📄 নোটের মূল্যমান (Value of Currency)
কাগজী নোটের নিজস্ব সত্তাগত কোনো মূল্য নেই- বরং তা কিছু পণ্য ও সেবা (Goods and Services)-এর ক্রয় ক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করে। এ ক্রয় ক্ষমতাকে 'নোটের মূল্যমান' (Value of Currency) বলে। নোটের এই মূল্যমান নির্ধারিত হয় পণ্য ও সেবার মূল্য দ্বারা। পণ্য ও সেবার মূল্য কমে গেলে নোটের মূল্যমান বৃদ্ধি পায়, আর পণ্য ও সেবার মূল্য বৃদ্ধি পেলে নোটের মূল্যমান কমে যায়।
📄 মুদ্রাস্ফীতি (Inflation)
মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দ্রব্যের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়- যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হলো দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়া। আর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মুদ্রার মূল্যমান কমে আসে। এ অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বা Inflation বলে। যদি মুদ্রাস্ফীতি দ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হয়, তাহলে তাকে Demand Pull Inflation বলে। আর যদি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে হয় তাহলে তাকে Cost Push Inflation বলা হয়।
টিকাঃ
১. মুদ্রাস্ফীতির ফলে পণ্যের আসল বিনিময়মূল্য কমে নগদ অর্থের সুযোগব্যয় কমে যায় এবং মানুষ নগদ অর্থ সঞ্চয়ের বদলে তা খরচ করে ফেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এর ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়ের অভাবে ভোগে এবং বিনিয়োগ কমে আসে।
📄 মুদ্রা-সংকোচন (Deflation)
দ্রব্যমূল্য কমে গেলে আর মুদ্রার মূল্যমান বৃদ্ধি পেলে তাকে বাংলায় 'মুদ্রা-সংকোচন', আরবীতে إنكماش এবং ইংরেজিতে Deflation বলে।
📄 মূল্যসূচক (Price Index)
মুদ্রার মূল্যমান, মুদ্রাস্ফীতি বা মুদ্রা সংকোচনের পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য একটি গাণিতিক ব্যবস্থা আছে- যাকে মূল্যসূচক বা Price Index বলা হয়। এর প্রক্রিয়া হচ্ছে, নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের একটি তালিকা প্রস্তুত করে শুরু ও শেষের মূল্য ধরে গড় বের করা হয়। সঠিক মূল্যমান নির্ণয়ের জন্য প্রত্যেক বস্তুর গুরুত্ব অনুযায়ী একটি গুরুত্ব নির্দেশক (Weight of Commodity) স্থির করা হয়। এ ওজনকে সরল গড়ের সাথে গুণ করে যে পরিমিত গড় পাওয়া যায় তার সমষ্টিই হলো মুদ্রামানের হ্রাস-বৃদ্ধির সূচক। মূল্যসূচক একটি কাল্পনিক বিষয়, কারণ এর সকল মাপদণ্ডই অনুমানকৃত।