📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 শেয়ার কী

📄 শেয়ার কী


কোম্পানিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ করে কোনো কোম্পানির অংশীদারিত্ব গ্রহণ করলে কোম্পানি একটি সার্টিফিকেট প্রদান করে- যা কোম্পানিতে বিদ্যমান অংশের প্রমাণ বহন করে। এ সার্টিফিকেটকে আরবীতে سهم এবং ইংরেজিতে Share বলা হয়।

টিকাঃ
২. মূলত শেয়ার বলা হয় কোম্পানিতে বিদ্যমান সম্পত্তির অংশটুকুকে, আর সার্টিফিকেটটিকে বলা হয় 'শেয়ার সার্টিফিকেট'।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ

📄 শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ


যে পরিমাণ মূলধন দিয়ে ব্যবসা শুরু করা হচ্ছে তা ক্ষুদ্র কিন্তু সমান কিছু এককে বিভক্ত করে একেকটি ভাগকে এক এককের মূল্য ধার্য করা হয়। যেমন বর্তমানে সাধারণত দশ টাকা করে শেয়ার জারি করা হয়। এ মূল্য শেয়ার সার্টিফিকেটের গায়ে লিখে দেয়া হয়। অতএব আমরা শেয়ার সার্টিফিকেটের গায়ে যে মূল্যটি লিখিত দেখতে পাই তা মূলত প্রথমবার জারি করার সময়ের মূল্য- যাকে আরবীতে القِيمَةُ الاسْمِيَّة আর ইংরেজিতে Face Value বা Par Value বলা হয়।

টিকাঃ
১. বাংলায় একে 'অভিহিত মূল্য' বা 'নামিক মূল্য' বলে। শেয়ারবাজারে কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্তির সময়ই এ মূল্য নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশের শেয়ারবাজার আইন অনুযায়ী ২০১১ সালের পর থেকে তালিকাভুক্ত প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর শেয়ারবাজারে 'অভিহিত মূল্য' বলে কিছু নেই।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 শেয়ারের প্রকার

📄 শেয়ারের প্রকার


জারি করার পদ্ধতির দিক থেকে শেয়ার দু'প্রকার। কেননা, শেয়ার জারি করার দু'টি পদ্ধতি রয়েছে:-
(ক) কখনো শেয়ার সার্টিফিকেটের উপর মালিকের নাম লিখে জারি করা হয়- যাকে "السَّهْمُ الْمُسَجَّلِ" (Registered Share) বলা হয়।
(খ) কখনো শেয়ার সার্টিফিকেটে কারো নাম লেখা ব্যতীতই জারি করা হয়। এক্ষেত্রে বাহকই মালিক হিসেবে গণ্য হয়- যাকে "السَّهْمُ لِحَامِلِهِ" (Bearer Share) বলা হয়। পাকিস্তানে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার রেজিস্ট্রিকৃতই হয়ে থাকে। কোনো কোনো কোম্পানির শেয়ার Bearer-ও হয়ে থাকে। যেমন N.I.T.-এর শেয়ার দু'রকমই হয়ে থাকে।

শেয়ারহোল্ডাররা বিশেষ সুবিধা পাওয়া কিংবা পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করার দিক থেকেও শেয়ার দু'প্রকার:-
১. সাধারণ শেয়ার তথা Ordinary Share / السهم العادي।
২. অগ্রাধিকার শেয়ার তথা Preference Share / السهم الممتاز।

এ দু'প্রকার শেয়ারের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো, অগ্রাধিকার শেয়ারধারীকে মুনাফা বণ্টন ও মতামত প্রদানের ক্ষেত্রে সাধারণ শেয়ারধারীর উপর প্রাধান্য দেয়া হয়। এ প্রাধান্য প্রদানের বেশ কিছু রূপ হতে পারে:-
(ক) অগ্রাধিকার শেয়ারধারীদের বিনিয়োগকৃত মূলধনের শতকরা নির্ধারিত হারে (যেমন ১০%) লভ্যাংশ দেয়া হয়। প্রথমে তাদের দেয়ার পর কিছু অবশিষ্ট থাকলে সাধারণ শেয়ারধারীরা পায়, নতুবা তারা বঞ্চিত থাকে। ঘটনাক্রমে কোনো বছর কোম্পানির লাভ না হলেও অগ্রাধিকার শেয়ারধারীদের লাভ সুনিশ্চিত থাকে। পরবর্তী যে বছরই লাভ হবে আগে তাদের পাওনা পূর্ণভাবে আদায় করে দেয়ার পর কিছু অবশিষ্ট থাকলে তা সাধারণ শেয়ারধারীদের দেয়া হয়।
(খ) কখনো অগ্রাধিকার শেয়ারের লভ্যাংশের হার সাধারণ শেয়ার থেকে বেশি ধার্য করা হয়।
(গ) কখনো কোম্পানির বার্ষিক সভায় অগ্রাধিকার শেয়ারধারীদের ভোটাধিকার দেয়া হয়- যা থেকে সাধারণ শেয়ারধারীরা বঞ্চিত থাকে।
(ঘ) কখনো অগ্রাধিকার শেয়ারধারীরা অধিক ভোটাধিকার পায়। যেমন: তাদের দু'টি, আর সাধারণ শেয়ারধারীদের একটি করে ভোটাধিকার দেয়া হলো।

টিকাঃ
২. বর্তমানে বাংলাদেশে শুধু ইলেকট্রিক শেয়ারই লেনদেন হয়।
৩. এর পূর্ণরূপ 'ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট'- যার অর্থ হয়: 'জাতীয় বিনিয়োগ তহবিল'।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 কোম্পানি কিভাবে পরিচালিত হয়

📄 কোম্পানি কিভাবে পরিচালিত হয়


কোম্পানি একটি কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা- যা আইনগত অস্তিত্বে আসার পর কার্যারম্ভ করে। কিন্তু তা যেহেতু রক্তে-মাংসে গড়া কোনো বাস্তব সত্তা নয়, তাই আইনানুগ পরিচালনার জন্য সকল শেয়ারহোল্ডারদের ভোটের মাধ্যমে কতক শেয়ারহোল্ডারকে বাছাই করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে 'পরিচালনা পর্ষদ' তথা (مجلس الإدارة Board of Directors) বলা হয়। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে একজনকে প্রধান নির্বাচন করা হয়- যাকে 'প্রধান নির্বাহী' তথা (العَضُوُ الْمُنْتَدَبُ Chief Executive) বলে। এই 'প্রধান নির্বাহী' পরিচালনা কমিটি থেকেও নির্বাচিত হতে পারেন, আবার বাহির থেকেও কাউকে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে- তবে সর্বাবস্থাতেই তিনি বোর্ডের কার্যধারা অনুযায়ী পরিচালিত হবেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px