📄 শিরকত চুক্তি ও কোম্পানির মধ্যে পার্থক্য
শিরকত চুক্তি (Partnership)-কে আরবীতে شِرْكَةُ الأَشْخَاصِ বলে, আর কোম্পানি (Company)-কে الشَّرِكَةُ الْمُسَاهَمَةُ বলে। শিরকত চুক্তি ও কোম্পানির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু পার্থক্য রয়েছে:-
(১) কর্তৃত্বের দিক থেকে: শিরকত চুক্তিতে প্রত্যেক ব্যক্তি ব্যবসার সকল সম্পত্তির যৌথ মালিক বলে বিবেচিত হয়। প্রত্যেকে প্রত্যেকের উকিল (وكিল) হয়। প্রত্যেকের দায়ও সমান থাকে। পক্ষান্তরে কোম্পানিতে এমনটি হয় না। কোম্পানির অবসায়ন না করে যতদিন তার সত্তাকে বহাল রাখা হবে ততদিন আইন শেয়ারহোল্ডারদের কর্তৃত্বকে অস্বীকার করে।
(২) বাদী-বিবাদী হওয়ার দিক থেকে: শিরকত চুক্তির পক্ষ থেকে কারো বিরুদ্ধে মামলা করা হলে স্বতন্ত্রভাবে প্রত্যেক শরীকই বাদী বা বিবাদী বলে গণ্য হয়। পক্ষান্তরে কোম্পানি নিজেই একটি স্বতন্ত্র সত্তা। তাই নিজেই বাদী-বিবাদী বলে গণ্য হয়।
(৩) আইনগত সত্তা: শিরকত চুক্তির কোনো আইনগত অস্তিত্ব থাকে না। আর কোম্পানির আইনগত অস্তিত্ব থাকে- যাকে বলে 'আইনগত ব্যক্তিসত্তা'।
(৪) চুক্তি প্রত্যাহার: শিরকত চুক্তির কোনো শরীক যে কোনো সময় চুক্তি প্রত্যাহার করে মূলধন উঠিয়ে নিতে পারে। আর কোম্পানিতে মূলধন উঠানো যায় না, তবে শেয়ার বিক্রি করে দেয়া যায়।
(৫) দায়ের সীমা: শিরকত চুক্তির দায়-দেনা ব্যক্তিগত সম্পত্তি পর্যন্তও দায়গ্রস্থ হয়। পক্ষান্তরে কোম্পানির দায়-দেনা শুধু ব্যবসায়ী সম্পত্তি পর্যন্তই সীমিত থাকে।
টিকাঃ
১. শিরকত চুক্তি ও কোম্পানির মধ্যে আরো কিছু পার্থক্য রয়েছে: (৬) সদস্য সংখ্যা: অংশীদারিতে সর্বনিম্ন ২ ও সর্বোচ্চ ২০ জন। প্রাইভেট কোম্পানিতে ২-৫০ জন এবং পাবলিক কোম্পানিতে ৫০-অসীম। (৭) হিসাব নিরীক্ষণ: কোম্পানির জন্য প্রতিবছর বাধ্যতামূলক। (৮) নিবন্ধন: কোম্পানি পরিচালনায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। (৯) মুনাফা বণ্টন: অংশীদারিতে চুক্তি অনুসারে, কোম্পানিতে ডিভিডেন্ড আকারে। (১০) কর: অংশীদারদের ব্যক্তিগত আয়ে নতুন কর লাগে না, শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ডে কর লাগে। (১১) অবসায়ন: অংশীদারি কারবার যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে, কোম্পানির জন্য দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া লাগে।
📄 কোম্পানির অর্থসংস্থানের ১ম পদ্ধতি : শেয়ার জারিকরণ
কখনো বাড়তি মূলধনের চাহিদা পূরণ করার জন্য নতুন শেয়ার জারি করা হয়। তবে তা তখনই সম্ভব যখন 'অনুমোদিত মূলধন' (Authorised Capital)-এ এর অবকাশ থাকে। নতুন জারিকৃত শেয়ার গ্রহণ করার ক্ষেত্রে পুরাতন শেয়ারহোল্ডারদের অগ্রাধিকার লাভ হয়। তাই এ শেয়ারকে Right Share তথা سِهَامُ الْأَوْلَوِيَّةِ বা 'অগ্রাধিকার শেয়ার' বলে। এ শেয়ার গ্রহণ করার দ্বারা পুরাতন শেয়ারহোল্ডারদের দু'টি সুবিধা লাভ হয়:-
(ক) নগদ লাভবান হওয়া: সাধারণত কোম্পানির কার্যকলাপ শুরু করার পর শেয়ারের বাজারমূল্য (Market Value) নামিকমূল্য (Face Value) থেকে বেড়ে যায়। তাই এ মুহূর্তে Face Value-তে শেয়ার ক্রয় করা নিশ্চিত লাভজনক হয়ে থাকে।
(খ) অংশীদারিত্বের অনুপাত অটুট রাখা: নতুন করে শেয়ার জারি করাতে কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধি পায়- যার অনিবার্য ফলস্বরূপ শেয়ারহোল্ডারদের কোম্পানিতে অংশীদারিত্ব হ্রাস পায়। এমতাবস্থায় কোম্পানিতে তাদের অংশীদারিত্বের অনুপাত অটুট রাখার জন্য নতুন শেয়ার ক্রয়ের অগ্রাধিকার তাদেরকেই দেয়া হয়।
📄 কোম্পানির অর্থসংস্থানের ২য় পদ্ধতি : ঋণ গ্রহণ
নতুন করে শেয়ার জারি করতে গিয়ে কিছু প্রতিকূলতারও সম্মুখীন হতে হয়। যেমন: Authorised Capital-এর সীমা উপেক্ষা করা যায় না। তাছাড়া শেয়ারহোল্ডার বেড়ে যায় এবং কোম্পানিতে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব বিষয় বিবেচনা করে কোম্পানি সাধারণত ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে মূলধন ঘাটতি পূরণ করে থাকে। ঋণ গ্রহণের দু'টি পদ্ধতি রয়েছে:-
(ক) ব্যাংক বা কোনো আর্থিক সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ- যা সাধারণত সুদ ভিত্তিক হয়ে থাকে।
(二) জনসাধারণকে শেয়ার গ্রহণের আহ্বান না করে ঋণ প্রদানের জন্য আহ্বান করা। এক্ষেত্রে বন্ড (Bond) ও ডিবেঞ্চার (Debenture) নামক ঋণের দলিল জারি করা হয়ে থাকে।
📄 বন্ড (Bond/ سَنَدٌ) কী?
'বন্ড' নামক ঋণের দলিল নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য জারি করা হয়। মেয়াদের মধ্যে বাৎসরিক সুদ পাওয়া যায়। এ মেয়াদ কম-বেশি, এমনকি নিরানব্বই বছরেরও হয়ে থাকে। তবে মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পূর্বেও তা বিক্রি করা যায়।
টিকাঃ
১. ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে মূলত সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর প্রাইজবন্ড ব্যবস্থা চালু করে। প্রাইজবন্ড বিক্রি করে সরকার সরাসরি জনগণের কাছ থেকে ঋণ নেয়।