📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 দুই. সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা (الاشْتِرَاكِيَّةُ/Socialism)

📄 দুই. সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা (الاشْتِرَاكِيَّةُ/Socialism)


ধরার বুকে যখন চলছিলো ধনতন্ত্রের একচ্ছত্র আধিপত্য, ঠিক তখনি প্রতিপক্ষের ভূমিকায় আবির্ভাব ঘটে সমাজতন্ত্রের। ধনতন্ত্রে সকল অর্থনৈতিক সমস্যা নিরসনে একমাত্র যাদুমন্ত্র ছিলো চাহিদা-যোগান বিধি। সাথে সাথে মুনাফা অর্জনে ব্যক্তিকে অবাধ স্বাধীনতা প্রদানের প্রতিই ছিলো পূর্ণ মনোনিবেশ। সমাজের দরিদ্র ও নিম্ন শ্রেণীর কল্যাণের স্পষ্ট কোনো রূপরেখা এ দর্শনে ছিলো না। আর মুনাফা লাভের পিছনে বিত্তশ্রেণীর উন্মুক্ত দৌড়ে রিক্তশ্রেণীর পদপিষ্ট হওয়ার তিক্ত ঘটনাও ঘটছিলো নিত্যনৈমিত্ত। ফলে ধনি-গরিবের দূরত্ব বাড়ছিলো যোজন যোজন। এহেন পরিস্থিতিতে সাম্যের কেতন উড়িয়ে, জালেমের হাত গুঁড়িয়ে, সমাজের নিষ্পেষিত মজলুমদের অবমুক্তির সোচ্চার শ্লোগান তোলে সমাজতন্ত্র- যা কিনা ধনতন্ত্রের মূল দর্শনকেও চ্যালেঞ্জ করে। 'ব্যক্তি মালিকানা', 'মুনাফার প্রেরণা' আর 'বাজার শক্তি' নামক ত্রিত্বভিতকে অস্বীকৃতি জানায়।

সমাজতন্ত্রের অভিযোগ:
ধনতন্ত্রে যাবতীয় অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে একমাত্র ব্যবস্থাপত্র 'চাহিদা-যোগান' নামক বাজারশক্তি- যা অন্ধ-বধির হওয়ার দরুণ নিজেই স্বয়ম্ভর নয়। তদুপরি, এর চালিকাশক্তিও আবার ব্যক্তিকেন্দ্রিক চেতনা। ফলে, জাতিস্বার্থ সর্বদাই এতে উপেক্ষিত। বিশেষ করে আয় বণ্টনের ক্ষেত্রে এ নীতি নৈরাজ্যকর ফলাফল বয়ে আনে। এর একটি সরল দৃষ্টান্ত হলো- শ্রমিকের যোগান বেশি হলে তাদের পারিশ্রমিক কম হয়। ফলে, শ্রমিকরা নিরুপায় হয়ে অতি স্বল্প পারিশ্রমিকে কাজ করে। হায়! তাদের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি যে আয় বয়ে আনলো, তা সব পুঁজিপতিরাই লুটে নিলো। নিজের ও অধীনস্তদের মুখে দু'মুঠো অন্নও জুটলো না। আফসোস! পুঁজিপতিদের এদিকে ভ্রুক্ষেপও নেই। বরং শ্রমের যোগান আধিক্যের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে খরচ সাশ্রয়ী করে অধিক মুনাফা অর্জনই তাদের অভীষ্ট লক্ষ্য। ফলে প্রতীয়মান হচ্ছে, মুনাফা বণ্টনের ক্ষেত্রে চাহিদা-যোগানের নিরিখে আয় বণ্টনের ফর্মুলাটি একটি পক্ষপাতিত্বমূলক ফর্মুলা- যাতে দারিদ্র বিমোচনের কোনো রূপরেখা নেই। বরং পুঁজিপতিদের ব্যক্তিমুনাফার প্রেরণাকে কেন্দ্র করেই এর আবর্তন।

তদ্রূপ 'প্রয়োজন নিরূপণ', 'উপকরণ বিভাজন' ও উন্নয়নের মত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানকে চাহিদা-যোগানের ন্যায় অবিবেচক বিচারকের কাছে সোপর্দ করা জাতির জন্য বিপজ্জনক ফলাফল বয়ে আনবে। একটি তাত্ত্বিক দর্শন হিসেবে এ কথা ঠিক যে, একজন কৃষক বা শিল্পপতি বাজারের যোগান-চাহিদা সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া নাগাদ তার উৎপাদন অব্যাহত রাখবে। যখন পণ্যের যোগান তার চাহিদার সীমারেখা অতিক্রম করবে, তখনি তার উৎপাদন বন্ধ করে দিবে। কিন্তু বাস্তব জগতে কারো কাছে এমন কোনো মাপদণ্ড নেই যার সাহায্যে যথা সময়ে এ কথা জানা যাবে যে, অমুক পণ্যের চাহিদা পূরণ হয়ে গেছে। ফলে অনেক সময়ই এ ভেবে উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়, এখনো এ বস্তুর যোগান চাহিদার তুলনায় কম। কিন্তু বাজারে বাস্তব যোগান যে বেশি হয়ে আছে, তা তার খবরও নেই! ফলে বাজারে অনেক সময় এমন পণ্যের ছড়াছড়ি দেখা যায়, যার ততটা চাহিদা নেই। এভাবে অর্থনীতিেত 'মন্দা বাজার' সৃষ্টি হয়, কল-কারখানা বন্ধ হয়, ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হয়। সুতরাং বুঝা গেলো, চাহিদা-যোগানের ফর্মুলার ভিত্তিতে বাস্তব চাহিদার সামঞ্জস্যপূর্ণ 'প্রয়োজন নিরূপণ' সম্ভব নয়。

সমাজতন্ত্রের সমাধান:
ভূমি, কারখানা ইত্যাদি উৎপাদনের উপকরণগুলো ব্যক্তি মালিকানায় থাকার দরুণই অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে। সমীচীন হলো, এ সবকিছু প্রশাসনের অধীনে সামষ্টিক মালিকানা হিসেবে থাকবে। ফলে, দেশের সামগ্রিক প্রয়োজন ও পরিসম্পদ- উভয়টির ব্যাপারে সরকার সম্যক অবগত হয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করবে। এতে নির্ধারণ করবে, সমাজের কোন প্রয়োজনটিকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে? কোন বস্তু কী পরিমাণ উৎপাদন করা হবে? এগুলোর ব্যবহারবিধি কী হবে? মোটকথা, 'প্রয়োজন নিরূপণ, উপকরণ বিভাজন ও উন্নয়ন'- এ তিনটি বিষয় প্রশাসনিক পরিকল্পনার অধীনেই বাস্তবায়িত হবে।
বাকি থাকলো আয় বণ্টনের বিষয়টি। সমাজতান্ত্রিক দর্শনের দাবি, প্রকৃতপক্ষে উৎপাদনের উপকরণ দু'টি: (১) ভূমি, (২) শ্রম। 'ভূমি' যেহেতু ব্যক্তি মালিকানা থেকে বের হয়ে প্রশাসনের অধীনে সামষ্টিক মালিকানায় চলে এসেছে, তাই এর ভাড়া লাগবে না। বাকি রইল শুধু 'শ্রম'! এটিকেও প্রশাসনিক পরিকল্পনার আওতায় রেখে যথোপযুক্ত মূল্যায়ন করা হবে。

পরিশেষে বলা যায়, যেমনিভাবে ধনতন্ত্র মৌলিক সমস্যা চতুষ্টয়কে শুধুমাত্র 'পুঁজি প্রবৃদ্ধির অনুপ্রেরণা' ও 'বাজারশক্তি'-এর ভিত্তিতে সমাধানের প্রয়াস চালিয়েছে, তেমনিভাবে সমাজতন্ত্রও সেগুলো নিরসনে শুধুমাত্র একটি ভিত্তিই নির্ধারণ করেছে। আর তা হলো 'কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা'। তাই, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে 'পরিকল্পিত অর্থব্যবস্থা' (Planned Economy) বলা হয়- যাকে আরবীতে اقتصاد مخطط বা اقتصاد موجهة বলা হয়。

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 সমাজতন্ত্রের মূলনীতি

📄 সমাজতন্ত্রের মূলনীতি


সমাজতন্ত্রের মৌলিক মূলনীতি চারটি:-

১. সামষ্টিক মালিকানা (Collective Property): সমাজতন্ত্র ব্যক্তিকে নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী ব্যতীত ভূমি, কারখানা ইত্যাদি উৎপাদনের কোনো উপকরণই ব্যক্তি মালিকানায় রাখার অনুমোদন দেয় না। পূর্ণ সমাজতান্ত্রিক দেশে ব্যবসায়িক দোকানগুলোও কোনো ব্যক্তি মালিকানায় আসে না। সেখানকার সব লোক সরকারি কর্মচারী। সমুদয় আয় সরকারি কোষাগারে জমা হয়। অতঃপর রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মচারীদের বেতন বা পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়।

২. কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা (Planning): রাষ্ট্রীয় সকল কাজ কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে। গোটা দেশের 'প্রয়োজন' ও বিদ্যমান 'পরিসম্পদ'- উভয়টির পরিসংখ্যান করে সরকার সিদ্ধান্তে উপনীত হবে যে, কোন পরিসম্পদ কোন কাজে ব্যয় করবে? কোন বস্তু কী পরিমাণ উৎপন্ন করবে? কোন স্তরের শ্রমিকদের মজুরি কত হবে?
বিঃদ্রঃ কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা মূলত সমাজতন্ত্রের মূলনীতি হলেও ক্রমে ক্রমে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোও তা আংশিকভাবে অবলম্বন করতে থাকে। এর কারণ হলো, পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে শিথিল করে এনেছিলো। বরং বিভিন্ন সামষ্টিক লক্ষ্যের প্রেক্ষাপটে ব্যবসা-বাণিজ্যে কিছু না কিছু হস্তক্ষেপ করেই চলছিলো। ফলশ্রুতিতে 'মিশ্র অর্থনীতি' (Mixed Economy) নামে এক নতুন পরিভাষার উদ্ভব ঘটে- যার ব্যাখ্যা হলো, অর্থনীতির মৌলিক নিয়ন্ত্রণ বাজারশক্তির দ্বারাই হবে। কিন্তু প্রয়োজনের ক্ষেত্রে শিল্প-বাণিজ্যের কোনো কোনো শাখা সরকারি তত্ত্বাবধানে চলবে। যেমন, অনেক পুঁজিবাদী রাষ্ট্রেই রেল, বিদ্যুৎ, টেলিফোন ও এয়ারলাইন্স সার্ভিসসমূহ সরকারি তত্ত্বাবধানে থাকে; আর ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও থাকে বেশ নিয়ম-নীতি। সরকারি তত্ত্বাবধানের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলে Public Sector, আর ব্যক্তি উদ্যোগের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলে Private Sector। এই মিশ্র-অর্থব্যবস্থায় সরকার যেহেতু আংশিক হস্তক্ষেপ করে, তাই প্রতিটি বিষয়ের সামগ্রিক ও চূড়ান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যায় না- বরং এক্ষেত্রে সাধারণত পাঁচ বছরের পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করা হয়। স্পষ্টতই এটা আংশিক ও অপূর্ণ পরিকল্পনা। অপরপক্ষে সমাজতন্ত্রের পরিকল্পনা হয়ে থাকে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা- অর্থাৎ প্রতিটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তই পরিপূর্ণ পরিকল্পনা মাফিক হয়।

৩. সামষ্টিক স্বার্থ (Collective Interest): সমাজতন্ত্রের ভাষ্যমতে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় সমস্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যক্তি স্বার্থের অনুগামী থাকে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিকল্পনা প্রণয়নে জনস্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়。

৪. আয়ের সুষম বণ্টন (Equitable Distribution of Income): সমাজতন্ত্রের চতুর্থ মূলনীতি হলো, উৎপাদন লব্ধ আয়কে জনগণের মাঝে সুষমভাবে ছড়িয়ে দেয়া হবে- যাতে করে ধনী-গরিবের দূরত্ব কমে গিয়ে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে সমাজতন্ত্র প্রত্যেকের আয় সমান হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে বেতন-মজুরির তারতম্য হতেই থাকে। তবে সমাজতন্ত্রে কমপক্ষে এ দাবি অবশ্যই ছিলো যে, বেতন-মজুরির আকাশ-পাতাল তারতম্য হবে না।

📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 অর্থনীতির ইসলামী দর্শন

📄 অর্থনীতির ইসলামী দর্শন


ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের সংক্ষিপ্ত পরিচয় লাভের পর আমরা অর্থনীতির মৌলিক সমস্যা চতুষ্টয়ের ব্যাপারে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনা করবো।
স্মর্তব্য যে, ইসলাম কোনো অর্থনৈতিক দর্শনের নাম নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থার নাম- যার বিধানাবলীর ব্যাপ্তি জীবনের প্রতিটি শাখায়। তাই 'কোরআন' ও 'হাদিস' বর্তমানে প্রচলিত অর্থের কোনো অর্থনৈতিক দর্শন বা মতবাদ উপস্থাপন করেনি।

ইসলামী বিধান ও শিক্ষার আলোকে প্রতীয়মান হয়, ইসলাম বাজার-শক্তি তথা চাহিদা-যোগান বিধিকে সমর্থন করে। অর্থনৈতিক সমস্যাবলীর সমাধানে এ বিধির প্রয়োগকে ইসলাম যথার্থ সহায়ক মনে করে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে- نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِيَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِيًّا। অর্থ: "পার্থিব জীবনে তাদের জীবিকা তো আমিই বণ্টন করেছি এবং আমিই তাদের একজনকে অপরজনের উপর মর্যাদায় উন্নিত করেছি, যাতে তাদের একে অন্যের দ্বারা কাজ নিতে পারে।" (সূরা যুখরুফ, আয়াত: ৩২)

ইসলাম ব্যক্তি-মুনাফার প্রেরণাকে এবং বাজারশক্তি উভয়টিকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করে। ব্যক্তি-মুনাফার উপর আরোপিত এসব বিধি-নিষেধগুলো মৌলিকভাবে তিন প্রকার-

১. ঐশী বিধি-নিষেধ: সর্বপ্রথম ইসলাম অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর হালাল-হারামের এমন কিছু স্থায়ী বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে যা সর্বযুগে, সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন: সুদ, জুয়া, লটারী, গুদামজাত করা সহ সকল প্রকার অবৈধ লেনদেনকে চিরতরে হারাম করা হয়েছে।

২. রাষ্ট্রীয় বিধি-নিষেধ: উল্লেখিত খোদায়ী বিধি-নিষেধগুলো সর্বকালের সর্বযুগেই শিরোধার্য থাকবে। এর সাথে সাথে শরিয়ত প্রতি যুগের শাসককে যুগোপযোগিতার ভিত্তিতে এমন বস্তু বা কাজের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের অধিকার দিয়েছে যা মূলত হারাম নয়, বরং মুবাহ বা বৈধ, কিন্তু তা তৎকালীন প্রেক্ষাপটে কোনো সামগ্রিক অকল্যাণ বয়ে আনছে। এ মূলনীতির আলোকে রাষ্ট্র জনগণের সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে।

৩. নৈতিক বিধি-নিষেধ: ইসলামে শিক্ষার প্রতিটি পদক্ষেপেই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আর তদোলব্ধ বৈষয়িক কল্যাণই জীবনের চরম চাওয়া-পাওয়া নয়। মানুষের আসল দায়িত্ব হলো দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের সোপান বানানো। অন্যের চেয়ে চার পয়সা বেশি উপার্জন করা সফলতা নয়- বরং সফলতা হলো আখিরাতের অনন্ত জীবনের জন্য বেশি থেকে বেশি আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করা। নৈতিক বিধি-নিষেধ দ্বারা এ প্রকার বিধি-নিষেধই উদ্দেশ্য।

টিকাঃ
১. أخرجه مسلم في "صحيحه" برقم ١٥٢٢ ، عن جابر رضي الله عنه。
২. أخرجه أبو داؤد في "سننه" من "باب في التسعير"।
১. أُولِي الأمْرِ কারা এ ব্যাখ্যায় তাফসীরে 'ফাতহুল কাদীর' এর লেখক আল্লামা শাওকানী রহ. নিম্নোক্ত সাত শ্রেণীকে উল্লেখ করেছেন- ১. উলামা-ফুকাহায়ে কেরাম। ২. রাজা-বাদশাহ। ৩. বিচারক বা কাজী। ৪. প্রত্যেক এমন ব্যক্তি যাকে শরীয়তের পক্ষ থেকে কোনো কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে। ৫. আহলে কুরআন ও ইলম। ৬. সাহাবীগণ। ৭. ইসলামী গবেষক ও চিন্তাবিদ। তবে তাফসীরে মাআরিফুল কোরআনে 'রাষ্ট্রপ্রধান' ও 'উলামায়ে কেরাম'- উভয় শ্রেণীকেই أولي أمر হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. উপরোক্ত আলোচনা থেকে সুস্পষ্ট যে, সরকার কর্তৃক আরোপিত বিধি-নিষেধগুলো তিন ধরনের হতে পারে- ১. শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক। ২. শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এবং জনকল্যাণমূলকও নয়। ৩. শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক নয় (বরং মুবাহ) এবং জনকল্যাণমূলক। এ ধরনের সরকারি বিধি-নিষেধের ক্ষেত্রেই এ পুস্তকে বলা হয়েছে যে, أولي الأمر -এর আনুগত্য হিসেবে এগুলো পালন করা আবশ্যক।

ফন্ট সাইজ
15px
17px