📄 Sale On Margin
এর অর্থ শেয়ারের এমন বেচাকেনা, যার মধ্যে শেয়ারের মূল্যের শতকরা কিছু অংশ সাথে সাথে পরিশোধ করতে হয় আর বাকিটা ঋণ থাকে। যেমন দশ শতাংশ মূল্য পরিশোধ করে দিল আর বাকি নব্বই শতাংশ ঋণ। সাধারণত এর প্রক্রিয়া হয় এমন, সচরাচর যে শেয়ার কিনে তার সাথে দালালদের সম্পর্ক থাকে। কোনো ব্যক্তি দালালকে বলল, অমুক কোম্পানির শেয়ার Margin-এর উপর ক্রয় করে দাও। যার হার নির্ধারণ করে নেয়া হয়। যেমন শতকরা দশ শতাংশ। এ পরিমাণ অর্থ ক্রেতা প্রদান করে। বাকি নব্বই শতাংশ দালাল তার নিজের পক্ষ থেকে পরিশোধ করে। দালাল এ অর্থ ক্রেতাকে ঋণ প্রদান করে। দালাল কখনো তার সুদ নেয় আবার কখনো নেয় না। কখনো এমন হয়, কিছুদিন পর্যন্ত বিনা সুদে সুযোগ দেয়। তারপর সুদ পরিশোধ করা জরুরি। যেমন বাকি মূল্য তিন দিনের মধ্যে পরিশোধ করলে সুদ দিতে হবে না, কিন্তু তারপর সুদ দিতে হবে। এর মধ্যে দালালের আসল লাভ কমিশন। নিজের ব্যবসায় চালু রাখা এবং কমিশন গ্রহণের জন্য সে ঋণ দিতেও প্রস্তুত থাকে।
📄 Short Sale
শর্ট সেল মূলত 'অমালিকানা বস্তু বিক্রির' নাম। অর্থাৎ বিক্রেতা এমন শেয়ার বিক্রি করে দেয় যা এখনো তার মালিকানায় আসে নি, কিন্তু তার বিশ্বাস থাকে, শেয়ার হাতে পেয়ে তা ক্রেতাকে প্রদান করবে।
📄 নগদ ও অগ্রিম ক্রয়
শেয়ারের ক্রয়-বিক্রয় নগদ ও অগ্রিম- এ দুভাবেই হয়। একটাকে নগদ বিক্রয় (Spot Sale) এবং অন্যটাকে অগ্রিম বিক্রয় (Forward Sale) বলে।
নগদ ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে শেয়ারের বিক্রি তাৎক্ষণিক হয়ে যায় এবং অধিকারও সাথে সাথে স্থানান্তরিত হয়। ক্রেতা তখন থেকেই শেয়ার নেয়ার হকদার হয়ে যায়, কিন্তু কিছু ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অপারগতার কারণে শেয়ার সার্টিফিকেট হস্তান্তরে (ডেলিভারি) দেরি হয়। শেয়ার সার্টিফিকেট হস্তান্তর সাধারণত এক থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত বিলম্বিত হয়, কিন্তু এ বিলম্ব বেশি হয় রেজিস্ট্রার্ড শেয়ার হস্তান্তরের বেলায়। যার উপর গ্রাহকের নাম লিখিত থাকে। গ্রাহকের নাম পরিবর্তনের জন্য কোম্পানির দ্বারস্থ হতে হয়, এ কারণেই বিলম্ব বেশি হয়। বিয়ারার শেয়ারের বেলায় বেশি বিলম্ব হয় না। নগদ ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যেও যেহেতু শেয়ার হস্তগত করতে বিলম্ব হয়ে যায়, এ কারণে এখানেও ক্রেতা শেয়ার সার্টিফিকেট নিজের হাতে পাওয়ার পূর্বে অন্য জনের কাছে বিক্রি করে দেয়। কখনো হাতে আসতে আসতে তা কয়েকবার বিক্রি হয়ে যায়।
নগদ ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে শেয়ার বিক্রি হওয়ার পর হস্তগত হওয়ার আগে যদি কোম্পানি মুনাফা বণ্টন করে, তাহলে কোম্পানি বিক্রেতার নামেই মুনাফা বণ্টন করে। কিন্তু রীতি এটাই, যেহেতু বিক্রি হওয়ার পর মুনাফা বণ্টন হয়েছে, তাই বিক্রেতা এ মুনাফা ক্রেতাকে দিয়ে দেয়।
অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে বিক্রি তখনি হয়ে যায়, কিন্তু প্রযুক্ত হয় ভবিষ্যতের সাথে। যেমন শেয়ার বিক্রি এখনি হয়ে গেছে কিন্তু দখল ইত্যাদির অধিকার পাবে অমুক তারিখে। অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে শেয়ার পরিশোধের নির্ধারিত তারিখ আসলে তখন কোনো সময় শেয়ার ক্রেতাকে হস্তান্তর করা হয়। কোনো সময় এমনও করা হয়, বিক্রেতা ও ক্রেতা শেয়ার গ্রহণের পরিবর্তে বিক্রির তারিখের মূল্য এবং পরিশোধের তারিখের মূল্যের পার্থক্য পরস্পর সমান করে নেয়। যেমন ৩০ মার্চ পরিশোধের তারিখ নির্ধারণ করে ১ জানুয়ারি অগ্রিম বিক্রয় এবং প্রতি শেয়ার দশ টাকা মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল, কিন্তু ৩০ মার্চ তারিখ যখন আসল তখন শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে বার টাকা হয়ে গেল। এখন বিক্রেতা ক্রেতাকে শেয়ার না দিয়ে শেয়ার প্রতি দুটাকা করে পরিশোধ করে দিল। অথবা মূল্য যদি আট টাকা হয় তাহলে ক্রেতা বিক্রেতাকে দশ টাকা দিয়ে তার থেকে শেয়ার আদায় করার পরিবর্তে তাকে শেয়ার প্রতি দুটাকা করে দিয়ে দিল এবং শেয়ার আদায় করল না। তারপর অগ্রিম বিক্রির ক্ষেত্রে বিক্রির তারিখের পর থেকে পরিশোধের তারিখ আসা পর্যন্ত কখনো কয়েক দফা ক্রয়-বিক্রয় হয়ে যায়। অর্থাৎ প্রথম ক্রেতা দ্বিতীয় ব্যক্তিকে, দ্বিতীয় ব্যক্তি তৃতীয় ব্যক্তিকে এভাবে বিক্রি করতে থাকে। আবার কখনো শেষে শেয়ার লেনদেনের পরিবর্তে মূল্যের পার্থক্য সমান করে নেয়।
📄 পণ্যদ্রব্যের মধ্যে নগদ ও অগ্রিম বিক্রি
কোনো কোনো দেশে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে যেমন শেয়ার নগদ ও অগ্রিম বিক্রি হয়, তেমনি পণ্যদ্রব্য এবং খাদ্যদ্রব্যও নগদ ও অগ্রিম বিক্রয় হয়। এ বিক্রয় নির্বাচিত কিছু বড় বড় পণ্যের বেলায় হয়ে থাকে। যেমন গম, কার্পাস ইত্যাদি।
দ্রব্যের নগদ বিক্রি হচ্ছে, কোনো বস্তু এখনি বিক্রি হল এবং অধিকারও স্থানান্তরিত হল। আর ক্রেতা এখন থেকেই তা দখলের হকদার হিসেবে স্বীকৃতি পেল। কোনো ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অপারগতার কারণে দখলে বিলম্ব হওয়া ভিন্ন কথা, কিন্তু সে দখলের অধিকারী হয়ে গেছে।
অগ্রিম বিক্রি হচ্ছে, বিক্রি হয়ে গেল ঠিক, কিন্তু দখলের জন্য ভবিষ্যতের কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়। আইনগতভাবে তাকে Forward Sale এবং Future Saleও বলে। কিন্তু আজকাল কার্যত এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য হয়। অগ্রিম বিক্রির মধ্যে উভয় পক্ষের উদ্দেশ্য যদি নির্দিষ্ট তারিখে নেয়া দেয়াই হয় অর্থাৎ ক্রেতার উদ্দেশ্য দ্রব্য উসুল করা এবং বিক্রেতার উদ্দেশ্য মূল্য গ্রহণ করা হয়, তাহলে তাকে Forward Sale বলে। আর যদি উভয় পক্ষের উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট তারিখে নেয়া দেয়া না হয়; বরং দ্রব্যকে শুধু লেনদেনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তাহলে তাকে Future Sale বলে। আরবীতে তাকে ‘ مستقبلیات’ বলে। এর মধ্যে দ্রব্য গ্রহণ করা উদ্দেশ্য নয়; বরং উদ্দেশ্য এ দুটো বিষয়ের যে কোনো একটা।