📄 কোম্পানির বার্ষিক সভা
শেয়ারহোল্ডারদের একটি বার্ষিক সভা হয়। একে الْجَمْعِيَّةُ الْعُمُوْمِيَّةُ السَّنَوِيَّةُ (Annual General Meeting) বলা হয়- যার সংক্ষিপ্ত নাম A.G.M.। উক্ত সভায় বিগত বছরের হিসাব-নিকাশ, অডিট রিপোর্ট ইত্যাদি তুলে ধরে আগত বছরের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় এবং নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। শেয়ারহোল্ডাররা প্রত্যেক শেয়ারের মোকাবেলায় একটি করে ভোট দেয়ার অধিকার পায়। উদাহরণস্বরূপ, কারো দশটি শেয়ার থাকলে সে দশটি ভোট দিতে পারবে। এই বার্ষিক সভায় ভোট দেয়ার পর শেয়ারহোল্ডারদের কোম্পানিতে আর কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না।
📄 কোম্পানির অবসায়ন
কোম্পানি গঠনের পর তা অবসায়নের দু'টি পদ্ধতি হতে পারে:- (ক) A.G.M.-এ কোম্পানি অবসায়নের সিদ্ধান্ত হওয়ার মাধ্যমে। (খ) কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে পরিসম্পদের চেয়ে ঋণ বেড়ে যাওয়ার কারণে। এ উভয় ক্ষেত্রেই কোম্পানিকে সংশ্লিষ্ট আইনি সংস্থা থেকে অবসায়নের মঞ্জুরি নিতে হয়। আইনি সমর্থন ব্যতীত কোম্পানির অস্তিত্ব বিলোপ করা যায় না। সাধারণত এমন ক্ষেত্রে কোম্পানির যাবতীয় সম্পত্তি পাওনাদার ও শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে যথাযথভাবে বণ্টন করে দেয়ার জন্য একজন ব্যবস্থাপক নিয়োগ করা হয়- যাকে Receiver বা Liquidator বলা হয়।
টিকাঃ
১. যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানি কাজকর্ম গুটিয়ে ফেলে, দায়-দেনার নিষ্পত্তি করে, তাকে কোম্পানির অবসায়ন বা বিলোপসাধন বলে। বাংলাদেশে ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২৩৪ (১) ধারায় কোম্পানীর বিলোপসাধনের দু'টি ধরন বলা হয়েছে:- (১) আদালতের নির্দেশে বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন, (২) সেচ্ছায় বিলোপসাধন।
📄 কোম্পানির মুনাফা বণ্টন
বছরান্তেই কোম্পানি হিসাব করে বিগত অর্থবছরের আয়ের অঙ্কটি নিরূপণ করে নেয়। অতঃপর তা থেকে কিছু অংশ সতর্কতামূলক সংরক্ষণ করে- যাতে ভবিষ্যতে যে কোনো সংকটের মোকাবেলা করা যায়। এ ফান্ডকে আরবীতে الاحتِيَاطِي এবং ইংরেজিতে Reserve বলে। Reserve Fund এর টাকা সংরক্ষণের পর অবশিষ্ট মুনাফার উপর সরকারকে ট্যাক্স দিতে হয়। কী পরিমাণ সংরক্ষণ করা হবে তা সাধারণত 'পরিচালনা পর্ষদ' নির্ধারণ করে। আর আইনগতভাবেও একটি সীমা নির্ধারিত থাকে- যাতে করে কোনো কোম্পানি ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার জন্য অধিক মুনাফা সংরক্ষণ করতে না পারে। Reserve রাখার পর অবশিষ্ট মুনাফা শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বণ্টন করা হয়।
কোম্পানির মোট লাভকে الرَّبْحُ বা Profit বলে। সতর্কতামূলক যা সংরক্ষণ করা হয় তাকে الاحتِيَاطِي বা Reserve তথা 'সংরক্ষিত তহবিল' বলে। অবশিষ্ট যা বণ্টন করা হয় তাকে الرَّبْحُ الْمُوَزِّع Dividend তথা 'বণ্টনযোগ্য মুনাফা' বলে।
Profit ও Dividend এর মধ্যে পার্থক্য:
১. সম্পূর্ণ লাভকে Profit, আর Reserve বের করার পর অবশিষ্ট লাভকে Dividend বলে।
২. Profit হলো 'কোম্পানি' নামক আইনগত সত্তার লাভ, আর Dividend হলো শেয়ারহোল্ডারদের লাভ।
📄 বোনাস শেয়ার কী ও কেন?
'Dividend' (তথা 'বণ্টনযোগ্য মুনাফা') দুই পদ্ধতিতে বণ্টন করা হয়। কখনো সরাসরি লাভের টাকা শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বণ্টন করা হয়। আবার কখনো নগদ টাকা দেয়ার পরিবর্তে শেয়ার জারি করে দেয়া হয়। এই ধরনের শেয়ারকে Bonus Share বলে। সাধারণত যখন কোম্পানির ফান্ডে নগদ টাকা কম থাকে তখন এমনটি করা হয়। উদাহরণস্বরূপ কোনো শেয়ার হোল্ডারের লাভ ১০ টাকা। তো এই দশ টাকা দেয়ার পরিবর্তে ১০ টাকার শেয়ার দিয়ে দেয়া হয়। এটাই বোনাস শেয়ার।