📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 শেয়ারের প্রকার

📄 শেয়ারের প্রকার


জারি করার পদ্ধতির দিক থেকে শেয়ার দু'প্রকার। কেননা, শেয়ার জারি করার দু'টি পদ্ধতি রয়েছে:-
(ক) কখনো শেয়ার সার্টিফিকেটের উপর মালিকের নাম লিখে জারি করা হয়- যাকে "السَّهْمُ الْمُسَجَّلِ" (Registered Share) বলা হয়।
(খ) কখনো শেয়ার সার্টিফিকেটে কারো নাম লেখা ব্যতীতই জারি করা হয়। এক্ষেত্রে বাহকই মালিক হিসেবে গণ্য হয়- যাকে "السَّهْمُ لِحَامِلِهِ" (Bearer Share) বলা হয়। পাকিস্তানে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার রেজিস্ট্রিকৃতই হয়ে থাকে। কোনো কোনো কোম্পানির শেয়ার Bearer-ও হয়ে থাকে। যেমন N.I.T.-এর শেয়ার দু'রকমই হয়ে থাকে।

শেয়ারহোল্ডাররা বিশেষ সুবিধা পাওয়া কিংবা পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করার দিক থেকেও শেয়ার দু'প্রকার:-
১. সাধারণ শেয়ার তথা Ordinary Share / السهم العادي।
২. অগ্রাধিকার শেয়ার তথা Preference Share / السهم الممتاز।

এ দু'প্রকার শেয়ারের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো, অগ্রাধিকার শেয়ারধারীকে মুনাফা বণ্টন ও মতামত প্রদানের ক্ষেত্রে সাধারণ শেয়ারধারীর উপর প্রাধান্য দেয়া হয়। এ প্রাধান্য প্রদানের বেশ কিছু রূপ হতে পারে:-
(ক) অগ্রাধিকার শেয়ারধারীদের বিনিয়োগকৃত মূলধনের শতকরা নির্ধারিত হারে (যেমন ১০%) লভ্যাংশ দেয়া হয়। প্রথমে তাদের দেয়ার পর কিছু অবশিষ্ট থাকলে সাধারণ শেয়ারধারীরা পায়, নতুবা তারা বঞ্চিত থাকে। ঘটনাক্রমে কোনো বছর কোম্পানির লাভ না হলেও অগ্রাধিকার শেয়ারধারীদের লাভ সুনিশ্চিত থাকে। পরবর্তী যে বছরই লাভ হবে আগে তাদের পাওনা পূর্ণভাবে আদায় করে দেয়ার পর কিছু অবশিষ্ট থাকলে তা সাধারণ শেয়ারধারীদের দেয়া হয়।
(খ) কখনো অগ্রাধিকার শেয়ারের লভ্যাংশের হার সাধারণ শেয়ার থেকে বেশি ধার্য করা হয়।
(গ) কখনো কোম্পানির বার্ষিক সভায় অগ্রাধিকার শেয়ারধারীদের ভোটাধিকার দেয়া হয়- যা থেকে সাধারণ শেয়ারধারীরা বঞ্চিত থাকে।
(ঘ) কখনো অগ্রাধিকার শেয়ারধারীরা অধিক ভোটাধিকার পায়। যেমন: তাদের দু'টি, আর সাধারণ শেয়ারধারীদের একটি করে ভোটাধিকার দেয়া হলো।

টিকাঃ
২. বর্তমানে বাংলাদেশে শুধু ইলেকট্রিক শেয়ারই লেনদেন হয়।
৩. এর পূর্ণরূপ 'ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট'- যার অর্থ হয়: 'জাতীয় বিনিয়োগ তহবিল'।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 কোম্পানি কিভাবে পরিচালিত হয়

📄 কোম্পানি কিভাবে পরিচালিত হয়


কোম্পানি একটি কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা- যা আইনগত অস্তিত্বে আসার পর কার্যারম্ভ করে। কিন্তু তা যেহেতু রক্তে-মাংসে গড়া কোনো বাস্তব সত্তা নয়, তাই আইনানুগ পরিচালনার জন্য সকল শেয়ারহোল্ডারদের ভোটের মাধ্যমে কতক শেয়ারহোল্ডারকে বাছাই করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে 'পরিচালনা পর্ষদ' তথা (مجلس الإدارة Board of Directors) বলা হয়। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে একজনকে প্রধান নির্বাচন করা হয়- যাকে 'প্রধান নির্বাহী' তথা (العَضُوُ الْمُنْتَدَبُ Chief Executive) বলে। এই 'প্রধান নির্বাহী' পরিচালনা কমিটি থেকেও নির্বাচিত হতে পারেন, আবার বাহির থেকেও কাউকে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে- তবে সর্বাবস্থাতেই তিনি বোর্ডের কার্যধারা অনুযায়ী পরিচালিত হবেন।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 কোম্পানির বার্ষিক সভা

📄 কোম্পানির বার্ষিক সভা


শেয়ারহোল্ডারদের একটি বার্ষিক সভা হয়। একে الْجَمْعِيَّةُ الْعُمُوْمِيَّةُ السَّنَوِيَّةُ (Annual General Meeting) বলা হয়- যার সংক্ষিপ্ত নাম A.G.M.। উক্ত সভায় বিগত বছরের হিসাব-নিকাশ, অডিট রিপোর্ট ইত্যাদি তুলে ধরে আগত বছরের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় এবং নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। শেয়ারহোল্ডাররা প্রত্যেক শেয়ারের মোকাবেলায় একটি করে ভোট দেয়ার অধিকার পায়। উদাহরণস্বরূপ, কারো দশটি শেয়ার থাকলে সে দশটি ভোট দিতে পারবে। এই বার্ষিক সভায় ভোট দেয়ার পর শেয়ারহোল্ডারদের কোম্পানিতে আর কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 কোম্পানির অবসায়ন

📄 কোম্পানির অবসায়ন


কোম্পানি গঠনের পর তা অবসায়নের দু'টি পদ্ধতি হতে পারে:- (ক) A.G.M.-এ কোম্পানি অবসায়নের সিদ্ধান্ত হওয়ার মাধ্যমে। (খ) কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে পরিসম্পদের চেয়ে ঋণ বেড়ে যাওয়ার কারণে। এ উভয় ক্ষেত্রেই কোম্পানিকে সংশ্লিষ্ট আইনি সংস্থা থেকে অবসায়নের মঞ্জুরি নিতে হয়। আইনি সমর্থন ব্যতীত কোম্পানির অস্তিত্ব বিলোপ করা যায় না। সাধারণত এমন ক্ষেত্রে কোম্পানির যাবতীয় সম্পত্তি পাওনাদার ও শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে যথাযথভাবে বণ্টন করে দেয়ার জন্য একজন ব্যবস্থাপক নিয়োগ করা হয়- যাকে Receiver বা Liquidator বলা হয়।

টিকাঃ
১. যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানি কাজকর্ম গুটিয়ে ফেলে, দায়-দেনার নিষ্পত্তি করে, তাকে কোম্পানির অবসায়ন বা বিলোপসাধন বলে। বাংলাদেশে ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২৩৪ (১) ধারায় কোম্পানীর বিলোপসাধনের দু'টি ধরন বলা হয়েছে:- (১) আদালতের নির্দেশে বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন, (২) সেচ্ছায় বিলোপসাধন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px