📄 ‘সম্পদ বণ্টনে’ ব্যবস্থাত্রয়ের সামগ্রিক প্রভাব
সমাজতন্ত্র সম্পদ সমবণ্টনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আবির্ভাব হয়েছিলো, কিন্তু বাস্তবে বেতন-মজুরির আকাশ-পাতাল তারতম্য সৃষ্টি হয়েছিলো এবং শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। বার্লিনের প্রাচীর ভেঙে দেওয়ার ঘটনা সমাজতন্ত্রের ব্যর্থতার এক বাস্তব স্বীকৃতি।
ধনতন্ত্রে সম্পদ বণ্টন বাস্তবিকই সুষম নয়। ব্যক্তিগত মুনাফার প্রেরণাকে লাগামহীন ছাড়ার দরুণ একচ্ছত্র ঠিকাদারি, সুদ, জুয়া এবং লটারীতে বাজার আজো সরগরম হচ্ছে। ফলে হাজার হাজার জনসাধারণের সম্পদ ক্রমে কতিপয় ব্যক্তির হাতে পুঞ্জীভূত হচ্ছে। সুদ ব্যবস্থা সম্পদ বণ্টনে চরম অসমতা সৃষ্টি করে। বড় পুঁজিপতিরা ব্যাংক থেকে জনসাধারণের গচ্ছিত টাকা ঋণ নিয়ে বিপুল লাভ করে, কিন্তু তার অতি সামান্য অংশ সাধারণ আমানতকারীদের প্রদান করে।
ইসলামী শিক্ষা পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারলে ধনতন্ত্র থেকে বহুগুণ বেশি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পদ বণ্টন হবে। কেবল সুদ হারাম হওয়ার বিষয়টিকে বিবেচনা করলেও কথাটি পরিষ্কার হয়ে যায়। সুদ নিষিদ্ধ হলে ব্যবসার অর্থায়ন হবে লাভ-লোকসানে শরীক হওয়ার ভিত্তিতে। ফলে অর্থ গ্রহীতা লাভবান হলে দাতাও তা থেকে লভ্যাংশ পাবে, আর লোকসান হলে দায় দুজনেই বহন করবে। অতঃপর পুঁজিপতির ভাগে যে লভ্যাংশ থাকবে তা থেকেও যাকাত, সদকা ইত্যাদির মাধ্যমে দরিদ্র জনসাধারণের কাছে একাংশ ফিরে আসবে। এর সুস্পষ্ট ফলাফল হলো, পুঁজিপতিদের মধ্যে সম্পদ কুক্ষিগত না থেকে সাধারণ জনগণের দিকে তা প্রবাহিত হবে।
টিকাঃ
১. খুলাফায়ে রাশেদীন- বিশেষত ওমর বিন খাত্তাব রা. ও ওমর ইবনে আব্দুল আজীজ রহ. প্রমুখের যুগে ইসলামী বিধান পূর্ণ বাস্তবায়নের ফলে এত স্বচ্ছল সমাজ গঠিত হয়েছিলো যে, যাকাত গ্রহণের লোক পাওয়া যেতো না। বর্তমান বিশ্বের রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে রজব তৈয়ব এরদোগানকে ইসলামী বিধান বাস্তবায়নে আন্তরিক প্রয়াসী বলে মনে করা হয়। তুরস্ক এখন পৃথিবীর ১৭তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।