📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ‘সম্পদ উৎপাদনে’ ব্যবস্থাত্রয়ের সামগ্রিক প্রভাব

📄 ‘সম্পদ উৎপাদনে’ ব্যবস্থাত্রয়ের সামগ্রিক প্রভাব


ধনতন্ত্রের প্রভাব: ইতিপূর্বে উল্লেখ হয়েছে, ধনতন্ত্র ব্যক্তিগত মুনাফার প্রেরণাকে লাগামহীন ছেড়ে দেয়ায় জঘন্য সব অনিষ্টতা দেখা দিয়েছে। সেগুলো সমাজকেও কলুষিত করেছে, চরিত্রকেও কলঙ্কিত করেছে।

সমাজতন্ত্রের প্রভাব: অপরদিকে সমাজতন্ত্র ব্যক্তি-মুনাফার প্রেরণাকে সম্পূর্ণ দমিয়ে দেয়ার দরুণ উৎপাদনের ‘পরিমাপ’ (Quantity) এবং ‘গুণগত মান’ (Quality) উভয়টিই সংকুচিত হয়েছে। কেননা, সমাজতন্ত্র দক্ষ কি-বা অদক্ষ সকল শ্রমিককেই অভিন্ন মজুরি দিয়ে থাকে। ফলে কর্মদক্ষতা সৃষ্টির কোনো উদ্দীপনাই কারো মধ্যে কাজ করে না। রাশিয়ার ৭৪ বছরের অভিজ্ঞতা এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন কারখানাকে জাতীয় মালিকানায় নেয়ার ব্যর্থতাই এর প্রমাণ।

ইসলামী নীতির প্রভাব: ইসলাম একদিকে ব্যক্তি-মুনাফার প্রেরণাকে সমর্থন করেছে- যা পণ্যের গুণ ও মানগত সমৃদ্ধি এবং পরিমাণগত প্রবৃদ্ধির মূলমন্ত্র। সাথে সাথে ইসলাম এমন সব বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে, যা ব্যক্তিকে সামাজিক ও চারিত্রিক কলুষতা থেকে ফিরিয়ে রাখে। এছাড়া ইসলামে সুদ হারাম হওয়ায় অর্থ বিনিয়োগ (Financing) কেবল শিরকত ও মুদারাবার ভিত্তিতেই করা যেতে পারে, যা ব্যবসার উন্নতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

টিকাঃ
১. আমাদের বাংলাদেশেও এমন নজির আছে। ১৯৭১ সালে তৎকালীন সরকার সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার আদলে অর্থনীতিকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকল ব্যাংককে জাতীয়করণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলশ্রুতিতে ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হতে ব্যর্থ হয়। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থার পুনর্গঠন শুরু করে এবং বিজাতীয়করণ (Privatization) নীতি গ্রহণ করে।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 ‘সম্পদ বণ্টনে’ ব্যবস্থাত্রয়ের সামগ্রিক প্রভাব

📄 ‘সম্পদ বণ্টনে’ ব্যবস্থাত্রয়ের সামগ্রিক প্রভাব


সমাজতন্ত্র সম্পদ সমবণ্টনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আবির্ভাব হয়েছিলো, কিন্তু বাস্তবে বেতন-মজুরির আকাশ-পাতাল তারতম্য সৃষ্টি হয়েছিলো এবং শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। বার্লিনের প্রাচীর ভেঙে দেওয়ার ঘটনা সমাজতন্ত্রের ব্যর্থতার এক বাস্তব স্বীকৃতি।

ধনতন্ত্রে সম্পদ বণ্টন বাস্তবিকই সুষম নয়। ব্যক্তিগত মুনাফার প্রেরণাকে লাগামহীন ছাড়ার দরুণ একচ্ছত্র ঠিকাদারি, সুদ, জুয়া এবং লটারীতে বাজার আজো সরগরম হচ্ছে। ফলে হাজার হাজার জনসাধারণের সম্পদ ক্রমে কতিপয় ব্যক্তির হাতে পুঞ্জীভূত হচ্ছে। সুদ ব্যবস্থা সম্পদ বণ্টনে চরম অসমতা সৃষ্টি করে। বড় পুঁজিপতিরা ব্যাংক থেকে জনসাধারণের গচ্ছিত টাকা ঋণ নিয়ে বিপুল লাভ করে, কিন্তু তার অতি সামান্য অংশ সাধারণ আমানতকারীদের প্রদান করে।

ইসলামী শিক্ষা পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারলে ধনতন্ত্র থেকে বহুগুণ বেশি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পদ বণ্টন হবে। কেবল সুদ হারাম হওয়ার বিষয়টিকে বিবেচনা করলেও কথাটি পরিষ্কার হয়ে যায়। সুদ নিষিদ্ধ হলে ব্যবসার অর্থায়ন হবে লাভ-লোকসানে শরীক হওয়ার ভিত্তিতে। ফলে অর্থ গ্রহীতা লাভবান হলে দাতাও তা থেকে লভ্যাংশ পাবে, আর লোকসান হলে দায় দুজনেই বহন করবে। অতঃপর পুঁজিপতির ভাগে যে লভ্যাংশ থাকবে তা থেকেও যাকাত, সদকা ইত্যাদির মাধ্যমে দরিদ্র জনসাধারণের কাছে একাংশ ফিরে আসবে। এর সুস্পষ্ট ফলাফল হলো, পুঁজিপতিদের মধ্যে সম্পদ কুক্ষিগত না থেকে সাধারণ জনগণের দিকে তা প্রবাহিত হবে।

টিকাঃ
১. খুলাফায়ে রাশেদীন- বিশেষত ওমর বিন খাত্তাব রা. ও ওমর ইবনে আব্দুল আজীজ রহ. প্রমুখের যুগে ইসলামী বিধান পূর্ণ বাস্তবায়নের ফলে এত স্বচ্ছল সমাজ গঠিত হয়েছিলো যে, যাকাত গ্রহণের লোক পাওয়া যেতো না। বর্তমান বিশ্বের রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে রজব তৈয়ব এরদোগানকে ইসলামী বিধান বাস্তবায়নে আন্তরিক প্রয়াসী বলে মনে করা হয়। তুরস্ক এখন পৃথিবীর ১৭তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px