📄 পুঁজিবাজার (Financial Market) السوق المالية
স্টক এক্সচেঞ্জ একটি বড় বাজারের অংশ। যাকে আরবীতে 'السوق المالية', ইংরেজিতে Financial Market বা Capital Market এবং বাংলায় 'পুঁজি বাজার' বলে। এর মধ্যে শুধু কোম্পানির শেয়ারই নয়; বরং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের (ব্যাংক অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকার ইত্যাদি) জারিকৃত আর্থিক সনদাদির ক্রয়-বিক্রয়ও হয়। যদিও এ বাজারের কোনো পৃথক ভৌগোলিক অস্তিত্ব জরুরি নয়। কার্যত এ সব কাজ স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যেই হতে পারে, কিন্তু পরিভাষায় তার একটা অর্থগত ধারণা আছে। এ Financial Market-এ 'সরকারি ঋণপত্রের'ও (Government Securities) কেনাবেচা হয়। যে সনদ সরকার বিভিন্ন সময়ে জনসাধারণ থেকে ঋণ গ্রহণের জন্য জারি করে তাকে 'সরকারি ঋণপত্র' বলে। সরকারের আয়ের উৎস (ট্যাক্স ইত্যাদি) বাজেটের জন্য যখন অপর্যাপ্ত হয়, তখন সরকার জনগণ থেকে ঋণ গ্রহণের জন্য এ আর্থিক সনদ জারি করে। যেমন:
১. প্রাইজ বন্ড: এর মধ্যে প্রত্যেক বন্ডের উপর লাভ হয় না। সব বন্ড থেকে প্রাপ্য অর্থের উপর সমষ্টিগতভাবে মুনাফা হয়, যা বণ্টিত হয় লটারির মাধ্যমে।
২. ডিফেন্স সেভিং সার্টিফিকেট।
৩. বিশেষ ডিপোজিট সার্টিফিকেট।
৪. ফরেন এক্সচেঞ্জ বিয়ারার সার্টিফিকেট।¹ আগে জনসাধারণের জন্য ফরেন এক্সচেঞ্জ (বৈদেশিক মুদ্রা) রাখার অনুমতি ছিল না। পরিণামে কারো যখন ফরেন এক্সচেঞ্জের প্রয়োজন হত তখন তাতে বহু আইনি জটিলতা দেখা দিত। এ অবস্থার এক ক্ষতি ছিল, মানুষ অবৈধ মাধ্যমে ফরেন এক্সচেঞ্জ লাভ করত এবং নিজের কাছে রাখত। দ্বিতীয় ক্ষতি ছিল, লোকজন বাইরে থেকে ফরেন এক্সচেঞ্জ যেমন ডলার আনত, কিন্তু সে সরকারকে প্রদান করত না। অথচ সরকারের তা প্রয়োজন। সুতরাং তাকে আইনগত বৈধতা দিয়ে লোকদের থেকে ঋণ হিসেবে ফরেন এক্সচেঞ্জ নেয়ার জন্য যে সনদ সরকার জারি করে, তাকে 'ফরেন এক্সচেঞ্জ বিয়ারার সার্টিফিকেট' (F.E.B.C) বলে। এর পদ্ধতি হল, সরকার ডলার নিয়ে তখনকার মূল্য অনুযায়ী দেশীয় টাকার সার্টিফিকেট জারি করে দেয়। যেমন এখন ডলারের মূল্য পঁচিশ² টাকা। বাইরে থেকে কেউ একশ ডলার নিয়ে আসল। সরকার তার থেকে একশ ডলার নিয়ে তাকে দুই হাজার পাঁচশ দেশীয় টাকার সার্টিফিকেট জারি করবে। যার অর্থ হবে সরকার সার্টিফিকেটধারীর কাছে দেশীয় আড়াই হাজার টাকা ঋণী।
এফ.ই.বি.সি.এর উপর বার্ষিক শতকরা বার ভাগ হারে বর্ধিত পাওয়া যায়। গ্রাহক যখন ইচ্ছা এ সার্টিফিকেট পেশ করে পুনরায় ডলার নিতে পারে। আবার সে এ সার্টিফিকেট বিক্রিও করতে পারে। এগুলো সব সরকারি দলিল। এর মধ্যে আসল লেনদেন তো সরকার ও ঋণদাতার (সার্টিফিকেটধারী) মধ্যে হয়। কিন্তু জনসাধারণের সুবিধার জন্য তাকে বিক্রিরও অবকাশ দেয়া হয়েছে। পুঁজি বাজারে (Financial Market) তার ক্রয়-বিক্রয় হয়। সনদধারী যখন এটা বিক্রি করে দেবে তখন আর সে ঋণদাতা থাকবে না। সরকারের সাথে তার লেনদেন চুকে যাবে। এখন ক্রেতা হবে ঋণদাতা এবং সরকারের লেনদেন ক্রেতার সাথে সম্পৃক্ত হবে। যেখানে শেয়ার বা ঋণের সনদাদি ইস্যুকারী ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়, সে বাজারকে 'সেকেন্ডারি মার্কেট' (Secondary Market) বলে। যে সনদের কোনো দ্বিতীয় বাজার থাকে, অর্থাৎ তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে বিক্রি করা যায়, তাকে বেশি আকর্ষণীয় মনে করা হয়। লোক টাকার বিনিময়ে এ সনদ নেয়ার জন্য এ কারণে বেশি আগ্রহ দেখায়, সে যখন ইচ্ছা তা সেকেন্ডারি মার্কেটে বিক্রি করে নগদ টাকা লাভ করতে পারবে।
টিকাঃ
১. এগুলো পাকিস্তান সরকারের প্রবর্তিত ঋণপত্র। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত ঋণপত্রগুলো হচ্ছে,
২. এ মূল্য ছিল পাকিস্তানী মুদ্রার মান অনুযায়ী। বর্তমানে বাংলাদেশী মুদ্রায় এক ডলারের মূল্য প্রায় সত্তর টাকার মত।