📄 ইনডেকসেশনের ভিত্তিতে ঋণ পরিশোধের অসারতা (৩টি কারণ)
*১ম কারণ: 'Basket of Goods' কোনো নির্দিষ্ট বস্তু নয়, এটি অনুমান মাত্র। সুতরাং নোট দেয়া মানে 'পণ্যের ঝুড়ি' দেয়া নয় বরং তা ক্রয় করার উপকরণ দেয়া।
*২য় কারণ: শরীয়তের দৃষ্টিতে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ধর্তব্য হলো বস্তুর পরিমাণগত সমতা- বাজারমূল্যের দিক থেকে সমতা হয়েছে কি-না তা বিবেচ্য নয়। উট বিক্রির হাদিস থেকে বুঝা যায় ঋণ হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণই ওয়াজিব হয়, মূল্যমান নয়।
*৩য় কারণ: সমতুল্য বস্তুর ক্ষেত্রে শরীয়ত প্রকৃত সমতা অত্যাবশ্যক করেছে এবং অনুমান ভিত্তিক বেচাকেনাকে না-জায়েয বলেছে। ঋণ পরিশোধকে মূল্যসূচকের সাথে সম্পৃক্ত করলে অনুমান ভিত্তিক লেনদেনকে বৈধ বলতে হয়।
📄 একটি আপত্তি ও তার অপনোদন
আপত্তি হচ্ছে- নোটের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়ার পরও আগের পরিমাণ ফিরিয়ে দেয়া ঋণদাতার ওপর জুলুম। এর উত্তরে বলা যায়-
১. মুদ্রার মূল্য কমে যাওয়ার পিছনে ঋণ গ্রহীতার কোনো হাত নেই।
২. ঋণ একটি সহানুভূতিমূলক লেনদেন। যদি ঋণদাতা টাকা নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রাখতো তাহলেও মূল্য কমে যেতো।
৩. যদি Indexation সঠিক নীতি হতো তবে তা কারেন্ট একাউন্টেও চালু করা হতো, যা কেউ করে না।
৪. মুদ্রাস্ফীতিতে যেমন অতিরিক্ত পরিশোধের কথা বলা হয়, মুদ্রা-সংকোচনে কেউ কম পরিশোধের কথা বলে না।
এছাড়া সরকার মুদ্রার দর কমিয়ে দিলে (Devaluation) পুরাতন মুদ্রার সমমূল্যের নতুন মুদ্রা দিয়ে ঋণ পরিশোধের অবকাশ হতে পারে কি-না তা উলামায়ে কেরামের গবেষণার বিষয়।