📄 ইসলামী দর্শনে উৎপাদন ও বণ্টন নীতি
কোরআন-সুন্নাহ অর্থনীতির শাস্ত্রীয় ভঙ্গিমায় সম্পদ উৎপাদন-বণ্টনের আলোচনা করেনি। কিন্তু কোরআন-সুন্নায় অর্থনীতি সংক্রান্ত বিক্ষিপ্ত আলোচনাগুলো গভীরভাবে চিন্তা করলে বুঝে আসে, ইসলাম মূলধন (Capital) ও উদ্যোক্তার (Entrepreneur) ভিন্নতাকে স্বীকার করেনি। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা অর্থদাতাকে নির্দিষ্ট হারে সুদ দিয়ে কারবারের সকল ঝুঁকি উদ্যোক্তার ঘাড়ে চাপিয়েছে। কিন্তু ইসলামে সুদ হারাম করা হয়েছে। আর কারবারের সকল ঝুঁকি অর্থদাতার ঘাড়ে রাখা হয়েছে। তাই অর্থদাতা ঝুঁকি গ্রহণের ভিত্তিতে (উদ্যোক্তার সাথে মিলে) লভ্যাংশ প্রাপ্তির অধিকারী হয়।
সারমর্ম হলো- যেভাবে নির্ধারিত হারে ভূমিকে ভাড়া, শ্রমকে মজুরি দেয়া হয়, সেভাবে অর্থকে নির্ধারিত সুদ দেয়া যাবে না। ইসলামী বিধানের আলোকে সাব্যস্ত হয় 'ভূমি' তিন দিক (সত্তাগত অক্ষুণ্ণতা, মূল্যগত ক্ষুণ্ণতা এবং দায়বদ্ধতা) বিবেচনায় 'অর্থ' থেকে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রথম মৌলিক স্বাতন্ত্র্য: ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অর্থদাতাকে নির্দিষ্ট হারে ঝুঁকিমুক্ত সুদ দেয়া হয়। পক্ষান্তরে ইসলাম অর্থদাতাকে লভ্যাংশ দেয়- সাথে সাথে তাকে বহন করতে হয় সম্ভাব্য লোকসানের ঝুঁকি।
দ্বিতীয় মৌলিক স্বাতন্ত্র্য: ইসলামী শিক্ষার সারকথা হলো, প্রত্যেক বস্তুর প্রকৃত মালিকানা আল্লাহ তা'আলার। তাই উৎপাদনের কোনো উপাদানই স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে উৎপন্ন আয়ের হকদার নয়; বরং আল্লাহ তা'আলা যাদের হকদার বলে স্বীকৃতি দিবেন তারাই শুধু হকদার বলে গণ্য হবে। আল্লাহ তা'আলা প্রত্যক্ষ উপাদানগুলোকে প্রথম হকদার হিসেবে সাব্যস্ত করার সাথে সাথে দ্বিতীয় হকদার হিসেবে পরোক্ষ উপাদানেরও (নিঃস্ব শ্রেণী) একটি তালিকা বাতলে দিয়েছেন। এই দ্বিতীয় শ্রেণীর হকদারদের নিকট সম্পদ পৌঁছানোর জন্য ইসলাম যাকাত, উশর, সদকা, খরাজ, বিভিন্ন কাফফারা ইত্যাদির বিধান দিয়েছে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ (الذاريات: ১৯) অর্থ: তাদের মালে মুখাপেক্ষী ও বঞ্চিতদের হক রয়েছে।
টিকাঃ
১. 'অর্থদাতা'-কে ইসলাম 'উদ্যোক্তা' নামক উপাদানটিতে শামিল করেছে। কেননা, অর্থদাতা ঝুঁকি বহন করে, যা মূলত উদ্যোক্তার কাজ। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে উৎপাদনের উপাদান হলো তিনটি- ভূমি, শ্রম, উদ্যোক্তা; ভূমির ভাড়া, শ্রমের মজুরি দেয়ার পর যা লাভ থাকবে তা উদ্যোক্তা নিবে।