📄 দু’দেশের দু’টি নোটের বিনিময়
দু'দেশের মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে কম-বেশি করা জায়েয আছে- তবে শর্ত হলো, কোনো একটি বিনিময় নগদ হস্তগত হতে হবে। এক্ষেত্রে কম-বেশি জায়েয হওয়ার কারণ- প্রত্যেক দেশের মুদ্রার ক্রয় ক্ষমতা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রত্যেক দেশের মুদ্রা ভিন্ন জাতীয় বস্তু। সরকার অন্য দেশের মুদ্রার সাথে নিজ দেশের মুদ্রার যে রেট নির্ধারণ করে দেয়, সেই আইন লঙ্ঘন করা গুনাহের কাজ।
টিকাঃ
১. কোনো দেশের মুদ্রার ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস-বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো সে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য।
২. মালিবাগ মাদরাসার প্রয়াত মুহাদ্দীস আবুল ফাতাহ মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া রহ. তার 'ইসলামী অর্থনীতির আধুনিক রূপায়ন' পুস্তকে সকল দেশের মুদ্রাকে এক জাতীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তবে শাইখুল ইসলাম দা.বা. এর মতে আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানির উপর ভিত্তি করে ক্রয়ক্ষমতা প্রতিনিয়তই পরিবর্তন হয় বলে দু'দেশের মুদ্রা ভিন্ন জাতীয়।
📄 নোটের মূল্যমান (Value of Currency)
কাগজী নোটের নিজস্ব সত্তাগত কোনো মূল্য নেই- বরং তা কিছু পণ্য ও সেবা (Goods and Services)-এর ক্রয় ক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করে। এ ক্রয় ক্ষমতাকে 'নোটের মূল্যমান' (Value of Currency) বলে। নোটের এই মূল্যমান নির্ধারিত হয় পণ্য ও সেবার মূল্য দ্বারা। পণ্য ও সেবার মূল্য কমে গেলে নোটের মূল্যমান বৃদ্ধি পায়, আর পণ্য ও সেবার মূল্য বৃদ্ধি পেলে নোটের মূল্যমান কমে যায়।
📄 মুদ্রাস্ফীতি (Inflation)
মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দ্রব্যের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়- যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হলো দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়া। আর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মুদ্রার মূল্যমান কমে আসে। এ অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বা Inflation বলে। যদি মুদ্রাস্ফীতি দ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হয়, তাহলে তাকে Demand Pull Inflation বলে। আর যদি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে হয় তাহলে তাকে Cost Push Inflation বলা হয়।
টিকাঃ
১. মুদ্রাস্ফীতির ফলে পণ্যের আসল বিনিময়মূল্য কমে নগদ অর্থের সুযোগব্যয় কমে যায় এবং মানুষ নগদ অর্থ সঞ্চয়ের বদলে তা খরচ করে ফেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এর ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়ের অভাবে ভোগে এবং বিনিয়োগ কমে আসে।
📄 মুদ্রা-সংকোচন (Deflation)
দ্রব্যমূল্য কমে গেলে আর মুদ্রার মূল্যমান বৃদ্ধি পেলে তাকে বাংলায় 'মুদ্রা-সংকোচন', আরবীতে إنكماش এবং ইংরেজিতে Deflation বলে।