📄 বিশ্বব্যাংক
৩. ব্রেটন উডস সম্মেলনে তৃতীয় যে প্রতিষ্ঠানটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল তার নাম International Bank For Reconstruction and Development, একে সংক্ষেপে I.B.R.D ও বলে। আরবিতে 'البنك الدولى للانشاء والتعمير বলা হয়। সহজের জন্য তার সংক্ষিপ্ত নাম হয় ওয়ার্ল্ড ব্যাংক (World Bank)। এখন এ নামটিই বেশি প্রসিদ্ধ, আগের নাম প্রসিদ্ধ নয়। তবে মূল নাম সেটাই স্থির হয়েছিল।¹
এ প্রতিষ্ঠান ও আই এম এফ-এর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, আই এম এফ স্বল্পমেয়াদে ঋণ প্রদান করে। যার মেয়াদ হয় তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত । আর ওয়ার্ল্ড ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেয়, যার মেয়াদ পনের থেকে ত্রিশ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রথমে এ সংস্থা প্রকল্পের (প্রজেক্টস) উপর ঋণ দিত, যেমন মহাসড়ক নির্মাণ ইত্যাদি। তারপর ১৯৬০ সালের পর সাধারণ ঋণও দেয়া শুরু করে। এখন এ প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনা প্রণয়নের ঋণও দেয়। অর্থাৎ সে বলে, যদি তুমি দেশের পলিসি এভাবে তৈরি কর তাহলে এ পরিমাণ ঋণ পাবে।
টিকাঃ
১. যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অনুন্নত দেশগুলোকে পুনর্গঠিত ও স্বাবলম্বী করার উদ্দেশে আন্তর্জাতিক মূলধন বিনিয়োগে সহায়তা করা এ ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য। প্রত্যেক সদস্য দেশের একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে এর গভর্নর পর্ষদ (Bord of Governors) গঠিত। এটিই ব্যাংকের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। দৈনন্দিন কার্য পরিচালনার জন্য ১৭ সদস্যের একটি কার্যকরী পরিচালনা পর্ষদ (Bord of Executive Directors) রয়েছে। কার্যকরী پর্ষদের ৫ জন সদস্য সর্বোচ্চ সংখ্যক শেয়ার ক্রেতা দেশের প্রতিনিধি এবং অবশিষ্ট ১২ জন সদস্য অন্যান্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি কর্তৃক ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। কার্যকরী پর্ষদের চেয়ারম্যান হলেন ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। সদস্য দেশগুলো থেকে সংগৃহীত এর বর্তমান অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ২১০০ কোটি ডলার। ব্যাংকের মূলধনের শতকরা ২০ ভাগ পরিশোধিত (Paid Up)। এর সিংহভাগ মূলধন ঋণপত্র বিক্রি করে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিক্রীত ঋণপত্রের শতকরা ৪৭ ভাগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রয় করেছে। এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৮৪, বাংলা দেশও এর সদস্য। এর সদর দফতর আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত।
৩. ব্রেটন উডস সম্মেলনে তৃতীয় যে প্রতিষ্ঠানটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল তার নাম International Bank For Reconstruction and Development, একে সংক্ষেপে I.B.R.D ও বলে। আরবিতে 'البنك الدولى للانشاء والتعمير বলা হয়। সহজের জন্য তার সংক্ষিপ্ত নাম হয় ওয়ার্ল্ড ব্যাংক (World Bank)। এখন এ নামটিই বেশি প্রসিদ্ধ, আগের নাম প্রসিদ্ধ নয়। তবে মূল নাম সেটাই স্থির হয়েছিল।¹
এ প্রতিষ্ঠান ও আই এম এফ-এর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, আই এম এফ স্বল্পমেয়াদে ঋণ প্রদান করে। যার মেয়াদ হয় তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত । আর ওয়ার্ল্ড ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেয়, যার মেয়াদ পনের থেকে ত্রিশ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রথমে এ সংস্থা প্রকল্পের (প্রজেক্টস) উপর ঋণ দিত, যেমন মহাসড়ক নির্মাণ ইত্যাদি। তারপর ১৯৬০ সালের পর সাধারণ ঋণও দেয়া শুরু করে। এখন এ প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনা প্রণয়নের ঋণও দেয়। অর্থাৎ সে বলে, যদি তুমি দেশের পলিসি এভাবে তৈরি কর তাহলে এ পরিমাণ ঋণ পাবে।
টিকাঃ
১. যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অনুন্নত দেশগুলোকে পুনর্গঠিত ও স্বাবলম্বী করার উদ্দেশে আন্তর্জাতিক মূলধন বিনিয়োগে সহায়তা করা এ ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য। প্রত্যেক সদস্য দেশের একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে এর গভর্নর পর্ষদ (Bord of Governors) গঠিত। এটিই ব্যাংকের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। দৈনন্দিন কার্য পরিচালনার জন্য ১৭ সদস্যের একটি কার্যকরী পরিচালনা পর্ষদ (Bord of Executive Directors) রয়েছে। কার্যকরী پর্ষদের ৫ জন সদস্য সর্বোচ্চ সংখ্যক শেয়ার ক্রেতা দেশের প্রতিনিধি এবং অবশিষ্ট ১২ জন সদস্য অন্যান্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি কর্তৃক ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। কার্যকরী پর্ষদের চেয়ারম্যান হলেন ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। সদস্য দেশগুলো থেকে সংগৃহীত এর বর্তমান অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ২১০০ কোটি ডলার। ব্যাংকের মূলধনের শতকরা ২০ ভাগ পরিশোধিত (Paid Up)। এর সিংহভাগ মূলধন ঋণপত্র বিক্রি করে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিক্রীত ঋণপত্রের শতকরা ৪৭ ভাগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রয় করেছে। এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৮৪, বাংলা দেশও এর সদস্য। এর সদর দফতর আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত।
৩. ব্রেটন উডস সম্মেলনে তৃতীয় যে প্রতিষ্ঠানটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল তার নাম International Bank For Reconstruction and Development, একে সংক্ষেপে I.B.R.D ও বলে। আরবিতে 'البنك الدولى للانشاء والتعمير বলা হয়। সহজের জন্য তার সংক্ষিপ্ত নাম হয় ওয়ার্ল্ড ব্যাংক (World Bank)। এখন এ নামটিই বেশি প্রসিদ্ধ, আগের নাম প্রসিদ্ধ নয়। তবে মূল নাম সেটাই স্থির হয়েছিল।¹
এ প্রতিষ্ঠান ও আই এম এফ-এর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, আই এম এফ স্বল্পমেয়াদে ঋণ প্রদান করে। যার মেয়াদ হয় তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত । আর ওয়ার্ল্ড ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেয়, যার মেয়াদ পনের থেকে ত্রিশ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রথমে এ সংস্থা প্রকল্পের (প্রজেক্টস) উপর ঋণ দিত, যেমন মহাসড়ক নির্মাণ ইত্যাদি। তারপর ১৯৬০ সালের পর সাধারণ ঋণও দেয়া শুরু করে। এখন এ প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনা প্রণয়নের ঋণও দেয়। অর্থাৎ সে বলে, যদি তুমি দেশের পলিসি এভাবে তৈরি কর তাহলে এ পরিমাণ ঋণ পাবে।
টিকাঃ
১. যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অনুন্নত দেশগুলোকে পুনর্গঠিত ও স্বাবলম্বী করার উদ্দেশে আন্তর্জাতিক মূলধন বিনিয়োগে সহায়তা করা এ ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য। প্রত্যেক সদস্য দেশের একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে এর গভর্নর পর্ষদ (Bord of Governors) গঠিত। এটিই ব্যাংকের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। দৈনন্দিন কার্য পরিচালনার জন্য ১৭ সদস্যের একটি কার্যকরী পরিচালনা পর্ষদ (Bord of Executive Directors) রয়েছে। কার্যকরী پর্ষদের ৫ জন সদস্য সর্বোচ্চ সংখ্যক শেয়ার ক্রেতা দেশের প্রতিনিধি এবং অবশিষ্ট ১২ জন সদস্য অন্যান্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি কর্তৃক ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। কার্যকরী پর্ষদের চেয়ারম্যান হলেন ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। সদস্য দেশগুলো থেকে সংগৃহীত এর বর্তমান অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ২১০০ কোটি ডলার। ব্যাংকের মূলধনের শতকরা ২০ ভাগ পরিশোধিত (Paid Up)। এর সিংহভাগ মূলধন ঋণপত্র বিক্রি করে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিক্রীত ঋণপত্রের শতকরা ৪৭ ভাগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রয় করেছে। এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৮৪, বাংলা দেশও এর সদস্য। এর সদর দফতর আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত।
📄 ব্রেটন উডসের মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা
ব্রেটন উডস সম্মেলনে যে তিন প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়েছিল তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় শেষ হল। এ সম্মেলনে মুদ্রা বিনিময়ের যে নীতি স্থির হয়েছিল তার বিবরণ নিম্নরূপ: ১৯৩১ সালে স্বর্ণমান ব্যবস্থা শেষ হয়ে গিয়েছিল। এ সম্মেলনে বিনিময় হারের আরো একটি নতুন নীতি নির্ধারিত হয়। যেটা Bretton woods System of Exchange Rate নামে পরিচিত হয়। এ নীতির সারকথা হল, এখনো মুদ্রার মূল্যমানের পরিমাপক মৌলিকভাবে স্বর্ণই রয়েছে, কিন্তু সব দেশের মুদ্রার উপর স্বর্ণ পাওয়া যায় না; বরং এখন আন্ত র্জাতিক বাণিজ্যে ডলারকে বিনিময় মাধ্যম হিসেবে স্থির করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা হল এরূপ, আমেরিকার ডলারকে স্বর্ণের সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়া হয়েছে। কারণ আমেরিকার অবস্থা তখনো মজবুত ছিল এবং সে ডলারের উপর স্বর্ণ দিতে প্রস্তুত ছিল। সুতরাং প্রথমদিকে এক আউন্স স্বর্ণের মোকাবেলায় থাকত ৩৫ ডলার। তারপর আমেরিকা ডলারের মূল্য বৃদ্ধি করে দেয় এবং ৪২ ডলারের বিনিময়ে এক আউন্স স্বর্ণ দিতে থাকে। শুধু প্রত্যেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমেরিকাকে ডলার দিয়ে তার থেকে স্বর্ণ নিতে পারত এবং আমেরিকা দিতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু কার্যত স্বর্ণ কোনো দেশই নিত না। ডলার দিয়েই কারবার চলত। এভাবে ডলার স্বর্ণের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। আর অন্য সব দেশের মুদ্রাকে ডলারের সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়া হয়েছিল। আই এম এফ-এ এ চুক্তি হয়েছিল এভাবে, "প্রত্যেক দেশ তার মুদ্রার মূল্য একই সাথে ডলার ও স্বর্ণ উভয় হিসেবে ঘোষণা করবে।" যেমন এত টাকায় ডলার পাওয়া যাবে এবং ঐ টাকায় এত পরিমাণ স্বর্ণ পাওয়া যাবে, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে মুদ্রার মূল্য শুধু ডলারে বলা হয়েছে। এভাবে সব কারেন্সি ডলারের সাথে এবং ডলার স্বর্ণের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে।
আই এম এফ-এ এ চুক্তিও স্থির হয়, কোনো দেশের কারেন্সির যে মূল্য ডলার দিয়ে নির্ধারিত হয়েছে, যদি দেশের মুদ্রার মূল্যে তার থেকে উত্থান-পতন হয় তাহলে এ উত্থান-পতন যদি শতকরা দুই ভাগ পর্যন্ত হয় তাহলে সেটা সহনীয়। অর্থাৎ কারেন্সির মূল্য স্থিরীকৃত রেট থেকে শতকরা দুই ভাগ কম বা দুই ভাগ বেশি হলে সেটা সহনীয়, কিন্তু কারেন্সির মূল্য শতকরা দুই ভাগ থেকে বেশি বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যের উপর হস্তক্ষেপ করে মুদ্রাকে নির্ধারিত মূল্যে নিয়ে আসবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ করার প্রক্রিয়া হবে এরূপ যদি বাজারে মুদ্রার মূল্য নির্ধারিত রেট থেকে কমে যায় তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত মূল্যে মানুষের কাছ থেকে মুদ্রা ক্রয় করতে শুরু করবে। তাহলে আশা করা যায় মূল্য বৃদ্ধি পাবে। আর যদি বাজারে মুদ্রার মূল্য নির্ধারিত রেট থেকে বৃদ্ধি পায়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কম মূল্যে তা ক্রয় করতে শুরু করবে। এতে মূল্য কমে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। এ পদ্ধতিতেও যদি রেট কন্ট্রোল না হয় তাহলে আই এম এফ-এর দ্বারস্থ হবে। আই এম এফ হয় তো রেট কন্ট্রোল করার জন্য অতিরিক্ত ডলার প্রদান করবে, অথবা সে দেশের কারেন্সির রেট পরিবর্তন করে দেবে।
এ বিস্তারিত আলোচনা দ্বারা বুঝা গেল, ব্রেটন উডসের এ নীতির মধ্যে বিনিময় হার (Exchange Rate) নির্ধারিত (Fixed)। এ কারণে এ ব্যবস্থাকে ইংরেজিতে Fixed Exchange Rate System এবং আরবিতে 'نظام سعر الصرف الثابت' বলে। এর পূর্বে বিনিময় হারের যে স্বর্ণমান ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল, তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য মনে করা হত, তাতে মুদ্রার মোকাবেলায় স্বর্ণের পরিমাণ নির্ধারিত থাকত এবং রেট একই (Fixed) থাকত। যার কারণে প্রত্যেক ব্যবসায়ী মুদ্রা রেট উত্থান-পতন থেকে আশঙ্কামুক্ত হয়ে পূর্ণ নির্ভরতার সাথে ব্যবসা করত। ব্রেটন উডসের এ ব্যবস্থায়ও স্বর্ণমান ব্যবস্থার সে বৈশিষ্ট্য বহাল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তার সাথে সাথে স্বর্ণমান ব্যবস্থার মধ্যে যে দোষ ছিল, সেটা থেকে মুক্ত থাকার রাস্তা বের করা হয়েছে। সে দোষ হল, স্বর্ণমান ব্যবস্থার মধ্যে বিনিময় রেট পরিবর্তনে সরকারের কোনো ক্ষমতা ছিল না। ব্রেটন উডসের উল্লিখিত ব্যবস্থায় বিনিময় হারে পরিবর্তনের অবকাশও রাখা হয়েছে।
ব্রেটন উডস সম্মেলনে যে তিন প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়েছিল তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় শেষ হল। এ সম্মেলনে মুদ্রা বিনিময়ের যে নীতি স্থির হয়েছিল তার বিবরণ নিম্নরূপ: ১৯৩১ সালে স্বর্ণমান ব্যবস্থা শেষ হয়ে গিয়েছিল। এ সম্মেলনে বিনিময় হারের আরো একটি নতুন নীতি নির্ধারিত হয়। যেটা Bretton woods System of Exchange Rate নামে পরিচিত হয়। এ নীতির সারকথা হল, এখনো মুদ্রার মূল্যমানের পরিমাপক মৌলিকভাবে স্বর্ণই রয়েছে, কিন্তু সব দেশের মুদ্রার উপর স্বর্ণ পাওয়া যায় না; বরং এখন আন্ত র্জাতিক বাণিজ্যে ডলারকে বিনিময় মাধ্যম হিসেবে স্থির করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা হল এরূপ, আমেরিকার ডলারকে স্বর্ণের সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়া হয়েছে। কারণ আমেরিকার অবস্থা তখনো মজবুত ছিল এবং সে ডলারের উপর স্বর্ণ দিতে প্রস্তুত ছিল। সুতরাং প্রথমদিকে এক আউন্স স্বর্ণের মোকাবেলায় থাকত ৩৫ ডলার। তারপর আমেরিকা ডলারের মূল্য বৃদ্ধি করে দেয় এবং ৪২ ডলারের বিনিময়ে এক আউন্স স্বর্ণ দিতে থাকে। শুধু প্রত্যেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমেরিকাকে ডলার দিয়ে তার থেকে স্বর্ণ নিতে পারত এবং আমেরিকা দিতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু কার্যত স্বর্ণ কোনো দেশই নিত না। ডলার দিয়েই কারবার চলত। এভাবে ডলার স্বর্ণের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। আর অন্য সব দেশের মুদ্রাকে ডলারের সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়া হয়েছিল। আই এম এফ-এ এ চুক্তি হয়েছিল এভাবে, "প্রত্যেক দেশ তার মুদ্রার মূল্য একই সাথে ডলার ও স্বর্ণ উভয় হিসেবে ঘোষণা করবে।" যেমন এত টাকায় ডলার পাওয়া যাবে এবং ঐ টাকায় এত পরিমাণ স্বর্ণ পাওয়া যাবে, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে মুদ্রার মূল্য শুধু ডলারে বলা হয়েছে। এভাবে সব কারেন্সি ডলারের সাথে এবং ডলার স্বর্ণের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে।
আই এম এফ-এ এ চুক্তিও স্থির হয়, কোনো দেশের কারেন্সির যে মূল্য ডলার দিয়ে নির্ধারিত হয়েছে, যদি দেশের মুদ্রার মূল্যে তার থেকে উত্থান-পতন হয় তাহলে এ উত্থান-পতন যদি শতকরা দুই ভাগ পর্যন্ত হয় তাহলে সেটা সহনীয়। অর্থাৎ কারেন্সির মূল্য স্থিরীকৃত রেট থেকে শতকরা দুই ভাগ কম বা দুই ভাগ বেশি হলে সেটা সহনীয়, কিন্তু কারেন্সির মূল্য শতকরা দুই ভাগ থেকে বেশি বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যের উপর হস্তক্ষেপ করে মুদ্রাকে নির্ধারিত মূল্যে নিয়ে আসবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ করার প্রক্রিয়া হবে এরূপ যদি বাজারে মুদ্রার মূল্য নির্ধারিত রেট থেকে কমে যায় তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত মূল্যে মানুষের কাছ থেকে মুদ্রা ক্রয় করতে শুরু করবে। তাহলে আশা করা যায় মূল্য বৃদ্ধি পাবে। আর যদি বাজারে মুদ্রার মূল্য নির্ধারিত রেট থেকে বৃদ্ধি পায়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কম মূল্যে তা ক্রয় করতে শুরু করবে। এতে মূল্য কমে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। এ পদ্ধতিতেও যদি রেট কন্ট্রোল না হয় তাহলে আই এম এফ-এর দ্বারস্থ হবে। আই এম এফ হয় তো রেট কন্ট্রোল করার জন্য অতিরিক্ত ডলার প্রদান করবে, অথবা সে দেশের কারেন্সির রেট পরিবর্তন করে দেবে।
এ বিস্তারিত আলোচনা দ্বারা বুঝা গেল, ব্রেটন উডসের এ নীতির মধ্যে বিনিময় হার (Exchange Rate) নির্ধারিত (Fixed)। এ কারণে এ ব্যবস্থাকে ইংরেজিতে Fixed Exchange Rate System এবং আরবিতে 'نظام سعر الصرف الثابت' বলে। এর পূর্বে বিনিময় হারের যে স্বর্ণমান ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল, তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য মনে করা হত, তাতে মুদ্রার মোকাবেলায় স্বর্ণের পরিমাণ নির্ধারিত থাকত এবং রেট একই (Fixed) থাকত। যার কারণে প্রত্যেক ব্যবসায়ী মুদ্রা রেট উত্থান-পতন থেকে আশঙ্কামুক্ত হয়ে পূর্ণ নির্ভরতার সাথে ব্যবসা করত। ব্রেটন উডসের এ ব্যবস্থায়ও স্বর্ণমান ব্যবস্থার সে বৈশিষ্ট্য বহাল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তার সাথে সাথে স্বর্ণমান ব্যবস্থার মধ্যে যে দোষ ছিল, সেটা থেকে মুক্ত থাকার রাস্তা বের করা হয়েছে। সে দোষ হল, স্বর্ণমান ব্যবস্থার মধ্যে বিনিময় রেট পরিবর্তনে সরকারের কোনো ক্ষমতা ছিল না। ব্রেটন উডসের উল্লিখিত ব্যবস্থায় বিনিময় হারে পরিবর্তনের অবকাশও রাখা হয়েছে।
ব্রেটন উডস সম্মেলনে যে তিন প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়েছিল তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় শেষ হল। এ সম্মেলনে মুদ্রা বিনিময়ের যে নীতি স্থির হয়েছিল তার বিবরণ নিম্নরূপ: ১৯৩১ সালে স্বর্ণমান ব্যবস্থা শেষ হয়ে গিয়েছিল। এ সম্মেলনে বিনিময় হারের আরো একটি নতুন নীতি নির্ধারিত হয়। যেটা Bretton woods System of Exchange Rate নামে পরিচিত হয়। এ নীতির সারকথা হল, এখনো মুদ্রার মূল্যমানের পরিমাপক মৌলিকভাবে স্বর্ণই রয়েছে, কিন্তু সব দেশের মুদ্রার উপর স্বর্ণ পাওয়া যায় না; বরং এখন আন্ত র্জাতিক বাণিজ্যে ডলারকে বিনিময় মাধ্যম হিসেবে স্থির করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা হল এরূপ, আমেরিকার ডলারকে স্বর্ণের সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়া হয়েছে। কারণ আমেরিকার অবস্থা তখনো মজবুত ছিল এবং সে ডলারের উপর স্বর্ণ দিতে প্রস্তুত ছিল। সুতরাং প্রথমদিকে এক আউন্স স্বর্ণের মোকাবেলায় থাকত ৩৫ ডলার। তারপর আমেরিকা ডলারের মূল্য বৃদ্ধি করে দেয় এবং ৪২ ডলারের বিনিময়ে এক আউন্স স্বর্ণ দিতে থাকে। শুধু প্রত্যেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমেরিকাকে ডলার দিয়ে তার থেকে স্বর্ণ নিতে পারত এবং আমেরিকা দিতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু কার্যত স্বর্ণ কোনো দেশই নিত না। ডলার দিয়েই কারবার চলত। এভাবে ডলার স্বর্ণের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। আর অন্য সব দেশের মুদ্রাকে ডলারের সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়া হয়েছিল। আই এম এফ-এ এ চুক্তি হয়েছিল এভাবে, "প্রত্যেক দেশ তার মুদ্রার মূল্য একই সাথে ডলার ও স্বর্ণ উভয় হিসেবে ঘোষণা করবে।" যেমন এত টাকায় ডলার পাওয়া যাবে এবং ঐ টাকায় এত পরিমাণ স্বর্ণ পাওয়া যাবে, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে মুদ্রার মূল্য শুধু ডলারে বলা হয়েছে। এভাবে সব কারেন্সি ডলারের সাথে এবং ডলার স্বর্ণের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে।
আই এম এফ-এ এ চুক্তিও স্থির হয়, কোনো দেশের কারেন্সির যে মূল্য ডলার দিয়ে নির্ধারিত হয়েছে, যদি দেশের মুদ্রার মূল্যে তার থেকে উত্থান-পতন হয় তাহলে এ উত্থান-পতন যদি শতকরা দুই ভাগ পর্যন্ত হয় তাহলে সেটা সহনীয়। অর্থাৎ কারেন্সির মূল্য স্থিরীকৃত রেট থেকে শতকরা দুই ভাগ কম বা দুই ভাগ বেশি হলে সেটা সহনীয়, কিন্তু কারেন্সির মূল্য শতকরা দুই ভাগ থেকে বেশি বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যের উপর হস্তক্ষেপ করে মুদ্রাকে নির্ধারিত মূল্যে নিয়ে আসবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ করার প্রক্রিয়া হবে এরূপ যদি বাজারে মুদ্রার মূল্য নির্ধারিত রেট থেকে কমে যায় তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত মূল্যে মানুষের কাছ থেকে মুদ্রা ক্রয় করতে শুরু করবে। তাহলে আশা করা যায় মূল্য বৃদ্ধি পাবে। আর যদি বাজারে মুদ্রার মূল্য নির্ধারিত রেট থেকে বৃদ্ধি পায়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কম মূল্যে তা ক্রয় করতে শুরু করবে। এতে মূল্য কমে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। এ পদ্ধতিতেও যদি রেট কন্ট্রোল না হয় তাহলে আই এম এফ-এর দ্বারস্থ হবে। আই এম এফ হয় তো রেট কন্ট্রোল করার জন্য অতিরিক্ত ডলার প্রদান করবে, অথবা সে দেশের কারেন্সির রেট পরিবর্তন করে দেবে।
এ বিস্তারিত আলোচনা দ্বারা বুঝা গেল, ব্রেটন উডসের এ নীতির মধ্যে বিনিময় হার (Exchange Rate) নির্ধারিত (Fixed)। এ কারণে এ ব্যবস্থাকে ইংরেজিতে Fixed Exchange Rate System এবং আরবিতে 'نظام سعر الصرف الثابت' বলে। এর পূর্বে বিনিময় হারের যে স্বর্ণমান ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল, তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য মনে করা হত, তাতে মুদ্রার মোকাবেলায় স্বর্ণের পরিমাণ নির্ধারিত থাকত এবং রেট একই (Fixed) থাকত। যার কারণে প্রত্যেক ব্যবসায়ী মুদ্রা রেট উত্থান-পতন থেকে আশঙ্কামুক্ত হয়ে পূর্ণ নির্ভরতার সাথে ব্যবসা করত। ব্রেটন উডসের এ ব্যবস্থায়ও স্বর্ণমান ব্যবস্থার সে বৈশিষ্ট্য বহাল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তার সাথে সাথে স্বর্ণমান ব্যবস্থার মধ্যে যে দোষ ছিল, সেটা থেকে মুক্ত থাকার রাস্তা বের করা হয়েছে। সে দোষ হল, স্বর্ণমান ব্যবস্থার মধ্যে বিনিময় রেট পরিবর্তনে সরকারের কোনো ক্ষমতা ছিল না। ব্রেটন উডসের উল্লিখিত ব্যবস্থায় বিনিময় হারে পরিবর্তনের অবকাশও রাখা হয়েছে।
📄 ব্রেটন উডস ব্যবস্থার পতন
উল্লিখিত ব্যবস্থার ভিত্তি ছিল এ কথার উপর, কোনো এক ধনী রাষ্ট্র তার মুদ্রার উপর স্বর্ণ দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। সুতরাং আমেরিকা তখন ডলারের বিনিময়ে স্বর্ণ দেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে আমেরিকা থেকে কেউই স্বর্ণ দাবি করত না। তবে ফ্রান্স আমেরিকার কাছে ডলারের বিপরীতে স্বর্ণের দাবি তোলা শুরু করে। যার কারণে ফ্রান্স ও আমেরিকার মধ্যকার অবস্থাও স্বাভাবিক থাকে নি, আর আমেরিকার কাছে স্বর্ণের মজুদও কমতে থাকে। ফলে ১৯৭১ সালে আমেরিকা স্বর্ণ দিতে অস্বীকার করে বসে এবং ব্রেটন উডস ব্যবস্থা শেষ হয়ে যায়। নির্ধারিত বিনিময় হার ব্যবস্থা (Fixed Exchange Rate System) বহাল থাকে নি। এখন বিনিময় হার ব্যবস্থার জন্য দুটি নীতি প্রচলিত হয়- ১. একটা নীতি হল, যেমন অন্যান্য পণ্যের কোনো রেট নির্ধারিত থাকে না; বরং স্বাধীন বাজার নিজেই যোগান ও চাহিদার ভিত্তিতে রেট স্থির করে। তেমনিভাবে মুদ্রার রেটও খোলা বাজারে ছেড়ে দিতে হবে। যোগান ও চাহিদার ভিত্তিতে আপনা আপনিই রেট স্থির হতে থাকবে। যেমন ডলার এবং বাংলাদেশী টাকার যোগান ও চাহিদার মাধ্যমে বাংলাদেশী টাকার সাথে ডলারের রেট নির্ধারিত হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাজারে যোগান ও চাহিদার আলোকে অন্যান্য দেশের মুদ্রার সাথে বাংলাদেশী টাকার রেট নির্ধারিত হবে। এ নীতিকে (Freely Floating Exchange Rates) নীতি বলা হয়। আরবিতে বলা হয় ‘اسعار الصرف العائمة الحرة’। ২. দ্বিতীয় নীতি ছিল, মৌলিকভাবে তো রেট স্বাধীনই থাকা উচিৎ, তা সত্ত্বেও সে সাথে সরকারের উচিৎ রেটের উপর নজর রাখা। কখনো যদি রেট মাত্রাতিরিক্ত বেশি কম হতে দেখা যায়, তাহলে সরকার হস্তক্ষেপ করবে। যার প্রক্রিয়া হবে এমন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাজারে অবতীর্ণ হয়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেবে। এ নীতিকে ইংরেজিতে Managed Float এবং আরবিতে ‘اسعار الصرف العائمة المدراة’ বলা যায়।
উল্লিখিত ব্যবস্থার ভিত্তি ছিল এ কথার উপর, কোনো এক ধনী রাষ্ট্র তার মুদ্রার উপর স্বর্ণ দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। সুতরাং আমেরিকা তখন ডলারের বিনিময়ে স্বর্ণ দেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে আমেরিকা থেকে কেউই স্বর্ণ দাবি করত না। তবে ফ্রান্স আমেরিকার কাছে ডলারের বিপরীতে স্বর্ণের দাবি তোলা শুরু করে। যার কারণে ফ্রান্স ও আমেরিকার মধ্যকার অবস্থাও স্বাভাবিক থাকে নি, আর আমেরিকার কাছে স্বর্ণের মজুদও কমতে থাকে। ফলে ১৯৭১ সালে আমেরিকা স্বর্ণ দিতে অস্বীকার করে বসে এবং ব্রেটন উডস ব্যবস্থা শেষ হয়ে যায়। নির্ধারিত বিনিময় হার ব্যবস্থা (Fixed Exchange Rate System) বহাল থাকে নি। এখন বিনিময় হার ব্যবস্থার জন্য দুটি নীতি প্রচলিত হয়- ১. একটা নীতি হল, যেমন অন্যান্য পণ্যের কোনো রেট নির্ধারিত থাকে না; বরং স্বাধীন বাজার নিজেই যোগান ও চাহিদার ভিত্তিতে রেট স্থির করে। তেমনিভাবে মুদ্রার রেটও খোলা বাজারে ছেড়ে দিতে হবে। যোগান ও চাহিদার ভিত্তিতে আপনা আপনিই রেট স্থির হতে থাকবে। যেমন ডলার এবং বাংলাদেশী টাকার যোগান ও চাহিদার মাধ্যমে বাংলাদেশী টাকার সাথে ডলারের রেট নির্ধারিত হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাজারে যোগান ও চাহিদার আলোকে অন্যান্য দেশের মুদ্রার সাথে বাংলাদেশী টাকার রেট নির্ধারিত হবে। এ নীতিকে (Freely Floating Exchange Rates) নীতি বলা হয়। আরবিতে বলা হয় ‘اسعار الصرف العائمة الحرة’। ২. দ্বিতীয় নীতি ছিল, মৌলিকভাবে তো রেট স্বাধীনই থাকা উচিৎ, তা সত্ত্বেও সে সাথে সরকারের উচিৎ রেটের উপর নজর রাখা। কখনো যদি রেট মাত্রাতিরিক্ত বেশি কম হতে দেখা যায়, তাহলে সরকার হস্তক্ষেপ করবে। যার প্রক্রিয়া হবে এমন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাজারে অবতীর্ণ হয়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেবে। এ নীতিকে ইংরেজিতে Managed Float এবং আরবিতে ‘اسعار الصرف العائمة المدراة’ বলা যায়।
উল্লিখিত ব্যবস্থার ভিত্তি ছিল এ কথার উপর, কোনো এক ধনী রাষ্ট্র তার মুদ্রার উপর স্বর্ণ দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। সুতরাং আমেরিকা তখন ডলারের বিনিময়ে স্বর্ণ দেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে আমেরিকা থেকে কেউই স্বর্ণ দাবি করত না। তবে ফ্রান্স আমেরিকার কাছে ডলারের বিপরীতে স্বর্ণের দাবি তোলা শুরু করে। যার কারণে ফ্রান্স ও আমেরিকার মধ্যকার অবস্থাও স্বাভাবিক থাকে নি, আর আমেরিকার কাছে স্বর্ণের মজুদও কমতে থাকে। ফলে ১৯৭১ সালে আমেরিকা স্বর্ণ দিতে অস্বীকার করে বসে এবং ব্রেটন উডস ব্যবস্থা শেষ হয়ে যায়। নির্ধারিত বিনিময় হার ব্যবস্থা (Fixed Exchange Rate System) বহাল থাকে নি। এখন বিনিময় হার ব্যবস্থার জন্য দুটি নীতি প্রচলিত হয়- ১. একটা নীতি হল, যেমন অন্যান্য পণ্যের কোনো রেট নির্ধারিত থাকে না; বরং স্বাধীন বাজার নিজেই যোগান ও চাহিদার ভিত্তিতে রেট স্থির করে। তেমনিভাবে মুদ্রার রেটও খোলা বাজারে ছেড়ে দিতে হবে। যোগান ও চাহিদার ভিত্তিতে আপনা আপনিই রেট স্থির হতে থাকবে। যেমন ডলার এবং বাংলাদেশী টাকার যোগান ও চাহিদার মাধ্যমে বাংলাদেশী টাকার সাথে ডলারের রেট নির্ধারিত হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাজারে যোগান ও চাহিদার আলোকে অন্যান্য দেশের মুদ্রার সাথে বাংলাদেশী টাকার রেট নির্ধারিত হবে। এ নীতিকে (Freely Floating Exchange Rates) নীতি বলা হয়। আরবিতে বলা হয় ‘اسعار الصرف العائمة الحرة’। ২. দ্বিতীয় নীতি ছিল, মৌলিকভাবে তো রেট স্বাধীনই থাকা উচিৎ, তা সত্ত্বেও সে সাথে সরকারের উচিৎ রেটের উপর নজর রাখা। কখনো যদি রেট মাত্রাতিরিক্ত বেশি কম হতে দেখা যায়, তাহলে সরকার হস্তক্ষেপ করবে। যার প্রক্রিয়া হবে এমন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাজারে অবতীর্ণ হয়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেবে। এ নীতিকে ইংরেজিতে Managed Float এবং আরবিতে ‘اسعار الصرف العائمة المدراة’ বলা যায়।