📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 বিনিময় হার নির্ধারণ

📄 বিনিময় হার নির্ধারণ


বিভিন্ন দেশের মুদ্রার পরস্পর বিনিময় হার কিভাবে নির্ধারিত হয়? বিভিন্ন যুগে এর বিভিন্ন পদ্ধতি চালু ছিলো। ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পৃথিবীতে স্বর্ণমান ব্যবস্থা প্রচলিত ছিলো। তখন দু'দেশের মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারিত হতো মুদ্রার বিপরীতে ধার্যকৃত স্বর্ণের আনুপাতিক হারে।

এরপর ক্রমান্বয়ে স্বর্ণমান ব্যবস্থা নিঃশেষ হয়ে যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যায়। ১৯৩০ সালে বিশ্ববাজারে মন্দা দেখা দেয় এবং সব দেশই নোটের পরিবর্তে স্বর্ণ দেয়া বন্ধ করে দেয়। তারপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইংল্যান্ড ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে যায়। কিন্তু আমেরিকা তখনো অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট সমৃদ্ধশালী ছিলো। ১৯৪৪ সালে আমেরিকার সহযোগিতায় ইউরোপ পুনর্গঠনের জন্য কয়েকটি দেশের এক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় আমেরিকার ব্রেটন উডস (Bretton Woods) শহরে।

টিকাঃ
১. ১৯১৪ সালের ২৮ জুন বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভো শহরে অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রানৎস ফার্ডিনান্ড এক সার্বিয়াবাসীর গুলিতে সস্ত্রীক নিহত হন। ওই বছরেরই ২৮ জুলাই থেকে যুদ্ধ শুরু হয়ে ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ব্রেটন উডস সম্মেলনে প্রস্তাবিত তিন সংস্থা

📄 ব্রেটন উডস সম্মেলনে প্রস্তাবিত তিন সংস্থা


১৯৪৪ সালে ব্রেটন উডস সম্মেলনে তিনটি সংস্থা গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং মুদ্রা বিনিময়ের নীতিমালা নির্ধারিত হয়। প্রস্তাবিত সংস্থা তিনটি হলো- ১ম সংস্থা: ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা’ (International Trade Organization), ২য় সংস্থা: ‘আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল’ (International Monetary Fund) এবং ৩য় সংস্থা: ‘বিশ্বব্যাংক’ (World Bank)।

টিকাঃ
১. ১৯৪৪ সালের ১-২২ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের ব্রেটন উডস শহরে ৪৪টি দেশের ৭৩০ জন প্রতিনিধির অংশগ্রহণে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর মূল নাম ছিলো United Nations Monetary and Financial Conference।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ব্রেটন উডস সম্মেলনে গৃহীত মুদ্রা বিনিময় নীতি

📄 ব্রেটন উডস সম্মেলনে গৃহীত মুদ্রা বিনিময় নীতি


ব্রেটন উডস ব্যবস্থায় আমেরিকার ডলারকে স্বর্ণের সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়া হয়েছিলো। এক আউন্স স্বর্ণের বিপরীতে আমেরিকা প্রথমে ৩৫ ডলার এবং পরবর্তীতে ৪২ ডলার দিতো। প্রত্যেক দেশ তাদের মুদ্রার মূল্য ডলারের সাথে সম্পৃক্ত করে ঘোষণা করতো। I.M.F. এ নীতি গ্রহণ করে যে, মুদ্রামূল্য নির্ধারিত রেট থেকে ২% হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি হস্তক্ষেপ করে মুদ্রাকে নির্ধারিত মূল্যে নিয়ে আসবে। এ ব্যবস্থায় বিনিময় হার (Exchange Rate) নির্ধারিত (Fixed) ছিলো বলে একে Fixed Exchange Rate System বলা হয়।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ব্রেটন উডস ব্যবস্থার পতন

📄 ব্রেটন উডস ব্যবস্থার পতন


ব্রেটন উডস ব্যবস্থার ভিত্তি ছিলো- কোনো এক সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র তাদের মুদ্রার পরিবর্তে স্বর্ণ দিতে প্রস্তুত আছে। সর্বপ্রথম ফ্রান্স আমেরিকার কাছে ডলারের বিনিময়ে স্বর্ণ দাবি করা শুরু করে। যদ্দরুণ আমেরিকার স্বর্ণের মজুদ কমতে থাকে। অবশেষে ১৯৭১ সালে আমেরিকা স্বর্ণ দিতে অস্বীকার করে বসে। ফলে 'ব্রেটন উডস ব্যবস্থা' (Fixed Exchange Rate System)-এর ইতি ঘটে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px