📄 শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ
কোম্পানির শেয়ারের মূল্য সর্বদাই ওঠানামা করে। এর পিছনে কোম্পানির সম্পত্তির প্রভাব থাকে- সম্পত্তি বাড়লে মূল্য বাড়ে, সম্পত্তি কমলে মূল্য কমে। সম্পত্তি ছাড়াও কিছু বাহ্যিক কারণেও মূল্য প্রভাবিত হয়। যেমন ব্যবসা ভালো হওয়ায় বেশি লাভের সম্ভাবনা, চাহিদা-যোগান বৃদ্ধি, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ঋতু বৈচিত্র ইত্যাদি। এছাড়া অভৌত কারণ, যেমন বিভিন্ন গুজব ও অনুমান থেকেও মূল্য প্রভাবিত হয়। যেহেতু মূল্যের উত্থান-পতনের পিছনে বিভিন্ন বাহ্যিক কারণও নিহিত থাকে তাই 'শেয়ারমূল্য' দ্বারা কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা জানা যায় না।
কোনো কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেলে সে শেয়ারের মার্কেটকে স্টক এক্সচেঞ্জের পরিভাষায় Bull Market বলে। আর মূল্য হ্রাস পেলে তাকে বলে Bear Market।
টিকাঃ
১. বর্তমানে শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে মার্চেন্ট ব্যাংক। মার্চেন্ট ব্যাংক যে শেয়ার ক্রয়ের জন্য মার্জিন লোন বেশি দেয় সে শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পায়।
১. বুল (Bull) মার্কেট বা বুলিশ (Bullish) মার্কেট- যাকে ষাঁড়ের ছবি দিয়ে বুঝানো হয়। আর যখন অধিক সংখ্যক শেয়ারের দাম ক্রমাগত কয়েকদিন ধরে কমতে থাকে তাকে 'বেয়ার (Bear) মার্কেট' বলে- যাকে ভাল্লুকের ছবি দিয়ে বুঝানো হয়।
📄 শেয়ার ক্রয়ের উদ্দেশ্য (বিনিয়োগ/ অর্থ-উপার্জন)
শেয়ার ক্রয়ের দ্বারা ক্রেতার দু'টি উদ্দেশ্য হতে পারে-
১. বিনিয়োগ: অনেকে কোম্পানিতে অংশীদার হওয়ার জন্য শেয়ার ক্রয় করে এবং শেয়ার নিজের কাছে রেখে বার্ষিক লভ্যাংশ অর্জন করে। তবে এমন লোক খুব কম।
২. অর্থ উপার্জন: অধিকাংশ লোক সরাসরি শেয়ারকেই ব্যবসায়িক পণ্যের ন্যায় ক্রয়-বিক্রয় করে। যখন মূল্য কমে তখন ক্রয় করে আর মূল্য বাড়লে বিক্রি করে দেয়। উভয় মূল্যের মধ্যকার পার্থক্যই তাদের মুনাফা। মূল্য বৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে এভাবে মুনাফা অর্জন করাকে Capital Gain বলে। এভাবে ব্যবসায়িক পণ্যের ন্যায় কোনো শেয়ারের মূল্য ভবিষ্যতে কমবে বা বাড়বে তা আন্দাজ-অনুমান করাকে Speculation বলা হয়। এ আন্দাজ কখনো সঠিক হয়, আবার কখনো ভুলও হয়।
টিকাঃ
১. Capital Gain-এর অর্থ হয় 'মূলধনীয় লাভ'। পুঁজিবাজারে শেয়ারের ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের পার্থক্যের কারণে যে লাভ হয় তাকে Capital Gain বলা হয়।
২. Speculation (স্পেকিউলেশন) অর্থ: ১. ভাবনা, ধারণা, অনুমান। ২. ফটকা কারবার, ফটকাবাজি -এ জাতীয় কোনো লেনদেন।
📄 শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের পদ্ধতি (Spot Sale/Sale On Margin/Short Sale)
শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের তিনটি পদ্ধতি আছে-
১. Spot Sale: পণ্য কেনাবেচার ন্যায় শেয়ার তাৎক্ষণিক হস্তান্তর করে নগদে মূল্য আদায় করে নেয়াকে Spot Sale বলে। তবে এ নগদ বিক্রয়েও শেয়ারের সার্টিফিকেট সাধারণত এক সপ্তাহ পর হস্তগত হয়।
২. Sale On Margin: আংশিক মূল্য তাৎক্ষণিক পরিশোধ করে অবশিষ্ট মূল্য ঋণ রেখে শেয়ার ক্রয় করাকে Sale On Margin বলে। যেমন দশভাগ মূল্য পরিশোধ করে দিলো আর নব্বই ভাগ ঋণ থাকলো।
৩. Short Sale: 'শর্ট সেল' মূলত মালিকানাহীন শেয়ার বিক্রি করে দেয়ার নাম। অর্থাৎ বিক্রেতা এমন শেয়ার বিক্রি করে দেয় যা এখনো তার মালিকানায় আসেনি, কিন্তু তার আস্থা থাকে যে, শেয়ার হাতে পাবে এবং তা ক্রেতাকে প্রদান করতে সক্ষম হবে।
টিকাঃ
১. শেয়ার ক্রয়ের জন্য বিনিয়োগকারীকে ঋণ প্রদানের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যাংকগুলোকে 'মার্চেন্ট ব্যাংক' (Merchant Bank) বলে। আর মার্চেন্ট ব্যাংকের এ ঋণকে 'মার্জিন লোন' (Margin loan) বলে।
২. ব্রোকারেজ হাউজ পর্যবেক্ষণকালে তারা গ্রাহকের প্রত্যেক ট্রেডের ০.৫% টাকা কমিশন হিসেবে কেটে রাখে বলে জানায়।
📄 Spot & Forward Sale / নগদ ও অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়
শেয়ারের ক্রয়-বিক্রয় নগদ ও অগ্রিম এ দু'ভাবেই হয়। নগদ বিক্রয়কে Spot Sale এবং অগ্রিম বিক্রয়কে Forward Sale বলে।
*Spot Sale-এ শেয়ারের বিক্রি তাৎক্ষণিক হয়ে যায় এবং অধিকারও সাথে সাথে স্থানান্তরিত হয়। ক্রেতা তখন থেকেই শেয়ার নেয়ার হকদার হয়ে যায়, কিন্তু কিছু ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অপারগতার কারণে শেয়ার সার্টিফিকেট হস্তান্তর বা ডেলিভারি হতে কিছুটা বিলম্ব হয়।
*Forward Sale-এর বেলায় বিক্রি তাৎক্ষণিক হয়ে যায়, কিন্তু অর্পণ সম্পৃক্ত হয় ভবিষ্যৎ তারিখের সাথে। যেমন শেয়ার বিক্রি এখনি হয়ে গেলো, কিন্তু হস্তান্তর সহ পণ্যের যাবতীয় অধিকার ক্রেতার কাছে যাবে অমুক তারিখে। এরূপ বিক্রির ক্ষেত্রে শেয়ার পরিশোধের নির্ধারিত তারিখে বিক্রেতা কখনো ক্রেতাকে শেয়ার হস্তান্তর করে, আবার কখনো শেয়ার নিজের কাছে রেখে দিয়ে চুক্তির দিনের মূল্য এবং হস্তান্তরের দিনের মূল্যের পার্থক্য পরস্পর সমান করে নেয়।
টিকাঃ
১. বর্তমানে A,B,N এই তিনটি ক্যাটাগরির শেয়ার যেদিন ক্রয় করা হলো তার পরের দিনটি বাদ দিয়ে ক্রয়ের তৃতীয় দিনই বিক্রয়যোগ্য বা Mature (ম্যাচ্যুর) হয়।
৩. বর্তমানে ইলেকট্রিক শেয়ার সিস্টেমে ক্রয়কৃত শেয়ার Mature (ম্যাচ্যুর) হওয়ার আগ পর্যন্ত গ্রাহকের বিও একাউন্টে শেয়ারগুলো লক্ হয়ে থাকে।