📄 লিমিটেড কোম্পানির প্রকৃতি
লিমিটেড কোম্পানিকে আরবীতে الشركة المحدودة বলে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য 'দায়' (مسئولية / Liability) সীমিত হওয়া। লিমিটেড কোম্পানিতে শেয়ার গ্রাহকদের দায় তাদের বিনিয়োগকৃত মূলধন পর্যন্তই সীমিত থাকে। অর্থাৎ, যদি কোম্পানির লোকসান হয় বা কোম্পানি ঋণী হয়ে যায় তাহলে কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ ক্ষতি এই হবে যে, তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থটুকু শুধু গচ্চা যাবে- এর অতিরিক্ত ব্যক্তিগত কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে না। অনুরূপভাবে কোম্পানির দায়ও কোম্পানির সম্পত্তি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। ঋণ আদায়ের জন্য বড়জোর কোম্পানির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে। এ জন্যই লিমিটেড কোম্পানির সাথে লিমিটেড লেখা জরুরি- যাতে ঋণদাতারা একথা জেনেই ঋণ দিতে পারে।
📄 কোম্পানির প্রকার
কোম্পানি দুই প্রকার:-
১) পাবলিক কোম্পানি (الشَّرِكَةُ الْعَامَّةُ) ।
২) প্রাইভেট কোম্পানি (الشَّرِكَةُ الْخَاصَّةُ) ।
📄 প্রাইভেট কোম্পানির পরিচয়
এ নাগাদ আলোচনা পাবলিক কোম্পানি সম্পর্কে ছিলো। প্রাইভেট কোম্পানিও অনুরূপ আইনসম্পন্ন ব্যক্তিসত্তা। কিন্তু এর সদস্য সংখ্যা সীমিত হয়ে থাকে। যেমন: পাকিস্তানে কমপক্ষে ২জন আর সর্বোচ্চ ৫০ জন হতে পারে। এ কোম্পানির মূলধন সংগ্রহের জন্য শেয়ার জারি করা হয় না, তাই এর প্রস্পেক্টাসও ছাপানো হয় না।
📄 শিরকত চুক্তি ও কোম্পানির মধ্যে পার্থক্য
শিরকত চুক্তি (Partnership)-কে আরবীতে شِرْكَةُ الأَشْخَاصِ বলে, আর কোম্পানি (Company)-কে الشَّرِكَةُ الْمُسَاهَمَةُ বলে। শিরকত চুক্তি ও কোম্পানির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু পার্থক্য রয়েছে:-
(১) কর্তৃত্বের দিক থেকে: শিরকত চুক্তিতে প্রত্যেক ব্যক্তি ব্যবসার সকল সম্পত্তির যৌথ মালিক বলে বিবেচিত হয়। প্রত্যেকে প্রত্যেকের উকিল (وكিল) হয়। প্রত্যেকের দায়ও সমান থাকে। পক্ষান্তরে কোম্পানিতে এমনটি হয় না। কোম্পানির অবসায়ন না করে যতদিন তার সত্তাকে বহাল রাখা হবে ততদিন আইন শেয়ারহোল্ডারদের কর্তৃত্বকে অস্বীকার করে।
(২) বাদী-বিবাদী হওয়ার দিক থেকে: শিরকত চুক্তির পক্ষ থেকে কারো বিরুদ্ধে মামলা করা হলে স্বতন্ত্রভাবে প্রত্যেক শরীকই বাদী বা বিবাদী বলে গণ্য হয়। পক্ষান্তরে কোম্পানি নিজেই একটি স্বতন্ত্র সত্তা। তাই নিজেই বাদী-বিবাদী বলে গণ্য হয়।
(৩) আইনগত সত্তা: শিরকত চুক্তির কোনো আইনগত অস্তিত্ব থাকে না। আর কোম্পানির আইনগত অস্তিত্ব থাকে- যাকে বলে 'আইনগত ব্যক্তিসত্তা'।
(৪) চুক্তি প্রত্যাহার: শিরকত চুক্তির কোনো শরীক যে কোনো সময় চুক্তি প্রত্যাহার করে মূলধন উঠিয়ে নিতে পারে। আর কোম্পানিতে মূলধন উঠানো যায় না, তবে শেয়ার বিক্রি করে দেয়া যায়।
(৫) দায়ের সীমা: শিরকত চুক্তির দায়-দেনা ব্যক্তিগত সম্পত্তি পর্যন্তও দায়গ্রস্থ হয়। পক্ষান্তরে কোম্পানির দায়-দেনা শুধু ব্যবসায়ী সম্পত্তি পর্যন্তই সীমিত থাকে।
টিকাঃ
১. শিরকত চুক্তি ও কোম্পানির মধ্যে আরো কিছু পার্থক্য রয়েছে: (৬) সদস্য সংখ্যা: অংশীদারিতে সর্বনিম্ন ২ ও সর্বোচ্চ ২০ জন। প্রাইভেট কোম্পানিতে ২-৫০ জন এবং পাবলিক কোম্পানিতে ৫০-অসীম। (৭) হিসাব নিরীক্ষণ: কোম্পানির জন্য প্রতিবছর বাধ্যতামূলক। (৮) নিবন্ধন: কোম্পানি পরিচালনায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। (৯) মুনাফা বণ্টন: অংশীদারিতে চুক্তি অনুসারে, কোম্পানিতে ডিভিডেন্ড আকারে। (১০) কর: অংশীদারদের ব্যক্তিগত আয়ে নতুন কর লাগে না, শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ডে কর লাগে। (১১) অবসায়ন: অংশীদারি কারবার যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে, কোম্পানির জন্য দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া লাগে।