📄 মুদ্রা-সংকোচন (Deflation)
দ্রব্যমূল্য কমে গেলে আর মুদ্রার মূল্যমান বৃদ্ধি পেলে তাকে বাংলায় 'মুদ্রা-সংকোচন', আরবীতে إنكماش এবং ইংরেজিতে Deflation বলে।
📄 মূল্যসূচক (Price Index)
মুদ্রার মূল্যমান, মুদ্রাস্ফীতি বা মুদ্রা সংকোচনের পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য একটি গাণিতিক ব্যবস্থা আছে- যাকে মূল্যসূচক বা Price Index বলা হয়। এর প্রক্রিয়া হচ্ছে, নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের একটি তালিকা প্রস্তুত করে শুরু ও শেষের মূল্য ধরে গড় বের করা হয়। সঠিক মূল্যমান নির্ণয়ের জন্য প্রত্যেক বস্তুর গুরুত্ব অনুযায়ী একটি গুরুত্ব নির্দেশক (Weight of Commodity) স্থির করা হয়। এ ওজনকে সরল গড়ের সাথে গুণ করে যে পরিমিত গড় পাওয়া যায় তার সমষ্টিই হলো মুদ্রামানের হ্রাস-বৃদ্ধির সূচক। মূল্যসূচক একটি কাল্পনিক বিষয়, কারণ এর সকল মাপদণ্ডই অনুমানকৃত।
📄 ইনডেকসেশন (Indexation)
বর্তমান বিশ্বে লেনদেনকে মূল্যসূচকের সাথে সংশ্লিষ্ট করে দেয়ার প্রচলন রয়েছে। যেমন মুদ্রার মূল্যমান যত কমে যাবে বেতন তত বেশি দেয়া হবে। এভাবে কোনো বস্তুকে মূল্যসূচকের সাথে সংশ্লিষ্ট করে দেয়াকে ইনডেকসেশন (Indexation) বলে।
📄 ঋণ পরিশোধে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব (৩টি দৃষ্টিভঙ্গি)
কাগজী নোটের 'নামিক মূল্য' (Face Value) সর্বদা অপরিবর্তিত থাকে কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির সময় 'প্রকৃত মূল্য' (Real Value) হ্রাস পায়। ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে নিচের ৩টি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে:
১. প্রথম দৃষ্টিভঙ্গি: নোট ঋণ দেয়ার অর্থ মূলত ঐ পরিমাণ স্বর্ণ ঋণ দেয়া যার প্রতিনিধিত্ব নোট করছে। কিন্তু বর্তমানে নোটের পিছনে স্বর্ণের মজুদ না থাকায় এটি সঠিক নয়।
২. দ্বিতীয় দৃষ্টিভঙ্গি: নোটের পিছনে স্বর্ণ মজুদ থাক বা না থাক, মনে করা হবে স্বর্ণেরই লেনদেন হয়েছে। কিন্তু কাগজী নোট এখন স্বর্ণের প্রতিনিধিত্ব করে না বরং তা স্বতন্ত্র পারিভাষিক মুদ্রা।
৩. তৃতীয় দৃষ্টিভঙ্গি: 'ইনডেকসেশন' তথা দেনাকে 'মূল্যসূচক'-এর সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়া। মুদ্রাস্ফীতির হার অনুযায়ী অতিরিক্ত নোট পরিশোধ করা।
টিকাঃ
১. মূল্যসূচকের প্রবক্তারা মুদ্রার ক্রয় ক্ষমতাকে 'রিয়েল ভ্যালু' বা মুদ্রার প্রকৃত মূল্যমান বলে আখ্যায়িত করেছেন। আমাদের দৃষ্টিতে এটি কেবল কথিত 'প্রকৃত মূল্য'- বাস্তব প্রকৃত মূল্য নয়।