📄 কোম্পানির অর্থসংস্থানের ২য় পদ্ধতি : ঋণ গ্রহণ
নতুন করে শেয়ার জারি করতে গিয়ে কিছু প্রতিকূলতারও সম্মুখীন হতে হয়। যেমন: Authorised Capital-এর সীমা উপেক্ষা করা যায় না। তাছাড়া শেয়ারহোল্ডার বেড়ে যায় এবং কোম্পানিতে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব বিষয় বিবেচনা করে কোম্পানি সাধারণত ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে মূলধন ঘাটতি পূরণ করে থাকে। ঋণ গ্রহণের দু'টি পদ্ধতি রয়েছে:-
(ক) ব্যাংক বা কোনো আর্থিক সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ- যা সাধারণত সুদ ভিত্তিক হয়ে থাকে।
(二) জনসাধারণকে শেয়ার গ্রহণের আহ্বান না করে ঋণ প্রদানের জন্য আহ্বান করা। এক্ষেত্রে বন্ড (Bond) ও ডিবেঞ্চার (Debenture) নামক ঋণের দলিল জারি করা হয়ে থাকে।
📄 বন্ড (Bond/ سَنَدٌ) কী?
'বন্ড' নামক ঋণের দলিল নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য জারি করা হয়। মেয়াদের মধ্যে বাৎসরিক সুদ পাওয়া যায়। এ মেয়াদ কম-বেশি, এমনকি নিরানব্বই বছরেরও হয়ে থাকে। তবে মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পূর্বেও তা বিক্রি করা যায়।
টিকাঃ
১. ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে মূলত সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর প্রাইজবন্ড ব্যবস্থা চালু করে। প্রাইজবন্ড বিক্রি করে সরকার সরাসরি জনগণের কাছ থেকে ঋণ নেয়।
📄 ডিবেঞ্চার (Debenture/شَهَادَةُ الاسْتِشْهَادِ) কী?
ডিবেঞ্চার বন্ডের মতই ঋণের দলিল পত্র। তবে বন্ডের থেকে ডিবেঞ্চারের দু'দিক থেকে ভিন্নতা রয়েছে-
প্রথমত: বন্ড হলো ঋণের সাধারণ দলিল মাত্র। আর ডিবেঞ্চার এমন এক বিশেষ বন্ড যাতে কোম্পানির এক বা একাধিক সম্পত্তিকে দায়বদ্ধ করে দেয়া হয়। যদি কোম্পানি ঋণ আদায় না করে তাহলে আইনিভাবে উক্ত সম্পত্তি থেকে ঋণ উসুল করা হয়। অতএব বন্ড হচ্ছে ঋণের দলিল, আর ডিবেঞ্চার হচ্ছে ঋণের বন্ধকের দলিল।
দ্বিতীয়ত: কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেলে পাওনাদারদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে এক আইনি পর্যায়ক্রম রক্ষা করা হয়। এ পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার পায় ডিবেঞ্চারধারীরা।
📄 পরিবর্তনযোগ্য বন্ড কী?
যে বন্ডকে বাহক চাইলে শেয়ারে পরিণত করে নিতে পারে তাকে পরিবর্তনযোগ্য বন্ড (سَنَدَاتٌ قَابِلَةٌ لِلتَّحْوِيلِ / Convertible bond) বলে। ফলে বাহক এক্ষেত্রে প্রথমে ঋণদাতা, পরবর্তীতে শেয়ারহোল্ডার হিসেবে বিবেচিত হয়।