📄 ব্যাংকের ২য় কাজ : এল.সি. সেবা
ব্যাংকের অন্যতম কাজ হলো আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অত্যাবশ্যকীয় মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা পালন করা। যখন কোনো ব্যক্তি বিদেশ থেকে কোনো বস্তু আমদানি করতে চায় তখন বিদেশী ব্যবসায়ী নিশ্চয়তা চায়। এ উদ্দেশ্যে আমদানিকারক ব্যাংক থেকে একটি নিশ্চয়তাপত্র সংগ্রহ করে, যাকে Letter of Credit বা এল.সি. (L/C) বলে। আমদানিকারকের ব্যাংক এই এল.সি. রপ্তানিকারকের ব্যাংকে (Negotiating Bank) পাঠিয়ে দেয়। মালের কাগজপত্র বা Bill of Lading পাওয়ার পর ব্যাংক আমদানিকারককে তা বুঝিয়ে দেয় এবং লেনদেন সম্পন্ন করে।
টিকাঃ
১. Negotiating Bank হলো সেই ব্যাংক যারা চুক্তির মধ্যস্থতা বা আলোচনায় অংশগ্রহণ করে।
📄 এল.সি.সেবায় আমদানিকারক ব্যাংকের কাজ (মূলত ৩টি)
আমদানিকারক ব্যাংকের সেবাটি মূলত নিম্নোক্ত তিন কাজের সমন্বয়ে হয়ে থাকে:
১. উকালতি বা মধ্যস্থতা (Agency): ব্যাংক আমদানিকারকের উকিল হয়ে রপ্তানিকারকের সাথে লেনদেন করে এবং কাগজপত্র আদান-প্রদান করে।
২. জামানত বা নিশ্চয়তা (Guarantee): ব্যাংক রপ্তানিকারককে নিশ্চয়তা দেয় যে আমদানিকারক টাকা না দিলে ব্যাংক তা পরিশোধ করবে।
৩. ঋণ (Credit): আমদানিকারক এল.সি. খোলার সময় টাকা না দিলে ব্যাংক তা পরিশোধ করে দেয়, ফলে আমদানিকারক ব্যাংকের ঋণী হয়ে যায়।
📄 এল.সি.সেবায় রপ্তানিকারক ব্যাংকের কাজ (মূলত ২টি)
রপ্তানিকারক ব্যাংক মূলত দুটি সেবা আঞ্জাম দেয়:
১. উকালতি বা মধ্যস্থতা (Agency): রপ্তানিকারকের উকিল হিসেবে কাজ করা।
২. ঋণ (Credit) প্রদান: রপ্তানিকারক যদি তাৎক্ষণিক টাকা পেতে চায় তবে ব্যাংক তাকে বিলের বিপরীতে ঋণ প্রদান করে থাকে।
📄 আমদানি-রপ্তানি ঋণ
আমদানি ঋণ: আমদানিকারকের কাছে কখনো আমদানি করার টাকা থাকে না বা থাকলেও তা আমদানি কাজে ব্যবহার করে আটকাতে চায় না। তখন সে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আমদানি করে। একে Import Financing বলে।
রপ্তানি ঋণ: অনুরূপভাবে রপ্তানির জন্যও ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হয়। যেমন কোনো ব্যবসায়ীর কাছে বিদেশ থেকে পণ্য ক্রয়ের অর্ডার আসলে প্রার্থীত পণ্য তৈরি বা সংগ্রহ করে রপ্তানি করার প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংক থেকে নিয়ে থাকে। একে Export Financing বলে।