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংক আমানতের পরিমাণের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি চেকে লেনদেনের সুযোগ তৈরি করে, যা মূলত মুদ্রা-সম্প্রসারণ।
📄 ফ্লোট (Float) এর মাধ্যমে মুদ্রা-সম্প্রসারণ
ব্যাংকের মুদ্রা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ফ্লোট (Float) বড় ভূমিকা পালন করে। কখনো টাকা-পয়সা ব্যাংকে একটি সময় পর্যন্ত ব্যবহার হওয়া সত্ত্বেও তা ব্যাংকের ডিপজিট হিসেবে গণ্য হয় না এবং ব্যাংককে তার সুদ দিতে হয় না। যেমন: ড্রাফট ইস্যু করার পর তা ক্যাশ না হওয়া পর্যন্ত সময়, গ্যাস বা বিদ্যুতের বিল জমা নেয়ার পর তা কোম্পানিতে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী সময়, বা এল.সি. খোলার সময় আমদানিকারক থেকে নেয়া টাকা। এই সময়গুলোতে ব্যাংক উক্ত অর্থ কোনো ব্যয় ছাড়াই ব্যবহার করতে পারে যা ব্যাংকের মূলধন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
টিকাঃ
১. গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ইত্যাদির বিল ব্যাংকে জমা হওয়ার পর ব্যাংক সাধারণত ১-৩ মাস পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে প্রদান করে।
📄 কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Central Bank)-এর পরিচয়
যে কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এ ব্যাংক সকল বাণিজ্যিক (Commercial) ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন পাকিস্তানে 'স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান', বাংলাদেশে 'বাংলাদেশ ব্যাংক' হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
টিকাঃ
১. একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর বাংলাদেশ সরকার ঢাকায় অবস্থিত 'স্টেট ব্যাংক অভ পাকিস্তানের' ঢাকা শাখাকে 'বাংলাদেশ ব্যাংক' নাম দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৭২ সালে অধ্যাদেশ পাশের মাধ্যমে এটি ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে কার্যকর বলে ঘোষিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রের পক্ষে ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রানীতি নিরূপণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও বিনিময় হার নির্ধারণ করে থাকে।