📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 বিনিময় বিল (Bill of Exchange / الكمبيالة)

📄 বিনিময় বিল (Bill of Exchange / الكمبيالة)


'বিনিময় বিল' একটি বিশেষ ধরনের দলিল। যখন কোনো ব্যবসায়ী তার মাল বিক্রি করে তখন ক্রেতার নামে বিল তৈরি করে। এ বিলে ঋণী ব্যক্তি অমুক তারিখে টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষর করে। ঋণদাতার তাৎক্ষণিক টাকার প্রয়োজন হলে সে ব্যাংকের মাধ্যমে এ বিল ডিসকাউন্ট (বাট্টা) করে নগদ টাকা নিতে পারে। ব্যাংক বিলের মেয়াদ বিবেচনা করে কিছু টাকা কেটে রেখে বাকি টাকা প্রদান করে। একে Discount of the Bill of Exchange বলা হয়।

টিকাঃ
১. হুন্ডি অর্থ: দূরবর্তী কারো নিকট অর্থ প্রদানের নির্দেশ লিপি বা ঋণ শোধের প্রতিজ্ঞাপত্র।
২. বাট্টা অর্থ: ক্রয় বিক্রয়ের সময় প্রকৃত মূল্য থেকে যা বাদ যায় বা ছাড় দেয়া হয়।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ব্যাংকের ৩য় কাজ : মুদ্রা-সম্প্রসারণ

📄 ব্যাংকের ৩য় কাজ : মুদ্রা-সম্প্রসারণ


ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো, বিদ্যমান মুদ্রাকে আরো বৃদ্ধি করে তার প্রসারতা বাড়ানো এবং মুদ্রার উপযোগ বৃদ্ধি করা- যাকে 'মুদ্রা-সম্প্রসারণ' বা 'মুদ্রা সৃষ্টি' (Inflation / تخليق العملة) বলে। ব্যাংক আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ রিজার্ভ রেখে বাকি অংশ ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বাজারে মুদ্রার প্রবাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 চেকের মাধ্যমে মুদ্রা-সম্প্রসারণ

📄 চেকের মাধ্যমে মুদ্রা-সম্প্রসারণ


ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার বেলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে নগদ টাকা উত্তোলন করা হয় না। বরং ব্যাংকের ঋণ দেয়ার পদ্ধতি হলো, ঋণ গ্রহীতার নামে একাউন্ট খুলে 'চেকবই' দিয়ে দেয়। ব্যাংক যখন কাউকে ঋণ দেয়, সেই ঋণের টাকা পুনরায় ব্যাংকেই আমানত হিসেবে ফিরে আসে। ব্যাংক সেই আমানত থেকে আবার রিজার্ভ রেখে পুনরায় অন্যকে ঋণ দেয়। এভাবে একই নোট বারবার ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংক আমানতের পরিমাণের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি চেকে লেনদেনের সুযোগ তৈরি করে, যা মূলত মুদ্রা-সম্প্রসারণ।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ফ্লোট (Float) এর মাধ্যমে মুদ্রা-সম্প্রসারণ

📄 ফ্লোট (Float) এর মাধ্যমে মুদ্রা-সম্প্রসারণ


ব্যাংকের মুদ্রা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ফ্লোট (Float) বড় ভূমিকা পালন করে। কখনো টাকা-পয়সা ব্যাংকে একটি সময় পর্যন্ত ব্যবহার হওয়া সত্ত্বেও তা ব্যাংকের ডিপজিট হিসেবে গণ্য হয় না এবং ব্যাংককে তার সুদ দিতে হয় না। যেমন: ড্রাফট ইস্যু করার পর তা ক্যাশ না হওয়া পর্যন্ত সময়, গ্যাস বা বিদ্যুতের বিল জমা নেয়ার পর তা কোম্পানিতে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী সময়, বা এল.সি. খোলার সময় আমদানিকারক থেকে নেয়া টাকা। এই সময়গুলোতে ব্যাংক উক্ত অর্থ কোনো ব্যয় ছাড়াই ব্যবহার করতে পারে যা ব্যাংকের মূলধন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

টিকাঃ
১. গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ইত্যাদির বিল ব্যাংকে জমা হওয়ার পর ব্যাংক সাধারণত ১-৩ মাস পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে প্রদান করে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px