📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 কোম্পানির গঠন পদ্ধতি

📄 কোম্পানির গঠন পদ্ধতি


প্রথম ধাপ
সর্বপ্রথম বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়। এতে প্রস্তাবিত কোম্পানির সাফল্যের সম্ভাবনা নিরূপণ করে সম্ভাব্য উপকরণ ও পুঁজির পরিসংখ্যান করা হয়। একে تَقْرِيرُ الإِمْكَانِيَّات (Feasibility Report) বলা হয়।

দ্বিতীয় ধাপ
দ্বিতীয় পর্যায়ে কোম্পানির সংক্ষিপ্ত রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়- যাতে কোম্পানির নাম, ব্যবসার ধরন, প্রার্থীত মূলধন, বর্তমানে পরিচালক কারা হচ্ছে, ভবিষ্যতে তাদের নিয়োগ-বরখাস্তের মূলনীতি ইত্যাদি লিপিবদ্ধ করা হয়। একে مُذَكَّرَة / Memorandom (মেমোরেন্ডাম) বলা হয়।

তৃতীয় ধাপ
অতঃপর কোম্পানির ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিমালা লিখা হয়- যাকে আরবীতে لَائِحَةُ الْجَمْعِيَّةِ বা النظام الجمعية এবং ইংরেজিতে Articles of Association বলা হয়।

চতুর্থ ধাপ
অতঃপর Memorandom এবং Articles of Association সম্বলিত আবেদনপত্র সরকারের কাছে পেশ করা হয়। অর্থমন্ত্রণালয়ের অধিনস্ত সংস্থা 'কর্পোরেট ল-অথরিটি' (Corporate Law Authority) কর্তৃক আবেদনপত্র মঞ্জুর হলে কোম্পানি অস্তিত্ব লাভ করেছে বলে বিবেচিত হয়।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা

📄 কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা


আইনানুগ অনুমোদন লাভের মাধ্যমে কোম্পানি একটি কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে- যা প্রকৃত ব্যক্তিসত্তার ন্যায় ক্রয়-বিক্রয়, বাদী-বিবাদী, দাতা-গ্রহীতা সবই হতে পারে। একে 'আইনগত ব্যক্তিসত্তা' (Legal Person বা Juristic Person বা Juridical Person) বলা হয়। কখনো একে 'কাল্পনিক ব্যক্তিসত্তা' (Fictitious Person)-ও বলা হয়।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 কোম্পানির কার্যারম্ভ

📄 কোম্পানির কার্যারম্ভ


কোম্পানি গঠনের পর জনসাধারণকে শেয়ার গ্রহণের আহ্বান করার পূর্বে সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মপন্থা সম্পর্কে অবগত করা আইনত আবশ্যক। এতে জনগণ কোম্পানি সম্পর্কে আস্থাবান হতে পারে। জনসাধারণকে কোম্পানির কার্যপ্রণালী ও সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে অবগত করানোর জন্য যে লিখিত বিবরণ প্রচার করা হয় তাকে আরবীতে نَشْرَةُ الْإِصْدَارِ এবং ইংরেজিতে Prospectus (প্রোস্পেকটাস্- যার অর্থ বিজ্ঞাপনপত্র) বলা হয়।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 কোম্পানির মূলধনসমূহের পরিচয়

📄 কোম্পানির মূলধনসমূহের পরিচয়


সরকার কোম্পানিকে অনুমোদন প্রদানের সময় মূলধনের একটি সীমা নির্ধারণ করে দেয়। নির্ধারিত সেই সীমার মধ্যেই শেয়ার ছাড়া যায় বা শেয়ার গ্রহণের জন্য লোকদের আহ্বান করা যায়। একে ‘অনুমোদিত মূলধন’ তথা رأس المال المصرح به বা رأس المال المسموح বলা হয় এবং ইংরেজিতে Authorised Capital বলা হয়。

অনুমোদিত মূলধন থেকে একটি পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়- যা কোম্পানির উদ্যোক্তারা আদায় করবে। একে ‘উদ্যোক্তা মূলধন’ তথা “Sponsors Capital" বলা হয়।

অতঃপর যে পরিমাণ মূলধনের শেয়ার জারি করে জনসাধারণকে শেয়ার গ্রহণের উন্মুক্ত আহ্বান করা হয় তাকে ‘বিলিযোগ্য মূলধন’ তথা رأس المال المعروض (Issued Capital) বলে。

অতঃপর শেয়ার ছাড়ার পর জনসাধারণ ও উদ্যোক্তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফরম পূরণ করে যে পরিমাণ মূলধনের শেয়ার গ্রহণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করে তাকে ‘বিলিকৃত মূলধন’ তথা رأس المال المساهم বা رأس المال المكتتب (Subscribed Capital) বলা হয়。

অতঃপর যারা ‘Subscription’ করেছে তাদের প্রতিশ্রুত অঙ্কের পুরোটা একসাথে পরিশোধ করা আবশ্যক নয়- কখনো কিস্তিতে উসুল করা হতে পারে। এক্ষেত্রে মূলধনের যে পরিমাণ উসুল হয়ে যায় সেটাকে ‘পরিশোধিত মূলধন’ তথা رأس المال المدفوع (Paid Up Capital) বলা হয়。

টিকাঃ
১. Subscription (সাবস্ক্রিপশন) অর্থ ‘চাঁদা’। এখানে উদ্দেশ্য শেয়ার গ্রহণের মাধ্যমে যারা কোম্পানির মূলধন যোগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px