📄 শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের শর্তাবলী
১. শেয়ার ফেইস ভ্যালুর চেয়ে কম-বেশি মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো, কোম্পানির সম্পত্তি শুধু ক্যাশ আকারে না থাকা। যতক্ষণ পর্যন্ত কোম্পানি বিল্ডিং, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ভৌত সম্পত্তি (Fixed Assets) না কিনবে, ততক্ষণ পর্যন্ত শেয়ারের নামিক মূল্য (Face Value) থেকে কম-বেশি মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হবে না।
২. শেয়ার ক্রয় বিক্রয় বৈধ হওয়ার আরেকটি শর্ত হলো, কোম্পানির মূল কারবার হারাম না হওয়া। যেমন: মদের ব্যবসা বা সুদের ব্যবসা।
৩. যদি কোম্পানি মৌলিকভাবে হালাল ব্যবসা করে কিন্তু আনুষঙ্গিকভাবে সুদি ঋণ নেয় বা সুদ গ্রহণ করে, তবে শেয়ারহোল্ডারদেরকে বার্ষিক সভায় এর বিরুদ্ধে দাবি উত্থাপন করতে হবে।
৪. কোম্পানির বণ্টিত লভ্যাংশ (Dividend) থেকে সুদের অংশটুকু সওয়াবের নিয়ত ব্যতীত সদকা করে দিতে হবে।
টিকাঃ
১. ফুকাহায়ে কেরামের নিকট বস্তু দু'প্রকার: ১. সমতুল্য (مِثْلِىّ) বস্তু, ২. মূল্যনির্ভর (قِيْمِىّ) বস্তু।
২. বর্তমান অনেক কোম্পানি সরকারি অনুমোদন লাভের পর পরই স্টক এক্সচেঞ্জে লিস্টেড হয়ে যায়। এ ধরনের অস্তিত্বহীন কোম্পানির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়।
১. আল্লামা তাকী উসমানী দা.বা. কিছু শর্ত সাপেক্ষে শেয়ার কেনা-বেচাকে বৈধ বলছেন। তবে শুরু থেকেই জেনে-শুনে শেয়ারবাজারে জড়িত হওয়া কিছুতেই সমীচীন হবে না।
📄 শেয়ার ব্যবসা তথা Capital Gain এর বিধান
ক্রেতা কোন উদ্দেশ্যে ক্রয় করছে তা ধর্তব্য নয়, বরং শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি বৈধ কি-না তাই হলো বিবেচ্য বিষয়। ক্রয়-বিক্রয়ের শরীয়তী শর্তগুলো মেনে চললে জুয়ার পথ এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে শর্ট সেল (Short Sale) বা অমালিকানাধীন বস্তু বিক্রয় এবং ফিউচার সেল (Future Sale) যেখানে শেয়ার লেনদেন উদ্দেশ্য থাকে না বরং মূল্যের পার্থক্য লেনদেন হয়, তা না-জায়েয। স্পট সেল (Spot Sale) জায়েয আছে। স্পট সেলের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট হস্তগত হওয়ার পূর্বে শেয়ার বিক্রি না করা সতর্কতার দাবি রাখে।
টিকাঃ
১. Speculation (স্পেকিউলেশন) অর্থ: ফটকা কারবার বা অনুমান।
৩. বর্তমানে অনেক লেনদেন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয় যাতে Short Sale করার অবকাশ নেই।
📄 শেয়ারের যাকাত
প্রথম বিষয়: হানাফী মাজহাবে কোম্পানির উপর নয়, বরং প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডারের উপর স্বতন্ত্রভাবে যাকাত ওয়াজিব হবে।
দ্বিতীয় বিষয়: যাকাত বাজারমূল্য (Market Value) হিসেবে আদায় করতে হবে। যদি কেউ মুনাফা অর্জনের জন্য শেয়ার রাখে তবে সে শুধু যাকাতযোগ্য সম্পদের (নগদ অর্থ ও পণ্য) আনুপাতিক যাকাত দিবে। আর যদি কেনাবেচার (Capital Gain) জন্য হয় তবে পূর্ণ মূল্যের যাকাত দিবে।
তৃতীয় বিষয়: কোম্পানির গৃহীত ঋণ যদি যাকাতযোগ্য বস্তু ক্রয়ের পেছনে ব্যয় হয়, তবে তা যাকাতের হিসাব থেকে বাদ পড়বে। অন্যথায় বাদ পড়বে না।
টিকাঃ
৩. ঋণ দুই প্রকার- (১) ব্যবসার উদ্দেশ্যে গৃহীত ঋণ (الدِّيْنُ الاسْتَتْمَارِيُّ) এবং (২) প্রয়োজন পূরণার্থে গৃহীত ঋণ (الدين الاستهلاكي)।