📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 মূল্যসূচক (Price Index)

📄 মূল্যসূচক (Price Index)


মুদ্রার মূল্যমান, মুদ্রাস্ফীতি বা মুদ্রা সংকোচনের পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য একটি গাণিতিক ব্যবস্থা আছে- যাকে মূল্যসূচক বা Price Index বলা হয়। এর প্রক্রিয়া হচ্ছে, নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের একটি তালিকা প্রস্তুত করে শুরু ও শেষের মূল্য ধরে গড় বের করা হয়। সঠিক মূল্যমান নির্ণয়ের জন্য প্রত্যেক বস্তুর গুরুত্ব অনুযায়ী একটি গুরুত্ব নির্দেশক (Weight of Commodity) স্থির করা হয়। এ ওজনকে সরল গড়ের সাথে গুণ করে যে পরিমিত গড় পাওয়া যায় তার সমষ্টিই হলো মুদ্রামানের হ্রাস-বৃদ্ধির সূচক। মূল্যসূচক একটি কাল্পনিক বিষয়, কারণ এর সকল মাপদণ্ডই অনুমানকৃত।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ইনডেকসেশন (Indexation)

📄 ইনডেকসেশন (Indexation)


বর্তমান বিশ্বে লেনদেনকে মূল্যসূচকের সাথে সংশ্লিষ্ট করে দেয়ার প্রচলন রয়েছে। যেমন মুদ্রার মূল্যমান যত কমে যাবে বেতন তত বেশি দেয়া হবে। এভাবে কোনো বস্তুকে মূল্যসূচকের সাথে সংশ্লিষ্ট করে দেয়াকে ইনডেকসেশন (Indexation) বলে।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ঋণ পরিশোধে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব (৩টি দৃষ্টিভঙ্গি)

📄 ঋণ পরিশোধে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব (৩টি দৃষ্টিভঙ্গি)


কাগজী নোটের 'নামিক মূল্য' (Face Value) সর্বদা অপরিবর্তিত থাকে কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির সময় 'প্রকৃত মূল্য' (Real Value) হ্রাস পায়। ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে নিচের ৩টি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে:
১. প্রথম দৃষ্টিভঙ্গি: নোট ঋণ দেয়ার অর্থ মূলত ঐ পরিমাণ স্বর্ণ ঋণ দেয়া যার প্রতিনিধিত্ব নোট করছে। কিন্তু বর্তমানে নোটের পিছনে স্বর্ণের মজুদ না থাকায় এটি সঠিক নয়।
২. দ্বিতীয় দৃষ্টিভঙ্গি: নোটের পিছনে স্বর্ণ মজুদ থাক বা না থাক, মনে করা হবে স্বর্ণেরই লেনদেন হয়েছে। কিন্তু কাগজী নোট এখন স্বর্ণের প্রতিনিধিত্ব করে না বরং তা স্বতন্ত্র পারিভাষিক মুদ্রা।
৩. তৃতীয় দৃষ্টিভঙ্গি: 'ইনডেকসেশন' তথা দেনাকে 'মূল্যসূচক'-এর সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়া। মুদ্রাস্ফীতির হার অনুযায়ী অতিরিক্ত নোট পরিশোধ করা।

টিকাঃ
১. মূল্যসূচকের প্রবক্তারা মুদ্রার ক্রয় ক্ষমতাকে 'রিয়েল ভ্যালু' বা মুদ্রার প্রকৃত মূল্যমান বলে আখ্যায়িত করেছেন। আমাদের দৃষ্টিতে এটি কেবল কথিত 'প্রকৃত মূল্য'- বাস্তব প্রকৃত মূল্য নয়।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ইনডেকসেশনের ভিত্তিতে ঋণ পরিশোধের অসারতা (৩টি কারণ)

📄 ইনডেকসেশনের ভিত্তিতে ঋণ পরিশোধের অসারতা (৩টি কারণ)


*১ম কারণ: 'Basket of Goods' কোনো নির্দিষ্ট বস্তু নয়, এটি অনুমান মাত্র। সুতরাং নোট দেয়া মানে 'পণ্যের ঝুড়ি' দেয়া নয় বরং তা ক্রয় করার উপকরণ দেয়া।
*২য় কারণ: শরীয়তের দৃষ্টিতে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ধর্তব্য হলো বস্তুর পরিমাণগত সমতা- বাজারমূল্যের দিক থেকে সমতা হয়েছে কি-না তা বিবেচ্য নয়। উট বিক্রির হাদিস থেকে বুঝা যায় ঋণ হিসেবে নির্দিষ্ট পরিমাণই ওয়াজিব হয়, মূল্যমান নয়।
*৩য় কারণ: সমতুল্য বস্তুর ক্ষেত্রে শরীয়ত প্রকৃত সমতা অত্যাবশ্যক করেছে এবং অনুমান ভিত্তিক বেচাকেনাকে না-জায়েয বলেছে। ঋণ পরিশোধকে মূল্যসূচকের সাথে সম্পৃক্ত করলে অনুমান ভিত্তিক লেনদেনকে বৈধ বলতে হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px