📄 শেয়ারের প্রকৃত স্বরূপ (حَيْث)
সমকালীন হাতে গোনা কিছু আলেমের অভিমত হলো, 'শেয়ার' কোম্পানির সম্পত্তিতে শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানার প্রতিনিধিত্ব করে না। কিন্তু এ দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক বলে মনে হচ্ছে না। কোম্পানির মৌলিক ধারণা এবং এ সমন্ধে লিখিত প্রবন্ধাবলীর আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, কোম্পানির সম্পত্তিতে শেয়ারহোল্ডারদের আনুপাতিক মালিকানা থাকে। এ কারণেই কোম্পানির অবসায়ন ঘটালে শেয়ারহোল্ডারদেরকে শুধু তাদের 'বিনিয়োগকৃত অর্থ' ফেরত দেয়া হয় না; বরং কোম্পানির সম্পত্তির প্রত্যেকের 'আনুপাতিক অংশ' ফেরত দেয়া হয়। অতএব শেয়ার কোম্পানির সম্পত্তিতে শেয়ারহোল্ডারদের আনুপাতিক মালিকানার প্রতিনিধিত্ব করে।
টিকাঃ
১. আইপিও (IPO) পদ্ধতি: IPO-এর পূর্ণ রূপ Initial Public Offering -যার অর্থ হয় 'প্রাথমিক প্রকাশ্য প্রস্তাব'। এ পদ্ধতিতে কোম্পানি তার শেয়ার ক্রয় করার প্রস্তাব সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সামনে পেশ করে।
📄 শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের স্বরূপ (حَيْثُ)
শেয়ারের এ স্বরূপ থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে, শেয়ার নিজে কোনো বস্তু নয়; বরং তার বিপরীতে যে অর্থ ও সম্পত্তি আছে সেটাই আসল বস্তু। সুতরাং শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় মূলত কোম্পানির সম্পত্তি থেকে আনুপাতিক মালিকানার ক্রয়-বিক্রয়। কোম্পানির সম্পত্তি বিভিন্ন অবস্থায় থাকে- নগদ ক্যাশ, আদায়যোগ্য ঋণ, স্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যবসায়ী সরঞ্জাম ইত্যাদি। সুতরাং শেয়ার বিক্রয়ের অর্থ হচ্ছে: 'কোম্পানিতে বিদ্যমান নগদ ক্যাশ, আদায়যোগ্য ঋণ, স্থাবর সম্পত্তি এবং ব্যবসায়ী সরঞ্জাম'- প্রত্যেকটি থেকে নিজের আনুপাতিক অংশের মালিকানা স্বত্ব বিক্রি করা।
📄 শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের শর্তাবলী
১. শেয়ার ফেইস ভ্যালুর চেয়ে কম-বেশি মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো, কোম্পানির সম্পত্তি শুধু ক্যাশ আকারে না থাকা। যতক্ষণ পর্যন্ত কোম্পানি বিল্ডিং, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ভৌত সম্পত্তি (Fixed Assets) না কিনবে, ততক্ষণ পর্যন্ত শেয়ারের নামিক মূল্য (Face Value) থেকে কম-বেশি মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হবে না।
২. শেয়ার ক্রয় বিক্রয় বৈধ হওয়ার আরেকটি শর্ত হলো, কোম্পানির মূল কারবার হারাম না হওয়া। যেমন: মদের ব্যবসা বা সুদের ব্যবসা।
৩. যদি কোম্পানি মৌলিকভাবে হালাল ব্যবসা করে কিন্তু আনুষঙ্গিকভাবে সুদি ঋণ নেয় বা সুদ গ্রহণ করে, তবে শেয়ারহোল্ডারদেরকে বার্ষিক সভায় এর বিরুদ্ধে দাবি উত্থাপন করতে হবে।
৪. কোম্পানির বণ্টিত লভ্যাংশ (Dividend) থেকে সুদের অংশটুকু সওয়াবের নিয়ত ব্যতীত সদকা করে দিতে হবে।
টিকাঃ
১. ফুকাহায়ে কেরামের নিকট বস্তু দু'প্রকার: ১. সমতুল্য (مِثْلِىّ) বস্তু, ২. মূল্যনির্ভর (قِيْمِىّ) বস্তু।
২. বর্তমান অনেক কোম্পানি সরকারি অনুমোদন লাভের পর পরই স্টক এক্সচেঞ্জে লিস্টেড হয়ে যায়। এ ধরনের অস্তিত্বহীন কোম্পানির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়।
১. আল্লামা তাকী উসমানী দা.বা. কিছু শর্ত সাপেক্ষে শেয়ার কেনা-বেচাকে বৈধ বলছেন। তবে শুরু থেকেই জেনে-শুনে শেয়ারবাজারে জড়িত হওয়া কিছুতেই সমীচীন হবে না।
📄 শেয়ার ব্যবসা তথা Capital Gain এর বিধান
ক্রেতা কোন উদ্দেশ্যে ক্রয় করছে তা ধর্তব্য নয়, বরং শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি বৈধ কি-না তাই হলো বিবেচ্য বিষয়। ক্রয়-বিক্রয়ের শরীয়তী শর্তগুলো মেনে চললে জুয়ার পথ এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে শর্ট সেল (Short Sale) বা অমালিকানাধীন বস্তু বিক্রয় এবং ফিউচার সেল (Future Sale) যেখানে শেয়ার লেনদেন উদ্দেশ্য থাকে না বরং মূল্যের পার্থক্য লেনদেন হয়, তা না-জায়েয। স্পট সেল (Spot Sale) জায়েয আছে। স্পট সেলের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট হস্তগত হওয়ার পূর্বে শেয়ার বিক্রি না করা সতর্কতার দাবি রাখে।
টিকাঃ
১. Speculation (স্পেকিউলেশন) অর্থ: ফটকা কারবার বা অনুমান।
৩. বর্তমানে অনেক লেনদেন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয় যাতে Short Sale করার অবকাশ নেই।