📘 ইসলাম ও চলমান অর্থবাণিজ্য 📄 বিশ্ব অর্থব্যবস্থা

📄 বিশ্ব অর্থব্যবস্থা


বিশ্বে এখন দু'টি অর্থব্যবস্থার আধিপত্য চলছে- এক: ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা (Capitalism / الرَّأْسُمَالِيَّة) দুই: সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা (Socialism / الاشتراكية), আর এরই উৎকর্ষিত রূপ 'সাম্যবাদ' (Communism / الشُّيُوْعِيَّة)।

বিশ্বের যাবতীয় কারবার এ দুই অর্থব্যবস্থার গণ্ডিতেই আবর্তমান। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন যদিও সমাজতন্ত্রের রাজনৈতিক দাপটকে একেবারেই দমিয়ে দিয়েছে, আর জনপ্রিয়তাকেও বহুলাংশে কমিয়ে দিয়েছে বটে, কিন্তু এর শাস্ত্রীয় গুরুত্ব আজও অক্ষুণ্ণ আছে। ফলে তা জানার আবশ্যকতাও অটুট আছে। তাই উভয় দর্শনেরই পরিচয় তুলে ধরে ইসলামের 'সমুন্নত শাশ্বত স্বাতন্ত্র্য'কে উদ্ভাসিত করবো, ইনশাআল্লাহ।

টিকাঃ
১. সাম্যবাদ বা কমিউনিজম হলো শ্রেণিহীন, শোষণহীন, ব্যক্তিমুনাফাহীন এমন একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবাদর্শ যেখানে ব্যক্তিগত মালিকানার স্থলে উৎপাদনের সকল মাধ্যম এবং প্রাকৃতিক সম্পদ (ভূমি, খনি, কারখানা) রাষ্ট্রের মালিকানাধীন এবং নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে। সাম্যবাদ হলো সমাজতন্ত্রের একটি উন্নত এবং অগ্রসর রূপ, তবে এদের মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে বহুকাল ধরে বিতর্ক চলে আসছে। তবে উভয়েরই মূল লক্ষ্য হলো ব্যক্তিমালিকানা এবং শ্রমিক শ্রেণীর উপর শোষণের হাতিয়ার পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার অবসান ঘটানো। সাম্যবাদের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুং বা মাও জেদং (চীনা ভাষায়- 毛泽东, ইংরেজি: Mao Zedong) জন্ম-ডিসেম্বর ২৬, ১৮৯৩; মৃত্যু-সেপ্টেম্বর ৯, ১৯৭৬) চীনা বিপ্লবী মার্কসবাদী তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক নেতা। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান, পরিণত বয়সে সেনাবাহিনীতে চাকরি ও কাঁচামালের ব্যবসা করে মধ্যবিত্ত হয়ে ওঠেন। ১৯৪৯ সালে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে চীন স্বীকৃতি লাভের পর থেকে ১৯৭৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি শাসন ক্ষমতায় ছিলেন। তার অসাধারণ সমর কৌশলকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি মার্কস লেলিনবাদকে তাত্ত্বিকভাবে উৎকর্ষিত করে যে অবকাঠামোর উপর প্রতিষ্ঠা করেন তাঁকেই 'সাম্যবাদ' (Communism / الشيوعية) বলে। বর্তমানে এ মতবাদ 'মাওবাদ' নামে এবং এর অনুসারীদের মাওবাদী নামে ডাকা হয়। তারা নিজেদের মতবাদটিকে মার্কস-লেলিনবাদের সংশোধনী ও বিরোধী রূপ হিসেবে বিবেচনা করে। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে পৃথিবীর সব দেশেই কমিউনিস্ট পার্টি (Communist Party) নামে রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব বিদ্যমান আছে। এগুলো মূলত কমিউনিস্ট ভাবধারার রাজনৈতিক দল- যার কর্মীরা মার্কস-লেলিন-মাওবাদে বিশ্বাসী। আমাদের বাংলাদেশেও একাধিক কমিউনিস্ট পার্টি রয়েছে। তন্মধ্যে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) উল্লেখযোগ্য। মৌলিক মতাদর্শের অভিন্নতার শ্লোগানে প্রত্যেকটির চিন্তা-চেতনা বিভিন্ন।
১. সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল একটি একদলীয় কমিউনিস্ট রাষ্ট্র, যার অস্তিত্ব ছিল ১৯২২ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। ১৯৪৫ সাল থেকে ১৯৯১ সালে ভেঙে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি হিসেবে স্নায়ুযুদ্ধে লিপ্ত ছিলো। রুশ সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটে ১৯১৭ সালে ভ্লাদিমির লেনিনের বলশেভিক পার্টির নেতৃত্বে 'অক্টোবর বিপ্লব'-এর মাধ্যমে। এই বিপ্লব সারা বিশ্বে কমিউনিস্ট বিপ্লব হিসেবে পরিচিত ছিলো- যার ফলশ্রুতিতে তাত্ত্বিক দর্শনের ভিত্তিতে প্রথম বাস্তব সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের সৃষ্টি হয় ১৯১৮ সালে। ১৯১৮ হতে ১৯২০ সাল পর্যন্ত গৃহযুদ্ধের কবলে পড়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ভৌগোলিক পরিসীমায় রাশিয়া সাম্রাজ্যের পরবর্তী সোভিয়েত ইউনিয়ন বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। তবে সর্বশেষ বৃদ্ধির পর সোভিয়েত ইউনিয়নের ব্যাপ্তি দাঁড়ায় বাল্টিক রাষ্ট্রসমূহ, পূর্ব পোল্যান্ড ও বেসার্বিয়া পর্যন্ত। এ অবস্থা ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পোল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডকে সোভিয়েত ইউনিয়ন হতে বিচ্ছিন্ন করা হয়। মূলত চারটি প্রজাতন্ত্র হতে সোভিয়েত ঐক্যের উৎপত্তি হলেও ১৯৫৬ হতে ১৯৯১ সালে ভেঙে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই ইউনিয়নের প্রজাতন্ত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১৫টিতে। প্রজাতন্ত্রগুলো ছিল (১) আর্মেনিয়া, (২) আজারবাইজান, (৩) বেলারুশ, (৪) এস্তোনিয়া, (৫) জর্জিয়া, (৬) কাজাখস্তান, (৭) কিরগিজিস্তান, (৮) লাটভিয়া, (৯) লিথুয়ানিয়া, (১০) মলদোভা, (১১) রাশিয়া, (১২) তাজিকিস্তান, (১৩) তুর্কমেনিস্তান, (১৪) ইউক্রেন, (১৫) উজবেকিস্তান। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত সরকারের পতনে এগুলো একেকটি স্বতন্ত্র প্রজাতন্ত্রে বিভক্ত হয়ে যায়।

বিশ্বে এখন দু'টি অর্থব্যবস্থার আধিপত্য চলছে- এক: ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা (Capitalism / الرَّأْسُمَالِيَّة) দুই: সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা (Socialism / الاشتراكية), আর এরই উৎকর্ষিত রূপ 'সাম্যবাদ' (Communism / الشُّيُوْعِيَّة)।

বিশ্বের যাবতীয় কারবার এ দুই অর্থব্যবস্থার গণ্ডিতেই আবর্তমান। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন যদিও সমাজতন্ত্রের রাজনৈতিক দাপটকে একেবারেই দমিয়ে দিয়েছে, আর জনপ্রিয়তাকেও বহুলাংশে কমিয়ে দিয়েছে বটে, কিন্তু এর শাস্ত্রীয় গুরুত্ব আজও অক্ষুণ্ণ আছে। ফলে তা জানার আবশ্যকতাও অটুট আছে। তাই উভয় দর্শনেরই পরিচয় তুলে ধরে ইসলামের 'সমুন্নত শাশ্বত স্বাতন্ত্র্য'কে উদ্ভাসিত করবো, ইনশাআল্লাহ।

টিকাঃ
১. সাম্যবাদ বা কমিউনিজম হলো শ্রেণিহীন, শোষণহীন, ব্যক্তিমুনাফাহীন এমন একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবাদর্শ যেখানে ব্যক্তিগত মালিকানার স্থলে উৎপাদনের সকল মাধ্যম এবং প্রাকৃতিক সম্পদ (ভূমি, খনি, কারখানা) রাষ্ট্রের মালিকানাধীন এবং নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে। সাম্যবাদ হলো সমাজতন্ত্রের একটি উন্নত এবং অগ্রসর রূপ। সাম্যবাদের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুং। বর্তমানে এ মতবাদ 'মাওবাদ' নামে পরিচিত।
১. সোভিয়েতে ইউনিয়ন ছিল একটি একদলীয় কমিউনিস্ট রাষ্ট্র, যার অস্তিত্ব ছিল ১৯২২ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত সরকারের পতনে এগুলো একেকটি স্বতন্ত্র প্রজাতন্ত্রে বিভক্ত হয়ে যায়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px