📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ব্রেটন উডস সম্মেলনে গৃহীত মুদ্রা বিনিময় নীতি

📄 ব্রেটন উডস সম্মেলনে গৃহীত মুদ্রা বিনিময় নীতি


ব্রেটন উডস ব্যবস্থায় আমেরিকার ডলারকে স্বর্ণের সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়া হয়েছিলো। এক আউন্স স্বর্ণের বিপরীতে আমেরিকা প্রথমে ৩৫ ডলার এবং পরবর্তীতে ৪২ ডলার দিতো। প্রত্যেক দেশ তাদের মুদ্রার মূল্য ডলারের সাথে সম্পৃক্ত করে ঘোষণা করতো। I.M.F. এ নীতি গ্রহণ করে যে, মুদ্রামূল্য নির্ধারিত রেট থেকে ২% হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি হস্তক্ষেপ করে মুদ্রাকে নির্ধারিত মূল্যে নিয়ে আসবে। এ ব্যবস্থায় বিনিময় হার (Exchange Rate) নির্ধারিত (Fixed) ছিলো বলে একে Fixed Exchange Rate System বলা হয়।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ব্রেটন উডস ব্যবস্থার পতন

📄 ব্রেটন উডস ব্যবস্থার পতন


ব্রেটন উডস ব্যবস্থার ভিত্তি ছিলো- কোনো এক সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র তাদের মুদ্রার পরিবর্তে স্বর্ণ দিতে প্রস্তুত আছে। সর্বপ্রথম ফ্রান্স আমেরিকার কাছে ডলারের বিনিময়ে স্বর্ণ দাবি করা শুরু করে। যদ্দরুণ আমেরিকার স্বর্ণের মজুদ কমতে থাকে। অবশেষে ১৯৭১ সালে আমেরিকা স্বর্ণ দিতে অস্বীকার করে বসে। ফলে 'ব্রেটন উডস ব্যবস্থা' (Fixed Exchange Rate System)-এর ইতি ঘটে।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 নতুন মুদ্রানীতি প্রবর্তন

📄 নতুন মুদ্রানীতি প্রবর্তন


ব্রেটন উডস ব্যবস্থার পতনের পর বিনিময় হার ব্যবস্থার জন্য নতুন দু'টি নীতি গৃহীত হয়:-
১. Freely Floating Exchange Rates (মুক্তবাজার নীতি): এতে মুদ্রার রেট খোলা বাজারে ছেড়ে দেয়া হয়- যোগান ও চাহিদার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেট স্থির হতে থাকে।
২. Managed Float (নিয়ন্ত্রিত সঞ্চরণশীল বিনিময় হার): মৌলিকভাবে রেট খোলা বাজারে উন্মুক্ত থাকলেও সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে।

টিকাঃ
১. চলমান মুদ্রানীতির দ্বারা মুদ্রাকে মুক্ত বাজারের পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বড় বড় পুঁজিপতি দেশগুলোর জন্য মুদ্রামানে ঘাপলা করে অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোকে সহজে শোষণ করার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এ কারণেই ইসলাম মুদ্রাকে পণ্যে পরিণত করার অনুমতি কখনোই দেয়নি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px