📄 এক. ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা (الرَّأْسُمَالِيَّةُ/Capitalism)
সর্বপ্রথম আমাদের বুঝতে হবে, উল্লেখিত চারটি মৌলিক সমস্যা নিরসনে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা কী দর্শন পেশ করে। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বক্তব্য হলো, শিল্প-বাণিজ্যে পূর্ণ ব্যক্তি-স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। বেশি থেকে বেশি উপার্জনে ব্যক্তি থাকবে পূর্ণ স্বাধীন। এতেই অন্তর্নিহিত আছে সমস্যা চতুষ্টয়ের নিপুণ সমাধান। কেননা, স্বাধীনভাবে অধিক উপার্জনের প্রয়াসই ব্যক্তিকে সমাজের প্রয়োজনীয় বস্তুটি উৎপাদনে সদা ব্রত রাখবে। ফলশ্রুতিতে সমস্যা চতুষ্টয়ে এক স্বয়ংক্রিয় সমন্বয় সাধন হবে। প্রশ্ন জাগে- 'স্বয়ংক্রিয় সমন্বয়' আবার কীভাবে হবে?! এর উত্তর খানিক বিশ্লেষণীয়- যার পূর্বে নিম্নোক্ত দু'টি ভূমিকা উল্লেখ্য:
ভূমিকা এক: দুনিয়ার বহু বস্তু আল্লাহর কুদরতের অদৃশ্য কলকাঠিতে নিয়ন্ত্রিত হয়ে এক অভিন্ন চক্রবিধিতে আবর্তমান আছে। এমনই এক চক্রবিধির নাম 'চাহিদা ও যোগান বিধি'। বাজারে দ্রব্যের মোট বিক্রয়যোগ্য পরিমাণকে বলে 'যোগান'। আর নির্দিষ্ট মূল্যে তা ক্রয় করার জন্য ক্রেতার সাধ্যাধীন ইচ্ছাকেই বলে 'চাহিদা'। এই চাহিদা ও যোগানের প্রাকৃতিক বিধান হলো, "বস্তুর যোগান বৃদ্ধি পেলে দাম কমে যায়, আর চাহিদা বৃদ্ধি পেলে দাম বৃদ্ধি পায়।" উদাহরণস্বরূপ, গ্রীষ্মকালে বাজারে বরফের ক্রেতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো, বাজারে বরফের চাহিদা বেড়ে গেছে। এখন বরফের যোগান যদি বর্ধিত চাহিদার তুলনায় কম হয়, তাহলে নির্ঘাত বরফের দাম বেড়ে যাবে। তবে বরফের যোগানকেও চাহিদা অনুপাতে বাড়ানো হলে মূল্য স্থির থাকবে। অপরপক্ষে, শীতকালে বরফের ক্রেতা হ্রাস পায়। যার অর্থ হলো, বাজারে বরফের চাহিদা কমে গেছে। এখন বাজারে বরফের যোগান যদি এই চাহিদার তুলনায় বেশি হয়, তাহলে নির্ঘাত বরফের দাম কমে যাবে। এ এক প্রাকৃতিক বিধি, যাকে চাহিদা ও যোগান বিধি (Law of Demand & Supply) বলে。
ভূমিকা দুই: ধনতান্ত্রিক দর্শন হলো, চাহিদা যোগানের প্রাকৃতিক নীতিই মূলত কৃষককে বলে দেয়- সে কী উৎপন্ন করবে? কারিগর ও শিল্পপতিদের নির্ধারণ করে দেয়- সে কোন জিনিস কী পরিমাণে বাজারজাত করবে? এভাবেই সমস্যা চতুষ্টয়ে 'স্বয়ংক্রিয় সমন্বয়' সাধন হবে。
এবার ব্যাখ্যায় আসা যাক-
প্রথমত 'চাহিদা ও যোগান বিধি' দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'প্রয়োজন নিরূপণ' কিভাবে হবে? আমরা যখন শিল্প-বাণিজ্যে ব্যক্তির পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করবো, তখন প্রত্যেকেই বেশি থেকে বেশি মুনাফার প্রেরণায় সমাজের প্রয়োজনীয় বস্তুগুলোই বাজারজাত করবে। কৃষক এমন পণ্যের উৎপাদনকে প্রাধান্য দিবে, বাজারে যার চাহিদা বেশি। শিল্পপতিও ঐ দ্রব্য উৎপাদনে বেশি প্রয়াসী হবেন, বাজারে যার চাহিদা বেশি। কেননা, যদি তারা এর বিপরীতটি করেন তাহলে তাদের অভীষ্ট মুনাফা ফসকে যাবে। কাজেই এই দর্শনের ফলাফল হলো, যদিও প্রত্যেকে নিজস্ব মুনাফার জন্য কাজ করছে, কিন্তু চাহিদা-যোগানের অদৃশ্য কলকাঠি তাকে বাধ্য করছে সমাজের চাহিদা পূরণ করে দিতে। এভাবে, সমাজের চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত উৎপাদন যেহেতু ব্যবসায়ীর জন্য লাভজনক নয়, তাই এখন সে তার উৎপাদনও বন্ধ করে দিবে। এভাবে সমাজে শুধু ঐ দ্রব্যই উৎপাদন হবে- যা সমাজে নিতান্তই প্রয়োজন; ঐ পরিমাণই উৎপাদন হবে- যা সমাজের প্রকৃত চাহিদা। এরই নাম 'প্রয়োজন নিরূপণ'।
দ্বিতীয়ত আসা যাক স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'উপকরণ বিভাজন'-এর ব্যাখ্যায়! এ বিষয়টি প্রয়োজন নিরূপণের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কেননা, কোনো ব্যক্তি যখন যথাযথ প্রয়োজন নিরূপণ করে নিবে, তখন নিজের সম্পদগুলোকে সেমতে বিভাজন করে কাজে লাগিয়ে নিবে। তাই বলা যায়, চাহিদা ও যোগান বিধি প্রয়োজন নিরূপণের সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'উপকরণ বিভাজন'-ও করে দেয়। ফলশ্রুতিতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার ভূমি, শ্রম, মূলধনকে ঐ লাভজনক খাতেই বিনিয়োগ করতে সক্ষম হবে যা বাজারের উচ্চ চাহিদা হেতু দ্বিগুণ মুনাফা বয়ে আনবে。
তৃতীয়ত আসা যাক- 'চাহিদা ও যোগান বিধি' দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'আয় বণ্টন' কিভাবে হবে? আর সেটাকে কোন ভিত্তিতে সমাজে ছড়িয়ে দেয়া হবে? পুঁজিবাদের বক্তব্য হলো, লব্ধ আয় উৎপাদনের উপাদানগুলোর মাঝেই বণ্টিত হবে। আর এরূপ উপাদান চারটি: (১) ভূমি, (২) শ্রম, (৩) মূলধন, (৪) উদ্যোক্তা বা সংঘটক (যিনি কারবারের সকল ঝুঁকি নিজের উপর নিয়ে ভূমি, শ্রম ও মূলধনের সমন্বয় সাধন করতঃ উৎপাদন কার্য পরিচালনা করেন)। ভূমির মালিককে 'ভাড়া', শ্রমিককে 'মজুরি' আর মূলধন বিনিয়োগকারীকে 'সুদ' প্রদানের পর অবশিষ্ট লভ্যাংশ উদ্যোক্তা বা সংঘটকের।
প্রশ্ন হচ্ছে: ভাড়া, মজুরি ও সুদের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারিত হবে? জবাব একই- চাহিদা-যোগান বিধিই তা নির্ধারণ করবে। যে উপাদানটির চাহিদা বেশি তার খরচও সে হারে বেশি পড়বে। ধরা যাক, যায়েদ একটি কারখানা তৈরি করতে যাচ্ছে। যেহেতু সে উপাদান সমন্বয়ের ঝুঁকি নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তাই অর্থনীতির পরিভাষায় তাকেই উদ্যোক্তা (Entrepreneur) বলা হবে। এবার উদ্যোক্তার নিজস্ব ভূমি না থাকলে ভাড়ায় নিতে হবে। এই ভাড়া নির্ধারণ হবে চাহিদা-যোগান সংঘাতের মাধ্যমে। ভাড়া প্রদানেচ্ছুর তুলনায় গ্রহণেচ্ছু কম হলে ভাড়া কম হবে। কেননা, এক্ষেত্রে যোগান বেশি, চাহিদা কম। আবার এর বিপরীত প্রেক্ষাপটে ভাড়া বেশি হবে। এভাবে চাহিদা-যোগান বিধিই ভাড়া বাতলে দিবে।
এরপর উদ্যোক্তার উপর বর্তাবে শ্রমিক নিয়োগ ও তাদের মজুরি গুনার দায়। এ মজুরির পরিমাণও চাহিদা-যোগান বিধি নির্ধারণ করে দিবে। কর্মেচ্ছু শ্রমিক বেশি হলে মজুরি কম হবে। পক্ষান্তরে, কর্মেচ্ছু শ্রমিক কম হলে মজুরি বেশি হবে। এভাবে চাহিদা-যোগানের সংঘাতের পর ভারসাম্যপূর্ণ অঙ্কটিই শ্রমের মজুরি হিসেবে নির্ধারিত হবে।
এরপর যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল বাবদ বিপুল পুঁজি যোগাতে গিয়ে পুঁজিপতিকে ঋণের দ্বারস্থ হতে হবে। আর ধনতন্ত্রের মন্ত্র হলো, ঋণের مقابلے সুদ গুনতে হবে। এই সুদের পরিমাণও চাহিদা-যোগান বিধি নির্ধারণ করে দিবে। যদি ঋণদাতার আধিক্য হয়- যার অর্থ হচ্ছে পুঁজির যোগান বেশি- তাহলে স্বল্পসুদেই ঋণ পাওয়া যাবে। আর যদি ঋণদাতার অভাব হয়- যার অর্থ হচ্ছে পুঁজির যোগান কম- তাহলে সুদের হারও বেড়ে যাবে। এভাবে সুদের হারও চাহিদা-যোগান সূত্র বাতলে দেয়। দারুণ! 'ভূমি, শ্রম, মূলধন' সবগুলোই চাহিদা-যোগানের এক সূত্রেই স্থির হয়ে গেলো! এবার কারখানার অবশিষ্ট লাভ উদ্যোক্তার বৈ আর কার?
চতুর্থত আসা যাক- 'চাহিদা ও যোগান বিধি' দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'উন্নয়ন' কিভাবে হবে?! অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির চাকা সচল রাখা যে কোনো দেশের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর সমাধানও নিহিত আছে যোগান- চাহিদার সেই অভিন্ন মন্ত্রে। কেননা, প্রত্যেক ব্যক্তিকে যখন উপার্জনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দেয়া হবে, তখন যোগান-চাহিদার অদৃশ্য কলকাঠিই তাকে অনুপ্রাণিত করবে নিত্য-নতুন মানসম্পন্ন পণ্য বাজারজাত করতে- যাতে চাহিদার প্রাবল্য মুনাফার প্রাচুর্য বয়ে আনে।
টিকাঃ
১. ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার অপর নাম 'পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা'- যার সূত্রপাত হয় ইউরোপে। ইংল্যান্ডের ইতিহাসে মোটামুটি ১৭৫০-১৮৫০ সময়কালে কৃষি এবং বাণিজ্যিক ব্যবস্থা হতে আধুনিক শিল্পায়নের দিকে গতি শুরু হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিস্ময়কর পরিবর্তন ঘটে। ১৫শ ও ১৬শ শতাব্দীর সমুদ্র যাত্রা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের পথ খুলে দেয়। এরপর পুঁজিবাদের উদ্ভব, বাষ্পীয় ইঞ্জিনের আবিষ্কার, কয়লার খনি আর ইস্পাতের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে অনেক শিল্পশহর আর কারখানা গড়ে উঠে। আঠারো শতকের মাঝামাঝিতে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব ঘটার আগ পর্যন্ত 'সামন্ততন্ত্র' চালু ছিলো। এই প্রথায় সমস্ত ভূসম্পত্তির মালিক থাকতো রাজা এবং তিনি তার অধীনস্ত সামন্ত জমিদারদের মধ্যে সেই জমি বণ্টন করে দিতেন। জমিদাররা সেই জমি তাদের অধীনস্ত নিম্ন ভূস্বামীদের মধ্যে বিলি করতো। এভাবে সর্বশেষে কৃষকদের মধ্যে সেই জমি বণ্টিত হতো। হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে তার ফসল উৎপন্ন করতো কিন্তু সে ফসলের অতি সামান্যই তারা ভোগ করতে পারতো। কালক্রমে এই প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন দেখা দিল। ১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ফ্রান্সে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। তারপর ফ্রান্সের দেখাদেখি বিপ্লব দেখা দেয় পুরা ইউরোপে। ফরাসি বিপ্লব সামন্ততন্ত্র তথা জমিদারী প্রথাকে উঠিয়ে দিয়ে নিম্নোক্ত তিনটি ইশতেহার কার্যকর করেছিলো। সেগুলো হচ্ছে- (ক) ব্যক্তির স্বাধীনতা, (খ) ক্ষমতার বিভাজন, (গ) ধর্ম থেকে রাষ্ট্র পৃথকীকরণ। অতঃপর অষ্টাদশ শতাব্দীতে যখন ইউরোপে বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলে বহু কলকারখানা ও যন্ত্রপাতি আবিষ্কৃত হয় তখন এই জমিদারী প্রথা পরিপূর্ণ মুখ থুবড়ে পড়ে এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থা তার স্থান দখল করে নেয়। শহরগুলোতে বড় বড় কারখানা স্থাপিত হতে থাকে এবং জমিদারের জুলুম অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামের অধিবাসীরা শহরের দিকে ধাবিত হয়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হস্তশিল্পগুলো বিলুপ্ত হয়ে বৃহৎ যন্ত্রশিল্পের ব্যাপ্তি ঘটে। জমিদাররাও এতে সুবিধা দেখে এতেই তাদের মূলধন বিনিয়োগ করতে শুরু করল। ক্ষুদ্র শিল্পের শ্রমিকরা বেকার হয়ে গিয়ে কারখানাগুলোতে ধরনা দিতে থাকে। এ অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে পুঁজিপতিরা নামমাত্র পারিশ্রমিকে তাদের খাটিয়ে প্রচুর লাভবান হতে থাকে। এভাবেই ধনতন্ত্রের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ ঘটে।
📄 ধনতন্ত্রের মূলনীতি
ধনতন্ত্রের মৌলিক মূলনীতি তিনটি-
১. ব্যক্তি মালিকানা (Private Property): ধনতন্ত্র ব্যক্তিকে নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী থেকে নিয়ে শিল্পপণ্য, এমনকি কলকারখানা পর্যন্ত ব্যক্তি মালিকানায় রাখার অনুমতি দেয়। আর সমাজতন্ত্র ব্যক্তিকে নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রীর বাইরে কোনো কিছুরই মালিক হতে দেয় না।
২. মুনাফা লাভের প্রেরণা (Profit Motive): অবাধে সর্বাধিক মুনাফা লাভের অনুপ্রেরণা ধনতন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি।
৩. সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ততা (Laissez Faire): ধনতন্ত্র ব্যক্তিকে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক অনুশাসন থেকে মুক্ত করে অবাধ ব্যবসার অবকাশ দেয়। পরিভাষায় এ বিষয়টিকে "Laissez Faire" বা "সরকারের হস্তক্ষেপ না করার নীতি" বলা হয়। মূলত এটি ফরাসি শব্দ, যার অর্থ "করতে দাও"। সরকারকে যেন এ কথা বলা হচ্ছে- "যে যেভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাকে সেভাবেই করতে দাও; বাধ সেধো না। সরকারের অধিকার নেই যে, সে বলবে- ঐ ব্যবসা করো.. এভাবে করো...।"
এটাই ছিলো ধনতন্ত্রের মুখ্য মূলনীতি। কিন্তু ক্রমে ধনতান্ত্রিক দেশগুলোই এ নীতিকে শিথিল করে নিয়েছে- ব্যবসায়িদের উপর নিত্য নতুন 'বাণিজ্যনীতি' সদা আরোপ করে চলছে। কখনো ট্যাক্স চাপিয়ে নিয়ন্ত্রণ, আবার কখনো সাহস যুগিয়ে প্রলুদ্ধকরণ- এভাবেই চলছে প্রশাসন। ফলে বর্তমানে হস্তক্ষেপমুক্ত ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্র মোটেও নেই- যা কিনা ছিলো ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার প্রধান প্রতিশ্রুতি। এজন্যই বলা হয়, "ঐ সরকারই সর্বোত্তম সরকার, যে সরকার তার সরকারি (অর্থাৎ হস্তক্ষেপ) কম করে।"
যেহেতু ধনতান্ত্রিক দর্শনের মূল চালিকাশক্তিই হলো, নিজের 'ধন' বা 'পুঁজি' প্রবৃদ্ধির অনুপ্রেরণা; তাই এ দর্শনকে 'ধনতন্ত্র' ও 'পুঁজিবাদ' বলা হয়। এর আরেক নাম হলো 'Market Economy' বা 'বাজার-নির্ভর অর্থব্যবস্থা'। কেননা, এতে Market Forces বা 'বাজারশক্তি' তথা চাহিদা-যোগান বিধিকে কাজে লাগানো হয়।
টিকাঃ
১. আমরা যে সম্পদ উপর্জন করি তার প্রকৃত মালিক কে? মানুষ, সরকার নাকি আল্লাহ তা'আলা- এ ব্যাপারে তিনটি মতবাদ রয়েছে: (১) ধনতান্ত্রিক মতবাদ হলো, সম্পদে তার উপার্জনকারীর একচ্ছত্র মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে অন্য কারো সামান্য পরিমাণও অধিকার নেই। (২) সমাজতান্ত্রিক মতবাদ হলো, ধন-সম্পদ সরকার তার ইচ্ছেমতো খরচ করবে কিংবা বণ্টন করবে। আর ইসলামের দৃষ্টিতে ধন-সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আল্লাহ তা'আলার। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَآتُوهُم مِّن مَّالِ اللَّهِ الَّذِي آتَاكُمْ (سورة النور ، الآية: ٣٣) "তোমরা ঐ মাল থেকে খরচ করো যা আল্লাহ তোমাদের দান করেছেন।" অনুরূপভাবে অন্যত্র এরশাদ হয়েছে- وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الآخرة (سورة القصص، الآية: (۷۷) "যে মাল আল্লাহ তোমাদের দিয়েছেন তা থেকে আখিরাতের ঘর তালাশ করো।" অনেক সময় মানুষ ধারণা করে, নিজের পরিশ্রমে সম্পদ অর্জন হয়েছে। অথচ এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মানুষের কাজ শুধুমাত্র চেষ্টা করা। আর তার চেষ্টা ফলপ্রসূ ও কৃতকার্য করা একমাত্র আল্লাহ তা'আলার ক্ষমতায়। কুরআনে কারীমে এ দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে- أَفَرَأَيْتُم مَّا تَحْرُثُونَ، أَأَنتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ (سورة الواقعة، الآية: ٦٣-٦٤) "আচ্ছা, বলো তো দেখি, যা তোমরা চাষাবাদ করো, তা কি তোমরা উদগীরণ করো, না-কি আমি উদগীরণ করি।" এ সমস্ত আয়াত থেকে বুঝে আসে, ধন-সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আল্লাহ তা'আলা। তবে তিনি মানুষকে প্রতিনিধিমূলক অস্থায়ী মালিকানা দান করেছেন, তাঁর বিধান মতো তা খরচ করার জন্য। আল্লাহ তা'আলা বলেন- آمنوا بالله ورسوله وأنفقوا مما جعلكم مستخلفين فيه "তোমরা ঈমান আন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর এবং খরচ করো ঐ সম্পদ থেকে যে সম্পদের ব্যাপারে তোমাদেরকে তাঁর প্রতিনিধি বানিয়েছেন।"
২) অনুদান চুক্তির মাধ্যমে (عقد التبرع): যেমন হেবা (هبة), সদকা (صدقة/تبرع) ধার বা করজ দেয়া (عارية)।
৩) প্রাকৃতিকভাবে সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে (التولد من المملوك): যেমন ফল-ফলাদি, ফসল ও গবাদি পশুর প্রজন্মের মাধ্যমে।
৪) প্রাকৃতিকভাবে উন্মুক্ত সম্পদ করায়ত্তে আনার মাধ্যমে (إحراز المباحات): যেমন নদী-খাল-বিলের মাছ, উন্মুক্ত মাঠের ঘাস, পশু-পাখি ইত্যাদি নিজ দখলে আনার মাধ্যমে।
৫) অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তু থেকে প্রতিনিধিত্বমূলক মালিকানা (الخلافية): ব্যক্তি থেকে প্রতিনিধিত্বমূলক মালিকানার উদাহরণ হলো 'মিরাস' (الإرث) এবং বস্তু থেকে প্রতিনিধিত্বমূলক মালিকানা হলো 'জরিমানা' (التضمين أو التعويض)。
📄 দুই. সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা (الاشْتِرَاكِيَّةُ/Socialism)
ধরার বুকে যখন চলছিলো ধনতন্ত্রের একচ্ছত্র আধিপত্য, ঠিক তখনি প্রতিপক্ষের ভূমিকায় আবির্ভাব ঘটে সমাজতন্ত্রের। ধনতন্ত্রে সকল অর্থনৈতিক সমস্যা নিরসনে একমাত্র যাদুমন্ত্র ছিলো চাহিদা-যোগান বিধি। সাথে সাথে মুনাফা অর্জনে ব্যক্তিকে অবাধ স্বাধীনতা প্রদানের প্রতিই ছিলো পূর্ণ মনোনিবেশ। সমাজের দরিদ্র ও নিম্ন শ্রেণীর কল্যাণের স্পষ্ট কোনো রূপরেখা এ দর্শনে ছিলো না। আর মুনাফা লাভের পিছনে বিত্তশ্রেণীর উন্মুক্ত দৌড়ে রিক্তশ্রেণীর পদপিষ্ট হওয়ার তিক্ত ঘটনাও ঘটছিলো নিত্যনৈমিত্ত। ফলে ধনি-গরিবের দূরত্ব বাড়ছিলো যোজন যোজন। এহেন পরিস্থিতিতে সাম্যের কেতন উড়িয়ে, জালেমের হাত গুঁড়িয়ে, সমাজের নিষ্পেষিত মজলুমদের অবমুক্তির সোচ্চার শ্লোগান তোলে সমাজতন্ত্র- যা কিনা ধনতন্ত্রের মূল দর্শনকেও চ্যালেঞ্জ করে। 'ব্যক্তি মালিকানা', 'মুনাফার প্রেরণা' আর 'বাজার শক্তি' নামক ত্রিত্বভিতকে অস্বীকৃতি জানায়।
সমাজতন্ত্রের অভিযোগ:
ধনতন্ত্রে যাবতীয় অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে একমাত্র ব্যবস্থাপত্র 'চাহিদা-যোগান' নামক বাজারশক্তি- যা অন্ধ-বধির হওয়ার দরুণ নিজেই স্বয়ম্ভর নয়। তদুপরি, এর চালিকাশক্তিও আবার ব্যক্তিকেন্দ্রিক চেতনা। ফলে, জাতিস্বার্থ সর্বদাই এতে উপেক্ষিত। বিশেষ করে আয় বণ্টনের ক্ষেত্রে এ নীতি নৈরাজ্যকর ফলাফল বয়ে আনে। এর একটি সরল দৃষ্টান্ত হলো- শ্রমিকের যোগান বেশি হলে তাদের পারিশ্রমিক কম হয়। ফলে, শ্রমিকরা নিরুপায় হয়ে অতি স্বল্প পারিশ্রমিকে কাজ করে। হায়! তাদের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি যে আয় বয়ে আনলো, তা সব পুঁজিপতিরাই লুটে নিলো। নিজের ও অধীনস্তদের মুখে দু'মুঠো অন্নও জুটলো না। আফসোস! পুঁজিপতিদের এদিকে ভ্রুক্ষেপও নেই। বরং শ্রমের যোগান আধিক্যের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে খরচ সাশ্রয়ী করে অধিক মুনাফা অর্জনই তাদের অভীষ্ট লক্ষ্য। ফলে প্রতীয়মান হচ্ছে, মুনাফা বণ্টনের ক্ষেত্রে চাহিদা-যোগানের নিরিখে আয় বণ্টনের ফর্মুলাটি একটি পক্ষপাতিত্বমূলক ফর্মুলা- যাতে দারিদ্র বিমোচনের কোনো রূপরেখা নেই। বরং পুঁজিপতিদের ব্যক্তিমুনাফার প্রেরণাকে কেন্দ্র করেই এর আবর্তন।
তদ্রূপ 'প্রয়োজন নিরূপণ', 'উপকরণ বিভাজন' ও উন্নয়নের মত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানকে চাহিদা-যোগানের ন্যায় অবিবেচক বিচারকের কাছে সোপর্দ করা জাতির জন্য বিপজ্জনক ফলাফল বয়ে আনবে। একটি তাত্ত্বিক দর্শন হিসেবে এ কথা ঠিক যে, একজন কৃষক বা শিল্পপতি বাজারের যোগান-চাহিদা সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া নাগাদ তার উৎপাদন অব্যাহত রাখবে। যখন পণ্যের যোগান তার চাহিদার সীমারেখা অতিক্রম করবে, তখনি তার উৎপাদন বন্ধ করে দিবে। কিন্তু বাস্তব জগতে কারো কাছে এমন কোনো মাপদণ্ড নেই যার সাহায্যে যথা সময়ে এ কথা জানা যাবে যে, অমুক পণ্যের চাহিদা পূরণ হয়ে গেছে। ফলে অনেক সময়ই এ ভেবে উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়, এখনো এ বস্তুর যোগান চাহিদার তুলনায় কম। কিন্তু বাজারে বাস্তব যোগান যে বেশি হয়ে আছে, তা তার খবরও নেই! ফলে বাজারে অনেক সময় এমন পণ্যের ছড়াছড়ি দেখা যায়, যার ততটা চাহিদা নেই। এভাবে অর্থনীতিেত 'মন্দা বাজার' সৃষ্টি হয়, কল-কারখানা বন্ধ হয়, ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হয়। সুতরাং বুঝা গেলো, চাহিদা-যোগানের ফর্মুলার ভিত্তিতে বাস্তব চাহিদার সামঞ্জস্যপূর্ণ 'প্রয়োজন নিরূপণ' সম্ভব নয়。
সমাজতন্ত্রের সমাধান:
ভূমি, কারখানা ইত্যাদি উৎপাদনের উপকরণগুলো ব্যক্তি মালিকানায় থাকার দরুণই অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে। সমীচীন হলো, এ সবকিছু প্রশাসনের অধীনে সামষ্টিক মালিকানা হিসেবে থাকবে। ফলে, দেশের সামগ্রিক প্রয়োজন ও পরিসম্পদ- উভয়টির ব্যাপারে সরকার সম্যক অবগত হয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করবে। এতে নির্ধারণ করবে, সমাজের কোন প্রয়োজনটিকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে? কোন বস্তু কী পরিমাণ উৎপাদন করা হবে? এগুলোর ব্যবহারবিধি কী হবে? মোটকথা, 'প্রয়োজন নিরূপণ, উপকরণ বিভাজন ও উন্নয়ন'- এ তিনটি বিষয় প্রশাসনিক পরিকল্পনার অধীনেই বাস্তবায়িত হবে।
বাকি থাকলো আয় বণ্টনের বিষয়টি। সমাজতান্ত্রিক দর্শনের দাবি, প্রকৃতপক্ষে উৎপাদনের উপকরণ দু'টি: (১) ভূমি, (২) শ্রম। 'ভূমি' যেহেতু ব্যক্তি মালিকানা থেকে বের হয়ে প্রশাসনের অধীনে সামষ্টিক মালিকানায় চলে এসেছে, তাই এর ভাড়া লাগবে না। বাকি রইল শুধু 'শ্রম'! এটিকেও প্রশাসনিক পরিকল্পনার আওতায় রেখে যথোপযুক্ত মূল্যায়ন করা হবে。
পরিশেষে বলা যায়, যেমনিভাবে ধনতন্ত্র মৌলিক সমস্যা চতুষ্টয়কে শুধুমাত্র 'পুঁজি প্রবৃদ্ধির অনুপ্রেরণা' ও 'বাজারশক্তি'-এর ভিত্তিতে সমাধানের প্রয়াস চালিয়েছে, তেমনিভাবে সমাজতন্ত্রও সেগুলো নিরসনে শুধুমাত্র একটি ভিত্তিই নির্ধারণ করেছে। আর তা হলো 'কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা'। তাই, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে 'পরিকল্পিত অর্থব্যবস্থা' (Planned Economy) বলা হয়- যাকে আরবীতে اقتصاد مخطط বা اقتصاد موجهة বলা হয়。
📄 সমাজতন্ত্রের মূলনীতি
সমাজতন্ত্রের মৌলিক মূলনীতি চারটি:-
১. সামষ্টিক মালিকানা (Collective Property): সমাজতন্ত্র ব্যক্তিকে নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী ব্যতীত ভূমি, কারখানা ইত্যাদি উৎপাদনের কোনো উপকরণই ব্যক্তি মালিকানায় রাখার অনুমোদন দেয় না। পূর্ণ সমাজতান্ত্রিক দেশে ব্যবসায়িক দোকানগুলোও কোনো ব্যক্তি মালিকানায় আসে না। সেখানকার সব লোক সরকারি কর্মচারী। সমুদয় আয় সরকারি কোষাগারে জমা হয়। অতঃপর রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মচারীদের বেতন বা পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়।
২. কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা (Planning): রাষ্ট্রীয় সকল কাজ কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে। গোটা দেশের 'প্রয়োজন' ও বিদ্যমান 'পরিসম্পদ'- উভয়টির পরিসংখ্যান করে সরকার সিদ্ধান্তে উপনীত হবে যে, কোন পরিসম্পদ কোন কাজে ব্যয় করবে? কোন বস্তু কী পরিমাণ উৎপন্ন করবে? কোন স্তরের শ্রমিকদের মজুরি কত হবে?
বিঃদ্রঃ কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা মূলত সমাজতন্ত্রের মূলনীতি হলেও ক্রমে ক্রমে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোও তা আংশিকভাবে অবলম্বন করতে থাকে। এর কারণ হলো, পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে শিথিল করে এনেছিলো। বরং বিভিন্ন সামষ্টিক লক্ষ্যের প্রেক্ষাপটে ব্যবসা-বাণিজ্যে কিছু না কিছু হস্তক্ষেপ করেই চলছিলো। ফলশ্রুতিতে 'মিশ্র অর্থনীতি' (Mixed Economy) নামে এক নতুন পরিভাষার উদ্ভব ঘটে- যার ব্যাখ্যা হলো, অর্থনীতির মৌলিক নিয়ন্ত্রণ বাজারশক্তির দ্বারাই হবে। কিন্তু প্রয়োজনের ক্ষেত্রে শিল্প-বাণিজ্যের কোনো কোনো শাখা সরকারি তত্ত্বাবধানে চলবে। যেমন, অনেক পুঁজিবাদী রাষ্ট্রেই রেল, বিদ্যুৎ, টেলিফোন ও এয়ারলাইন্স সার্ভিসসমূহ সরকারি তত্ত্বাবধানে থাকে; আর ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও থাকে বেশ নিয়ম-নীতি। সরকারি তত্ত্বাবধানের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলে Public Sector, আর ব্যক্তি উদ্যোগের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলে Private Sector। এই মিশ্র-অর্থব্যবস্থায় সরকার যেহেতু আংশিক হস্তক্ষেপ করে, তাই প্রতিটি বিষয়ের সামগ্রিক ও চূড়ান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যায় না- বরং এক্ষেত্রে সাধারণত পাঁচ বছরের পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করা হয়। স্পষ্টতই এটা আংশিক ও অপূর্ণ পরিকল্পনা। অপরপক্ষে সমাজতন্ত্রের পরিকল্পনা হয়ে থাকে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা- অর্থাৎ প্রতিটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তই পরিপূর্ণ পরিকল্পনা মাফিক হয়।
৩. সামষ্টিক স্বার্থ (Collective Interest): সমাজতন্ত্রের ভাষ্যমতে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় সমস্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যক্তি স্বার্থের অনুগামী থাকে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিকল্পনা প্রণয়নে জনস্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়。
৪. আয়ের সুষম বণ্টন (Equitable Distribution of Income): সমাজতন্ত্রের চতুর্থ মূলনীতি হলো, উৎপাদন লব্ধ আয়কে জনগণের মাঝে সুষমভাবে ছড়িয়ে দেয়া হবে- যাতে করে ধনী-গরিবের দূরত্ব কমে গিয়ে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে সমাজতন্ত্র প্রত্যেকের আয় সমান হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে বেতন-মজুরির তারতম্য হতেই থাকে। তবে সমাজতন্ত্রে কমপক্ষে এ দাবি অবশ্যই ছিলো যে, বেতন-মজুরির আকাশ-পাতাল তারতম্য হবে না।