📄 শেয়ারবাজার কী ও কেন
কোম্পানির বিধানগুলো বুঝার জন্য শেয়ারবাজারের মৌলিক ব্যাখ্যা সম্পর্কে অবগত হওয়া অত্যাবশ্যক।
শেয়ারবাজার কী ও কেন?
কোনো ব্যক্তি শেয়ার গ্রহণ করে কোম্পানিতে শরীক হওয়ার পর চুক্তি বাতিল করে নিজের অর্থ ফেরত নিতে পারে না; বরং যতদিন পর্যন্ত কোম্পানির অস্তিত্ব থাকবে ততদিন কোম্পানি থেকে শেয়ারের টাকা ফেরত নিতে পারবে না। কিন্তু যেহেতু অনেক শরীকই চুক্তি নিষ্পত্তি করে নিজের অংশ নগদ অর্থে পরিবর্তন করতে চায়, তাই কোম্পানির পক্ষ থেকে এ প্রতিশ্রুতি প্রদান করা জরুরি ছিলো যে, প্রয়োজনের সময় শেয়ারকে নগদ অর্থে রূপান্তর করা যাবে। এ তাগিদেই শেয়ারবাজার প্রতিষ্ঠা লাভ করে- যেখানে শেয়ার বিক্রি করা যায়। অর্থাৎ, কোনো শরীক কোম্পানিতে নিজ অংশীদারিত্ব প্রত্যাহারের মাধ্যমে মূলধন ফেরত না পেলেও শেয়ারবাজারে অন্যের কাছে নিজের শেয়ার বিক্রি করে নিজ মূলধন উদ্ধার করে নিতে পারে- যার ফলে বিক্রেতার পরিবর্তে ক্রেতাকে কোম্পানির শরীক বলে গণ্য করা হয়। যেখানে এরূপভাবে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয় সে স্থানকে 'শেয়ারবাজার' বা 'Stock Exchange' (স্টক এক্সচেঞ্জ) বলে।
টিকাঃ
১. বাংলাদেশের শেয়ারবাজার (Stock Exchange) এর বিষয়াবলী বুঝার জন্য নিম্নোক্ত কয়েকটি বিষয় জানা খুবই জরুরি- ১ম বিষয় হলো: আমাদের বাংলাদেশে দু'টি স্টক এক্সচেইঞ্জ আছে- (১) ঢাকা স্টক এক্সচেইঞ্জ (ডি.এস.ই), (২) চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেইঞ্জ (সি.এস.ই)। এ দুটি স্টক এক্সচেইঞ্জে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিনশ'র মতো কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। ২য় বিষয় হলো: আমাদের দেশে শেয়ারবাজারের 'কর্তা বা অভিভাবক' বলতে যে প্রতিষ্ঠানটিকে বুঝায় তা হলো 'Bangladesh securities and exchange commission' (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেইঞ্জ কমিশন)- সংক্ষেপে বি.এস.ই.সি। ৩য় বিষয় হলো: আমাদের দেশে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তনের তাৎক্ষণিক সমন্বয়সাধনের কাজটি যে কোম্পানি করে তার নাম হলো: 'সেন্ট্রাল ডিপজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেড' সংক্ষেপে 'সিডিবিএল'।
📄 শেয়ার বেচাকেনার পদ্ধতি
শেয়ার কেনাবেচার দু'টি পদ্ধতি আছে:-
(১) দু'ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠানের মধ্যস্থতা ব্যতীত শেয়ার কেনাবেচা করা। এ ধরনের লেনদেনকে Over The Counter Transactions (ওভার-দ্যা-কাউন্টার ট্রানজ্যাকশন) বলে। এ ধরনের লেনদেনের বিশেষ কোনো নিয়ম নেই, তাই এখানে এর বিস্তারিত আলোচনারও প্রয়োজন নেই।
(২) কোনো প্রতিষ্ঠানের মধ্যস্থতায় কেনাবেচা করা। এই মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানটির নামই শেয়ারবাজার (Stock Exchange), যাকে আরবীতে بورصة বলা হয়। এ প্রকার লেনদেন সম্পর্কে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন।
স্টক এক্সচেইঞ্জে শেয়ার কেনাবেচার পদ্ধতি:
স্টক এক্সচেইঞ্জ একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান সরকারের অনুমতি ও পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচার কাজ করে। তবে স্টক এক্সচেইঞ্জে সাধারণত নির্ভরযোগ্য ও মোটামুটি সুনাম সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়ে থাকে। এসব কোম্পানিকে 'তালিকাভুক্ত কোম্পানি' (Listed Companies) বলা হয় এবং এসব কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন উল্লেখিত দু'পদ্ধতিতেই হতে পারে।
টিকাঃ
১. সংক্ষেপে একে 'ও.টি.সি লেনদেন' বলে। ওভার-দ্যা-কাউন্টার (ওটিসি বাজার) অর্থ হলো: স্টক এক্সচেইঞ্জে তালিকাভুক্ত নয় অথবা তালিকাচ্যুত কোম্পানির শেয়ারগুলোর ক্রয় বা বিক্রয়ের জন্য স্টক এক্সচেইঞ্জ কর্তৃক প্রদানকৃত সুবিধাসমূহ।
📄 কোম্পানির তালিকাভুক্তি
স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির তালিকাভুক্তি কখনো কোম্পানি পূর্ণাঙ্গ অস্তিত্ব লাভের পর হয়ে থাকে। আবার কখনো শুধু অনুমোদনের পরপরই কার্যারম্ভের পূর্বেই হয়ে যায়। এমনকি কখনো কখনো শেয়ার ফ্লোট (Float) হবার পূর্বেই কোম্পানির তালিকাভুক্তি হয়ে যায়- যাকে সাময়িক (Provisional) তালিকাভুক্তি বলে। এরূপ তালিকাভুক্ত শেয়ারের কাউন্টার ভিন্ন হয়। যে কোম্পানির শেয়ার Stock Exchange গ্রহণ করে না তাকে Unlisted Companies বলে। এসব কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন শুধু Over The Counter-য়েই হতে পারে, স্টক এক্সচেঞ্জে হতে পারে না।
📄 স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যপদ (Membership)
স্টক এক্সচেঞ্জে যে কেউ চাইলেই শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে না, বরং এজন্য সদস্য হওয়া জরুরি। সদস্য হওয়ার জন্য ফিসও দিতে হয়। সদস্য হওয়ার আবশ্যকতার কারণ হলো স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনগুলো অত্যন্ত জটিল ও শাস্ত্রিক ধরনের। লেনদেন করতে হলে বিশেষ পরিভাষা জানা থাকতে হয়। একজন অনভিজ্ঞ লোক এমন লেনদেনে ভুল করাটাই স্বাভাবিক। অথচ স্টক এক্সচেঞ্জে সম্পাদিত সকল লেনদেন পরিশোধের জিম্মাদার থাকে কর্তৃপক্ষ। আর প্রত্যেক ব্যক্তিকে ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি দিয়ে তার কর্মকাণ্ডের জিম্মাদার হওয়া যায় না। এ কারণে ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতির জন্য সদস্য হওয়া অত্যাবশ্যক করা হয়েছে।