📄 কোম্পানির কার্যারম্ভ
কোম্পানি গঠনের পর জনসাধারণকে শেয়ার গ্রহণের আহ্বান করার পূর্বে সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মপন্থা সম্পর্কে অবগত করা আইনত আবশ্যক। এতে জনগণ কোম্পানি সম্পর্কে আস্থাবান হতে পারে। জনসাধারণকে কোম্পানির কার্যপ্রণালী ও সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে অবগত করানোর জন্য যে লিখিত বিবরণ প্রচার করা হয় তাকে আরবীতে نَشْرَةُ الْإِصْدَارِ এবং ইংরেজিতে Prospectus (প্রোস্পেকটাস্- যার অর্থ বিজ্ঞাপনপত্র) বলা হয়।
📄 কোম্পানির মূলধনসমূহের পরিচয়
সরকার কোম্পানিকে অনুমোদন প্রদানের সময় মূলধনের একটি সীমা নির্ধারণ করে দেয়। নির্ধারিত সেই সীমার মধ্যেই শেয়ার ছাড়া যায় বা শেয়ার গ্রহণের জন্য লোকদের আহ্বান করা যায়। একে ‘অনুমোদিত মূলধন’ তথা رأس المال المصرح به বা رأس المال المسموح বলা হয় এবং ইংরেজিতে Authorised Capital বলা হয়。
অনুমোদিত মূলধন থেকে একটি পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়- যা কোম্পানির উদ্যোক্তারা আদায় করবে। একে ‘উদ্যোক্তা মূলধন’ তথা “Sponsors Capital" বলা হয়।
অতঃপর যে পরিমাণ মূলধনের শেয়ার জারি করে জনসাধারণকে শেয়ার গ্রহণের উন্মুক্ত আহ্বান করা হয় তাকে ‘বিলিযোগ্য মূলধন’ তথা رأس المال المعروض (Issued Capital) বলে。
অতঃপর শেয়ার ছাড়ার পর জনসাধারণ ও উদ্যোক্তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফরম পূরণ করে যে পরিমাণ মূলধনের শেয়ার গ্রহণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করে তাকে ‘বিলিকৃত মূলধন’ তথা رأس المال المساهم বা رأس المال المكتتب (Subscribed Capital) বলা হয়。
অতঃপর যারা ‘Subscription’ করেছে তাদের প্রতিশ্রুত অঙ্কের পুরোটা একসাথে পরিশোধ করা আবশ্যক নয়- কখনো কিস্তিতে উসুল করা হতে পারে। এক্ষেত্রে মূলধনের যে পরিমাণ উসুল হয়ে যায় সেটাকে ‘পরিশোধিত মূলধন’ তথা رأس المال المدفوع (Paid Up Capital) বলা হয়。
টিকাঃ
১. Subscription (সাবস্ক্রিপশন) অর্থ ‘চাঁদা’। এখানে উদ্দেশ্য শেয়ার গ্রহণের মাধ্যমে যারা কোম্পানির মূলধন যোগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
📄 একটি দৃষ্টান্ত
মনেকরি, কোনো কোম্পানি ১০০ মিলিয়ন টাকার ব্যবসা করার অনুমোদন পেয়েছে। তাহলে ১০০ মিলিয়ন টাকা ‘অনুমোদিত মূলধন’ (Authorised Capital)। তন্মধ্যে ২০ মিলিয়ন টাকা কোম্পানির উদ্যোক্তাদের দায়িত্বে- যার ১০ মিলিয়ন টাকা তারা ইতিমধ্যে পরিশোধ করে দিয়েছে। তাহলে এই ১০ মিলিয়ন হচ্ছে ‘উদ্যোক্তা মূলধন’ (Sponsors Capital)-এর ‘পরিশোধিত মূলধন’ (Paid Up Capital)। অবশিষ্ট ৮০ মিলিয়ন শেয়ার ছেড়ে জনসাধারণ থেকে উসুল করা হবে- যার ৬০ মিলিয়নের শেয়ার বর্তমানে জারি করা হচ্ছে, আর ২০ মিলিয়ন ভবিষ্যতের কোনো প্রয়োজনের জন্য রাখা হচ্ছে। তাহলে এই ৬০ মিলিয়ন টাকা 'বিলিযোগ্য মূলধন' (Issued Capital)। এই ৬০ মিলিয়ন টাকার ৫০ মিলিয়নের জন্য জনগণ আবেদনপত্র জমা দিলো, তাহলে এটা 'বিলিকৃত মূলধন' (Subscribed Capital)। এই ৫০ মিলিয়ন থেকে যতটুকু উসুল হয়ে যাবে তা 'বিলিকৃত মূলধন' (Subscribed Capital)-এর 'পরিশোধিত মূলধন' (Paid Up Capital)।
টিকাঃ
১ দৃষ্টান্তটি সহজে বুঝার জন্য ছক আকারে দেয়া হলো:-
AUTHORISED CAPITAL / অনুমোদিত মূলধন = ১০০ মিলিয়ন ৳
Sponsors Capital / উদ্যোক্তা মূলধন = ২০ মিলিয়ন ৳ (Paid Up: ১০ মিলিয়ন, Un-paid: ১০ মিলিয়ন)
Share Capital = ৮০ মিলিয়ন ৳
Issued Capital / বিলিযোগ্য মূলধন = ৬০ মিলিয়ন ৳ (Subscribed: ৫০ মিলিয়ন, Un-subscribed: ১০ মিলিয়ন)
Un-issued Capital / অবিলিযোগ্য মূলধন = ২০ মিলিয়ন ৳
📄 অবলেখন বা দায়গ্রহণ (Under Writing)
কোম্পানির বিলিযোগ্য মূলধনের তুলনায় আবেদনপত্র কখনো বেশি হয়ে গেলে লটারির মাধ্যমে শেয়ার বিলি করা হয়। আবার কখনো কাঙ্ক্ষিত মূলধনের তুলনায় আবেদনপত্র কমও জমা হতে পারে- অর্থাৎ দেখা গেলো জারিকৃত সবগুলো শেয়ার জনগণ নেয়নি। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে কোম্পানি এ মর্মে চুক্তিবদ্ধ হয় যে, জনগণ যে শেয়ারগুলো গ্রহণ করবে না সেগুলোর দায় তারা গ্রহণ করবে। এভাবে কোম্পানির অবিলিকৃত শেয়ারগুলোর দায় গ্রহণকে ‘অবলেখন’ (ضَمَانُ الْإِكْتِتَابِ / Under Writing) বলা হয়。
দায়গ্রহণকারী কোম্পানির লাভ:
১. ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান দায় গ্রহণের বিনিময়ে কোম্পানি থেকে নির্দিষ্ট হারে (যেমন: মোট মূলধনের ১%) কমিশন গ্রহণ করে। এ কমিশন দায় গ্রহণকারী সর্বাবস্থাতেই ভোগ করে- চাই পরবর্তীতে শেয়ার গ্রহণ করতে হোক বা না হোক。
২. পরবর্তী পরিস্থিতিতে শেয়ার নিতে হলেও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাধারণত সেগুলোকে নিজের কাছে রাখে না, বরং ক্রয়মূল্য থেকে বেশি দামে বিক্রি করে লাভবান হয়।
বিঃদ্র: এ দায়চুক্তি এক ব্যাংকের সাথেও হতে পারে, আবার অল্প অল্প মূলধন করে কয়েক ব্যাংকের সাথেও হতে পারে。
টিকাঃ
১. তৃতীয়ত: কখনো শেয়ার নিজের কাছে রেখে দিয়ে বাৎসরিক ডিভিডেন্ট অর্জন করে।