📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 কোম্পানির অর্থসংস্থানের ১ম পদ্ধতি : শেয়ার জারিকরণ

📄 কোম্পানির অর্থসংস্থানের ১ম পদ্ধতি : শেয়ার জারিকরণ


কখনো বাড়তি মূলধনের চাহিদা পূরণ করার জন্য নতুন শেয়ার জারি করা হয়। তবে তা তখনই সম্ভব যখন 'অনুমোদিত মূলধন' (Authorised Capital)-এ এর অবকাশ থাকে। নতুন জারিকৃত শেয়ার গ্রহণ করার ক্ষেত্রে পুরাতন শেয়ারহোল্ডারদের অগ্রাধিকার লাভ হয়। তাই এ শেয়ারকে Right Share তথা سِهَامُ الْأَوْلَوِيَّةِ বা 'অগ্রাধিকার শেয়ার' বলে। এ শেয়ার গ্রহণ করার দ্বারা পুরাতন শেয়ারহোল্ডারদের দু'টি সুবিধা লাভ হয়:-
(ক) নগদ লাভবান হওয়া: সাধারণত কোম্পানির কার্যকলাপ শুরু করার পর শেয়ারের বাজারমূল্য (Market Value) নামিকমূল্য (Face Value) থেকে বেড়ে যায়। তাই এ মুহূর্তে Face Value-তে শেয়ার ক্রয় করা নিশ্চিত লাভজনক হয়ে থাকে।
(খ) অংশীদারিত্বের অনুপাত অটুট রাখা: নতুন করে শেয়ার জারি করাতে কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধি পায়- যার অনিবার্য ফলস্বরূপ শেয়ারহোল্ডারদের কোম্পানিতে অংশীদারিত্ব হ্রাস পায়। এমতাবস্থায় কোম্পানিতে তাদের অংশীদারিত্বের অনুপাত অটুট রাখার জন্য নতুন শেয়ার ক্রয়ের অগ্রাধিকার তাদেরকেই দেয়া হয়।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 কোম্পানির অর্থসংস্থানের ২য় পদ্ধতি : ঋণ গ্রহণ

📄 কোম্পানির অর্থসংস্থানের ২য় পদ্ধতি : ঋণ গ্রহণ


নতুন করে শেয়ার জারি করতে গিয়ে কিছু প্রতিকূলতারও সম্মুখীন হতে হয়। যেমন: Authorised Capital-এর সীমা উপেক্ষা করা যায় না। তাছাড়া শেয়ারহোল্ডার বেড়ে যায় এবং কোম্পানিতে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব বিষয় বিবেচনা করে কোম্পানি সাধারণত ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে মূলধন ঘাটতি পূরণ করে থাকে। ঋণ গ্রহণের দু'টি পদ্ধতি রয়েছে:-
(ক) ব্যাংক বা কোনো আর্থিক সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ- যা সাধারণত সুদ ভিত্তিক হয়ে থাকে।
(二) জনসাধারণকে শেয়ার গ্রহণের আহ্বান না করে ঋণ প্রদানের জন্য আহ্বান করা। এক্ষেত্রে বন্ড (Bond) ও ডিবেঞ্চার (Debenture) নামক ঋণের দলিল জারি করা হয়ে থাকে।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 বন্ড (Bond/ سَنَدٌ) কী?

📄 বন্ড (Bond/ سَنَدٌ) কী?


'বন্ড' নামক ঋণের দলিল নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য জারি করা হয়। মেয়াদের মধ্যে বাৎসরিক সুদ পাওয়া যায়। এ মেয়াদ কম-বেশি, এমনকি নিরানব্বই বছরেরও হয়ে থাকে। তবে মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পূর্বেও তা বিক্রি করা যায়।

টিকাঃ
১. ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে মূলত সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর প্রাইজবন্ড ব্যবস্থা চালু করে। প্রাইজবন্ড বিক্রি করে সরকার সরাসরি জনগণের কাছ থেকে ঋণ নেয়।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ডিবেঞ্চার (Debenture/شَهَادَةُ الاسْتِشْهَادِ) কী?

📄 ডিবেঞ্চার (Debenture/شَهَادَةُ الاسْتِشْهَادِ) কী?


ডিবেঞ্চার বন্ডের মতই ঋণের দলিল পত্র। তবে বন্ডের থেকে ডিবেঞ্চারের দু'দিক থেকে ভিন্নতা রয়েছে-
প্রথমত: বন্ড হলো ঋণের সাধারণ দলিল মাত্র। আর ডিবেঞ্চার এমন এক বিশেষ বন্ড যাতে কোম্পানির এক বা একাধিক সম্পত্তিকে দায়বদ্ধ করে দেয়া হয়। যদি কোম্পানি ঋণ আদায় না করে তাহলে আইনিভাবে উক্ত সম্পত্তি থেকে ঋণ উসুল করা হয়। অতএব বন্ড হচ্ছে ঋণের দলিল, আর ডিবেঞ্চার হচ্ছে ঋণের বন্ধকের দলিল।
দ্বিতীয়ত: কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেলে পাওনাদারদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে এক আইনি পর্যায়ক্রম রক্ষা করা হয়। এ পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার পায় ডিবেঞ্চারধারীরা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px