📄 ন্যাশনান ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (N.I.T)
কিছু দেশে 'ইউনিট ট্রাস্ট'-এর ধারণা বিদ্যমান আছে। সেটা হল, একটা ফান্ড তৈরি করা হয়। মানুষের থেকে এর মূলধন সংগ্রহ করা হয়। তারপর এ ফান্ডের অর্থ দ্বারা সরাসরি ব্যবসা করার পরিবর্তে তা বিভিন্ন লাভজনক কাজে লাগানো হয়। তা থেকে সামগ্রিকভাবে যে লভ্যাংশ আসে তা মানুষের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হয়। এন আই টিও এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা এ ধরনের ফান্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে। ফান্ডের ইউনিট বানানো হয়। ইউনিট বিক্রি করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা দ্বারা অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। সাধারণত শেয়ারে এর অর্থ বিনিয়োগ হয়ে থাকে। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার নিয়ে মুনাফা অর্জন করা হয়। কোনো কোম্পানির শেয়ার জারি হলে এন আই টিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে, সে ইচ্ছা করলে বিশ ভাগ পর্যন্ত শেয়ার নিতে পারবে।
📄 ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব পাকিস্তান (I.C.P)
এ প্রতিষ্ঠান কয়েকটি কাজ করে থাকে। এক. এন আই টি- এর ন্যায় একটি ফান্ড চালু করে। একে 'আই সি পি মিউচুয়াল ফান্ড' বলে। মানুষ এ ফান্ডে অর্থ বিনিয়োগ করে। এন আই টি-এর মতো এ অর্থ বিনিয়োগ করে লভ্যাংশ বণ্টন করা হয়। এন আই টি এবং আই সি পি-এর ফান্ডের মধ্যে পার্থক্য হল, এন আই টি-এর ইউনিট ক্রয় করে যখন ইচ্ছা এন আই টি-এর কাছেই আবার তা বিক্রি করা যায়, কিন্তু আই সি পি-এর শেয়ার নিয়ে আই সি পি-এর কাছে দ্বিতীয় বার বিক্রি করা যায় না। তবে কোম্পানির শেয়ারের মতো অন্য কারো কাছে বিক্রি করা যায়।
আই সি পি-এর দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে, যেসব লোক বিদেশে থাকে তারা আই সি পি-তে নিজের নামে একাউন্ট খোলে। এ ধরনের একাউন্ট এমন, যে ক্ষেত্রে আই সি পি-এর এখতিয়ার থাকে, সে যেকোনো শেয়ার ক্রয় করে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারবে। আরেকটা একাউন্ট আছে যেখানে আই সি পি-এর এ ধরনের এখতিয়ার থাকে না; বরং যার একাউন্ট সে নিজে বলে, অমুক কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করা যাবে।
আই সি পি-এর তৃতীয় কাজ হচ্ছে, কারো অধিক ঋণের প্রয়োজন হলে এ প্রতিষ্ঠান কয়েক ব্যাংককে একত্রে মিলিয়ে সমষ্টিগতভাবে ঋণের ব্যবস্থা করে।¹
টিকাঃ
১. এ প্রতিষ্ঠানগুলো পাকিস্তানভিত্তিক। বাংলাদেশের বিশেষায়িত ঋণদান সংস্থাগুলো নিম্নরূপ-
ক. বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক: পাকিস্তান আমলের 'এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব পাকিস্তান' স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক নামে কার্যক্রম শুরু করে। কৃষি ও কৃষকের উন্নতি এ ব্যাংকের একমাত্র লক্ষ্য। কৃষি ব্যাংক সাধারণত কৃষকদের জমি বন্ধক রেখে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ- মেয়াদী ঋণ প্রদান করে। এর যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয় সরাসরি সুদের ভিত্তিতে।
খ. বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক: সাবেক 'পাকিস্তান শিল্পোন্নয়ন ব্যাংক ও ইকুইটি পার্টিসিপেশন ফান্ডকে ১৯৭২ সালে 'বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক' এ রূপান্তরিত করা হয়। দেশের শিল্পোন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানই এর প্রধান লক্ষ্য। এ ব্যাংক নতুন শিল্প স্থাপন ও পুরাতন শিল্প আধুনিকীকরণের জন্য সরকারি বেসরকারি উভয় খাতে শিল্পঋণ প্রদান করে থাকে। এর কার্যক্রম সব সুদ ভিত্তিক।
গ. বাংলাদেশ শিল্পঋণ সংস্থা : স্বাধীনতার পর পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্রেডিট এন্ড ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (P.I.C.I.C), ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব পাকিস্তান (I.C.P), ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (N.I.T) প্রভৃতি সংস্থার বাংলাদেশে অবস্থিত সব সম্পদ ও দায় নিয়ে 'বাংলাদেশ শিল্পঋণ সংস্থা' গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশে শিল্প ক্ষেত্রে ঋণদানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রসারিত করাই এ ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য। এ ব্যাংকের কার্যক্রমও সুদ ভিত্তিক।
ঘ. গৃহ নির্মাণ ঋণদান সংস্থা (House Building Finance Corporation): সাবেক পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থাটি স্বাধীনতার পর 'গৃহ নির্মাণ ঋণদান সংস্থা' নামে পুনর্গঠিত হয়। এ সংস্থা দেশের বড় বড় শহর নগর, উপজেলা সদর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আবাসিক বাড়ি নির্মাণ ও মেরামতের জন্য ঋণ প্রদান করে থাকে। এ সংস্থা এক ইউনিটবিশিষ্ট বাড়ি ও বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে সুদের ভিত্তিতে ঋণ প্রদান করে। অবস্থানভেদে উভয় প্রকার ঋণের ক্ষেত্রে পরিমাণ ও মেয়াদ নির্ধারিত হয়ে থাকে।